২৭টি ধারায়
প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলেন লাহেক। বেরনোর সময় তিনি বলেন, “মিথ্যা মামলায় বেশি দিন আটকে রাখা যাবে না।”
এ দিন শুনানিকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে ওঠে কোর্ট। সরকারি কৌঁসুলি বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, লাহেকের উস্কানিতেই ভাঙচুর, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, এমনকি গণপিটুনির মতো ঘটনা ঘটে। সুপ্রিম কোর্টের রায় উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, গণপিটুনির ক্ষেত্রে উস্কানিদাতাকে বাকস্বাধীনতার ঊর্ধ্বে উঠে কড়া শাস্তির বিধান দেওয়া হয়েছে। লাহেকের আইনজীবী রানা গঙ্গোপাধ্যায়, সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা দাবি করেন, যেখানে পুলিশ ইতিমধ্যেই তিনটি মামলা করে তদন্ত করছে, সেখানে নতুন মামলা করে গ্রেফতার আইনবিরুদ্ধ। আরও বলা হয়, ৯ জুলাই হাই কোর্টে রক্ষাকবচ চেয়ে মামলা হয়েছিল। সেই চিঠি ১১ জুলাই সংশ্লিষ্ট থানায় আসার পরেই ১২ জুলাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে নতুন এফআইআর দায়ের করে গ্রেফতার করা হয়েছে। সন্ধ্যায় পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
অভিযোগকারী গৌতম চক্রবর্তী বলেন, “লাহেক যে প্ররোচনা দিয়েছেন, তার প্রমাণ আছে। আমরা প্রমাণ সংগ্রহ করছি বুঝেই রক্ষাকবচ চেয়ে ওরা হাই কোর্টে গিয়েছিল। কিন্তু তা খারিজ হয়ে গিয়েছে।”
ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা লাহেক এলাকার বহু ছেলে-মেয়েকে বিনা পয়সায় পড়ান। মানুষের সমস্যায় পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়। পরপর দু’বার বিধানসভা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “পুলিশমন্ত্রীকে খুশি করতে লাহেককে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফাঁসানো হয়েছে। সরকার যতই দমন-পীড়নের পথে যাক না কেন, এর শেষ দেখে ছাড়ব।” সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন বলেছে, ‘‘রাজ্যে একের পর এক ধর্ষণ, নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে, অন্য দিকে অভিযুক্ত তথা সম্পূর্ণ ঘটনার সাক্ষীকে এনকাউন্টার করে হত্যা করা হচ্ছে। প্রতিবাদীদের গণহারে গ্রেফতারি চলছে।’’ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও বলেন, “ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে মানুষ প্রতিবাদ করবে, এটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চিত্র। সেই প্রতিবাদী কণ্ঠকে মিথ্যা মামলা দিয়ে দমন করার চেষ্টা হচ্ছে।’’ আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকীরও বক্তব্য, “লাহেক আলি-সহ সব নিরপরাধ প্রতিবাদীদের মুক্তি চাই।” মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর-এর সহ-সভাপতি রঞ্জিত শূর বলেন, “সাজানো মামলায় একের পর এক প্রতিবাদীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।’’ রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের পাল্টা অভিযোগ, “লাহেক আলি, সুজন চক্রবর্তী, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য— এই তিন জনের বিভিন্ন বক্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে লেখালিখি খতিয়ে দেখা হোক। তাঁরা সাম্প্রদায়িক হানাহানির আবহ তৈরি করেছিলেন। একটি ছেলেকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে লাহেকদের উস্কানিতে। বাকিটা আদালত বলবে।”
এ দিন অবশ্য ধর্ষণ-খুন বা গণপিটুনির ঘটনায় নতুন গ্রেফতারের খবর সামনে আসেনি। তদন্তকারী অফিসার পরিবর্তন হলেও, তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আনেনি পুলিশও।