ভরা দুর্যোগে বুলডোজ়ার গুঁড়িয়ে দিল বস্তি, আশ্রয়হীন হাজারখানেক মানুষ
নিজস্ব সংবাদদাতা
রেলের জমিতে আবারও চলল বুলডোজ়ার। এ বার হাওড়ার টিকিয়াপাড়ায় পূর্ব রেলের জমিতে গজিয়ে ওঠা বেআইনি বস্তি উচ্ছেদ করতে চালানো হল বুলডোজ়ার। মঙ্গলবার দুপুরে রেলের তরফে ওই বস্তির ১২০টি ঝুপড়ি ভেঙে দেওয়া হয়। যার জেরে বৃষ্টির মরসুমে গৃহহারা হয়ে গেলেন হাজারখানেক মানুষ। ঘর ভাঙার পরেই এ দিন বিকেলে আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামে, সঙ্গে শুরু হয় ঝড় এবং ঘন ঘন বজ্রপাত। ওই পরিস্থিতিতে চরম বিপাকে পড়েন ঘর হারানো লোকজন। রেলের দাবি, বস্তির ওই বাসিন্দাদের গত ১৯ জুনের মধ্যে সরে যাওয়ার জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছিল তাদের তরফে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ওই বাসিন্দারা না সরায় এ দিন বুলডোজ়ার নিয়ে এসে তাঁদের ঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকায় রেলপথ সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া লোকজনের জন্য রেলের পক্ষ থেকে পুনর্বাসনের কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি।
হাওড়ার টিকিয়াপাড়া স্টেশনের পাশেই ইস্ট-ওয়েস্ট বাইপাসের ধারে রেলের জায়গায় গত পাঁচ দশক ধরে ধীরে ধীরে ওই বস্তি গড়ে উঠেছিল। এ দিন দুপুরে পূর্ব ঘোষণা মতো রেলের তরফে দু’টি বুলডোজ়ার নিয়ে এসে উচ্ছেদের কাজ শুরু করা হয়। উচ্ছেদ রুখতে প্রথমে বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে রেলরক্ষী বাহিনী, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং হাওড়া সিটি পুলিশের বাহিনী তাঁদের হটিয়ে দেয়। বস্তির বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্থানীয় এক তৃণমূল নেতাকে মাসে আড়াই হাজার টাকা করে ঘরের ভাড়া বাবদ দিতেন তাঁরা। তাঁদের সকলের আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ড রয়েছে। সেই সমস্ত পরিচয়পত্র জমা রেখে ওই তৃণমূল নেতা সরকারি প্রকল্পে তাঁদের স্থায়ী ঘর-বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কোনও রকম পুনর্বাসন না দিয়ে উচ্ছেদ করায় ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা।
সিম্মি বেগম নামে ওই বস্তির এক বাসিন্দা বললেন, ‘‘গত ৫০ বছর ধরে আমরা এখানে আছি। আমাদের কাছ থেকে এলাকার এক তৃণমূল নেতা মাসে ২৫০০ টাকা করে ভাড়া নিতেন। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড জমা নিয়ে বলেছিলেন, বাড়ি করে দেবেন। এখন আমরা সব হারালাম। এই ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নীচে শিশু, বৃদ্ধদের নিয়ে থাকব কী করে?’’ মহম্মদ আসলাম নামে আর এক
বাসিন্দার কথায়, ‘‘রেল পুনর্বাসনের কোনও ব্যবস্থা না করে কী ভাবে আমাদের উচ্ছেদ করছে? তা ছাড়া, হাই কোর্ট তো বলেছিল, এখনই উচ্ছেদ করা যাবে না।’’
এ বিষয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাজি বলেন, ‘‘যে সব জায়গায় রেলের সম্প্রসারণের কাজ হচ্ছে, সে সব জায়গায় আমরা রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় আগে নোটিস পাঠিয়ে উচ্ছেদ অভিযান করছি। এই কাজ আমাদের করতেই হবে।’’
হাওড়ার ইস্ট-ওয়েস্ট বাইপাসের ধারের বস্তিতে চলছে বুলডোজ়ার দিয়ে উচ্ছেদ। মঙ্গলবার। ছবি: দীপঙ্কর মজুমদার