তৃণমূলত্যাগী তিন জনের
মনোনয়নে শুভেন্দু-শমীক
নিজস্ব সংবাদদাতা
তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার পরে বিজেপিতে যোগ, তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন দলের তরফে রাজ্যসভার উপনির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক। বিধানসভায় গিয়ে সোমবার মনোনয়ন জমা দেন তাঁরা। সেই সময়ে বিধানসভায় উপস্থিত থাকলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েই এই তিন জনের রাজ্যসভায় টিকিট পাওয়া নিয়ে শাসক দলের অন্দরে প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের মতে, দলের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করার বার্তা দিতেই মনোনয়ন-পর্বে হাজির ছিলেন শুভেন্দু-শমীকের মতো বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। বর্ষীয়ান নেতা সুখেন্দুশেখরের মনোনয়ন-পত্রে প্রস্তাবক হিসেবে সইও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যা বিজেপির তরফে বার্তা আরও জোরালো করেছে। যদিও নেপালি কবি ভানুভক্ত আচার্যের জন্মদিবস উপলক্ষে বিধানসভায় এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল। তিন আসনের উপনির্বাচনে যে হেতু প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রশ্ন নেই, স্ক্রুটিনি-পর্ব (কাল, বুধবার) মিটে গেলেই তিন প্রার্থীর শংসাপত্র পেয়ে যাওয়ার কথা।
বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার দিন থেকেই শমীক বার বার বলে আসছেন, ‘বিজেপির তৃণমূলীকরণ’ হতে দেবেন না। কিন্তু বাস্তবে ওই তিন তৃণমূলত্যাগীকে রাজ্যসভায় টিকিট দেওয়ার ফলে বিজেপির অন্দরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেই দলীয় সূত্রের খবর। সমাজমাধ্যমেও সরব হয়েছেন দলেরই অনেকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নেতা-মন্ত্রীদের প্রকাশ্যে সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যাও দিতে হচ্ছে। কিন্তু সেই ব্যাখ্যাতেও নানা মতপার্থক্য সামনে এসেছে।
শমীক এ দিন বিধানসভায় ফের বলেছেন, “বিজেপির তৃণমূলীকরণ হবে না। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বলেছিলাম, যাঁরা দুর্নীতি, তোলাবাজিতে যুক্ত ছিলেন না, যাঁরা অপ্রাসঙ্গিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রাসঙ্গিক রাখতে ঘাম-রক্ত দিয়ে জোড়াফুল প্রতীক এঁকেছিলেন, তাঁরা পতাকা সরিয়ে বিজেপির সঙ্গে আসুন।” তাঁর সংযোজন, “তৃণমূলের জন্য বিজেপির দরজা আগেও বন্ধ ছিল, এখনও বন্ধ, ভবিষ্যতেও বন্ধ। তবে ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। দলের চেয়ে দেশ বড়।” যদিও রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের মতে, “বিজেপির সংবিধানে বলা নেই যে, অন্য দল থেকে লোক নেওয়া যাবে না। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী, বিধানসভার নেতাও অন্য দল থেকে এসেছেন। যোগ্যতা, স্বচ্ছতা বিচার করে দল নেবে। বিজেপি আজ দেশে বেড়েছে অন্য দল থেকে বিভিন্ন জনকে নিয়ে। রাজ্যসভায় আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার, যাতে প্রধানমন্ত্রী হাত খুলে কাজ করতে পারেন।” রাজ্যসভায় ফের মনোনয়ন জমা দিয়ে সুস্মিতা বলেন, “আমাদের মনোনয়নে মুখ্যমন্ত্রী-সহ বিজেপির অনেক মন্ত্রীরা ছিলেন। তাঁরা আমাদের প্রস্তাবনায় সই করেছেন। সবাই সবার সঙ্গে কথা বলতে পারছেন। এই পরিবেশ দেখে আমি খুব সন্তুষ্ট। এটা আমার একটা পরিবার।”