রথ কমিটিকে অনুদান, কপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি
নিজস্ব সংবাদদাতা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার দুর্গাপুজোর কমিটিগুলিকে অনুদান দিত। নতুন সরকার রথযাত্রা উপলক্ষে বাছাই করা ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে সরকারি সহায়তা দেবে। উপরন্তু, শ্রাবণ মাসে যে সব পুণ্যার্থী হেঁটে তারকেশ্বর পৌঁছবেন, হেলিকপ্টার থেকে তাঁদের মাথায় পুষ্পবৃষ্টিও করা হবে।
সোমবার নবান্ন থেকে রথের কমিটিগুলিকে অনুদান দেওয়ার কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘এত দিন রথযাত্রা উৎসবে কয়েক জন ট্রাফিক পুলিশ পাঠিয়ে সরকার তার দায়িত্ব শেষ করত। এ বারের রথযাত্রায় সক্রিয় ভাবে অংশ নেবে সরকার।’’ কী ভাবে? তখনই তিনি জানান, ৭৫টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার মেলায় সেবাকেন্দ্র স্থাপন, সেখানে যে সব পুণ্যার্থী ও দর্শক আসবেন, তাঁদের ন্যূনতম পরিষেবা প্রদান এবং যে সব রথযাত্রা দশকের পর দশক ধরে হয়, তেমন ৬০টি কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শ্রাবণী মেলার প্রসঙ্গে বলেন, শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত ৩০ কিমি পথের ৫ কিমি অন্তর সেবাকেন্দ্র তৈরি করা হবে। তারকেশ্বর ধামের উন্নতির জন্য ১৫ কোটি টাকার কাজ হবে। শুভেন্দু বলেন, ‘‘জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির, ভুটান সীমান্তের জয়ন্তী এবং তারকেশ্বর— এই তিনটি কেন্দ্রকে বেছে শ্রাবণ মাসে পুণ্যার্থীদের যাত্রার সময়ে পুলিশের সহায়তা ক্যাম্প, মেডিক্যাল ক্যাম্প, বিশ্রামের জায়গা তৈরি করা হবে। যে সব পুণ্যার্থী তখন তারকেশ্বর যাবেন, আবহাওয়া ঠিক থাকলে তাঁদের উপরে কপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হবে।’’
সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘কে কোথায় জল ঢালবেন, এগুলি মানুষ নিজেরাই করে এসেছেন এবং করে নিতে পারেন। সরকারি কোষাগারের টাকায় সরকারকে এই কাজ করতে হয় না।’’ বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়েরও মন্তব্য, ‘‘হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করতে যে টাকা খরচ হবে, সেটা সাধারণ মানুষের জন্য কাজের ব্যবস্থা বা জরুরি কোনও উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হোক।’’ এসইউসি-র রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘‘বিগত সরকারের দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে অর্থ-সাহায্যের মতো ৬০টি রথযাত্রা কমিটির প্রত্যেককে ৫ লক্ষ টাকা ও তারকেশ্বর ধামকে ১৫ কোটি টাকা অর্থসাহায্য দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, তার বিরোধিতা করছি।’’