রামমন্দিরের সিইও
চেয়ে আহ্বান ট্রাস্টের
নিজস্ব সংবাদদাতা
নয়াদিল্লি, ১৩ জুলাই: রামমন্দিরের জন্য এ বার চিফ এগ্জ়িকিউটিভ অফিসার (সিইও) পদে আবেদনপত্র আহ্বান করল শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। অনুদানের অর্থ চুরি যাওয়ার পরেই মন্দিরের অছি পরিষদে সাংগঠনিক পরিবর্তনের অঙ্গ হিসেবে সিইও নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। আজ রামমন্দিরে চুরির মামলায় বিশেষ তদন্তকারী দলের (এসআইটি) কাছে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট তলব করেছে সুপ্রিম কোর্টও।
রামমন্দিরে অনুদানের অর্থ চুরি মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন আট ব্যক্তি। মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা চম্পত রাই। এই পরিস্থিতিতে মন্দিরের উন্নয়ন, পরিচালন ব্যবস্থা, ভক্ত সেবাকে আরও পেশাদার করে তোলার লক্ষ্যে সিইও নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। আজ সমাজমাধ্যমে রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট সিইও পদের জন্য যে আবেদন আহ্বান করেছে, তাতে বলা হয়েছে আবেদনকারীর বয়স ৫০-৭০ বছরের মধ্যে হতে হবে। আবেদনকারীকে ন্যূনতম স্নাতক হতে হবে। কোনও সরকারি বা বড় বেসরকারি সংস্থায় ম্যানেজারের পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ধর্মের দিক থেকে তাঁকে অবশ্যই হিন্দু ও রামভক্ত হতে হবে। মন্দির কমিটি জানিয়েছে, আবেদনকারী বৈষ্ণব পরম্পরার হলে ভাল হয়। আগামী ১৮ জুলাই ওই পদে আবেদনের শেষ তারিখ বলে জানানো হয়েছে।
ইতিমধ্যেই নতুন সিইও নিয়োগে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। তিন সদস্যের মধ্যে প্রাক্তন আমলা সুরেশ হাওয়ারে জানিয়েছেন, নতুন সিইও-র শুধু প্রশাসনিক দক্ষতা থাকলেই হবে না, ভগবান রামের প্রতি গভীর ভক্তিও থাকতে হবে। দান চুরির ঘটনা যে ভক্তদের বিশ্বাসে ধাক্কা দিয়েছে, তা মেনে নিয়েছেন সুরেশ। তাঁর কথায়, “আমরা প্রশাসক হিসেবে এমন এক জনকে চাইছি, যিনি ভক্তদের টলে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবেন।” সূত্রের মতে, সেই কারণে নতুন সিইও খোঁজার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আবেদনকারীর সততা ও সুনামের উপরে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রাপ্ত আবেদনকারীদের মধ্যে নির্বাচন কমিটি তিনটি নাম অছি পরিষদের কাছে সুপারিশ করবে। তার মধ্যে এক জনকে নতুন সিইও হিসেবে বেছে নেওয়া হবে।
রামমন্দিরে ভক্তদের অনুদানের অর্থ তছরুপের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ তদন্তের অগ্রগতি জানতে চেয়ে একটি রিপোর্ট তলব করেছে। এ নিয়ে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট এবং উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনকে নোটিস দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এসআইটি গঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত নথিপত্রও আদালতে পেশ করতে বলা হয়েছে। ওই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সোমবার। বিরোধীদের পরে এ বার রামমন্দির কাণ্ডে বিজেপির বিরোধিতায় মুখ খুলেছেন জোশীমঠের শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ। তাঁর বক্তব্য, “অযোধ্যায় যা হয়েছে, তা রামমন্দির নয়, বিজেপি-আরএসএসের কার্যালয়।” তাঁর কথায়, যখন সত্যিকারের রামমন্দির প্রতিষ্ঠা হবে, তখন তিনি তা দর্শন করতে যাবেন।