মন্দির বিতর্ক: বল লোক আদালতে
নিজস্ব সংবাদদাতা
নয়াদিল্লি, ১৩ জুলাই: অযোধ্যায় রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ বিবাদের নিষ্পত্তি করতে সুপ্রিম কোর্ট এক সময় মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হয়নি। এ বার সুপ্রিম কোর্ট বারাণসীর জ্ঞানবাপী মসজিদ নিয়ে বিবাদ, মথুরার কৃষ্ণ জন্মভূমি-শাহি ইদগা নিয়ে বিবাদ এবং সম্ভলের জামা মসজিদ নিয়ে বিবাদ আদালতের বাইরে মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিল। তবে বারাণসী-মথুরা-সম্ভলের বাদী ও বিবাদী, দুই পক্ষই প্রায় এই প্রস্তাব পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছে। তাদের মত, আইনি বিচার করেই এই বিবাদের ফয়সালা হোক।
২১ অগস্ট থেকে ২৩ অগস্ট সুপ্রিম কোর্টেই ‘সমাধান সমারোহ’ শুরু হচ্ছে। এই বিশেষ লোক আদালতে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিভিন্ন বিবাদের নিষ্পত্তি খোঁজার চেষ্টা হবে। সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয় থেকে এই তিনটি বিবাদের মামলাকারীদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে বিশেষ লোক আদালতের সিদ্ধান্ত অবশ্য পুরোপুরিই বাদী-বিবাদীদের সম্মতির উপরে নির্ভর করবে। সে দিক থেকে আশার আলো খুব একটা দেখা যায়নি। বরং বারাণসী-মথুরা-সম্ভলের বাদী ও বিবাদী দুই পক্ষই মোটের উপরে এই প্রস্তাবে নারাজ।
জ্ঞানবাপী নিয়ে মামলায় হিন্দু পক্ষের আইনজীবী মদনমোহন যাদব জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট দু’পক্ষকে ১৪ জুলাই মধ্যস্থতা কেন্দ্রে হাজির হতে বলেছে। কিন্তু আইনি ভাবেই এর বিচার হওয়া উচিত। তাঁর দাবি, কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের জ্যোতির্লিঙ্গ আসলে যেখানে ছিল, সেখানে মন্দির তৈরি করতে মসজিদের জমি খালি করতে হবে। উল্টো দিকে, জ্ঞানবাপীর অঞ্জুমান ইন্তেজামিয়া মসজিদ কমিটির সম্পাদক মহম্মদ ইয়াসিনের বক্তব্য, তাঁরা এখনও মধ্যস্থতার প্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নেননি। সম্ভলের জামা মসজিদ-হরিহর মন্দির বিবাদে মসজিদ কমিটির আইনজীবী শাকিল আহমেদ ওয়ারসির মত, যেখানে ধর্মীয় আস্থার প্রশ্ন জড়িত, সেখানে মধ্যস্থতার মাধ্যমে ফয়সালা মুশকিল। মথুরার কৃষ্ণ জন্মভূমি-শাহি ইদগা বিবাদের মামলার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীদের বক্তব্য, মথুরার জেলা আদালতে এক বার মধ্যস্থতার চেষ্টা হলেও সফল হয়নি। কারণ মুসলিম পক্ষ মধ্যস্থতায় রাজি হয়নি। যোগী আদিত্যনাথ ইতিমধ্যেই মথুরায় মন্দির গড়ার কথা ঘোষণা করেছেন। ৯ অগস্ট থেকে সেখানে করসেবাও শুরু হওয়ার কথা।
আইনজীবীদের বক্তব্য, তিনটি মামলাতেই ১৯৯১ সালের ধর্মীয় উপাসনাস্থল আইনের প্রশ্ন জড়িত। যেখানে বলা রয়েছে, কোনও ধর্মীয় উপাসনাস্থলের চরিত্র বদল করা যাবে না। এই আইন থেকে একমাত্র রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ বিবাদকে বাইরে রাখা হয়েছিল। সেখানে সুপ্রিম কোর্ট রামমন্দির তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল। তার আগে ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট মধ্যস্থতার মাধ্যমে অযোধ্যার বিবাদ নিষ্পত্তির পক্ষে মত দিলেও তা সফল হয়নি।