একুশের সভামঞ্চই
‘আসল’, দেখাতে
কৌশলী বিদ্রোহীরা
নিজস্ব সংবাদদাতা
তৃণমূল কংগ্রেসের স্বত্ব নিয়ে আইনি লড়াইয়ের মাঝেই একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ সেই টানাপড়েনে বার্তাবাহী হতে চলেছে। মেয়ো রোডে গান্ধীমূর্তির পাশে সোমবার বিদ্রোহীদের সভাস্থল পরিদর্শনে সেই বার্তাই স্পষ্ট হল। কারণ, তিন দশক ওই কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মঞ্চ-সঙ্গী দলীয় নেতাদের সিংহ ভাগই এ বার থাকতে পারেন বিদ্রোহীদের এই মঞ্চে।
দল আর তহবিলের স্বত্ব নিয়ে টানাটানি আদালতে গড়িয়েছে। তবে তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি পর্বে ‘আসল-নকলে’র সেই লড়াই যেন ক্রমশ নির্ণায়ক হয়ে উঠছে। কাঙ্ক্ষিত জায়গায় একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচির জন্য পুলিশি অনুমতি পাওয়ার পরে অনেকটা এগিয়েছেন বিদ্রোহীরা। সভাস্থল পরিদর্শনে বিদ্রোহী নেতাদের মধ্যে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ফিরহাদ হাকিমেরা। বিদ্রোহী শিবিরের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত ডজন খানেক বিধায়ক ও নেতা এ দিন বিকেলে মেয়ো রোডে গিয়ে সভাস্থল দেখে এসেছেন। সেই সঙ্গে বিদ্রোহী নেতারা বলছেন, তাঁরা চান, মমতাও থাকুন তাঁদের মঞ্চে।
কর্মসূচি একই তবে মমতাকে ‘বাইরে রেখে’ একুশে জুলাই পালন নিয়ে কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন বিদ্রোহী নেতারা। মমতা-সঙ্গীদের সামনে রেখে এই মঞ্চেই আসল-নকল ‘চিহ্নিত’ করে দিতে চাইছেন তাঁরা। জেলায় জেলায় দলের সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির প্রাথমিক কাজ শুরু করে দিয়েছেন তাঁরা। নতুন সভাপতিরাই জেলা থেকে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে আসার আয়োজন করছেন। এই পরিস্থিতিকে ব্যতিক্রমী মেনে নিয়েই বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়া প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমার বক্তব্য, ‘‘সময়ের সঙ্গেই চলতে হবে।’’
এমতাবস্থায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের দাবি, ‘‘একুশে জুলাইয়ে কংগ্রেসের ‘শহিদ মিনার চলো’কে বানচাল করতে মেয়ো রোডে ‘বিজেপি-চালিত তৃণমূল’কে সভা করার অনুমতি দিয়েছে বিজেপি সরকার। প্রকারান্তরে ‘ছায়া বিজেপি’ও একুশে জুলাই পালন করছে!’’
অন্য দিকে, ধর্মতলাতেই একুশে জুলাই ‘শহিদ দিবস’ উপলক্ষে সভা করার অনুমতি চেয়ে এবং ওই চত্বরে কলকাতা পুলিশের জারি করা নিষেধাজ্ঞা খারিজের আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন শুক্রবার মামলা করেন। তার দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলাটি বুধবার শুনানির জন্য থাকবে বলে জানিয়েছেন বিচারপতি ভট্টাচার্য। ওই আবেদনের মীমাংসা না-হওয়ায় এখন সভাস্থল সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে মমতাপন্থী কয়েক জন ইতিমধ্যেই জেলার পুরনো নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ চালাচ্ছেন। জেলায় সভা করেছেন ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে কালীঘাটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা তরুণ প্রজন্মের ছাত্র-যুব নেতারাও।