ঋতব্রতদের ছাড় কেন, কমিশনকে প্রশ্ন মমতার
নিজস্ব সংবাদদাতা
নয়াদিল্লি, ১৩ জুলাই: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী তৃণমূলের ‘বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব’ এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আজ দিল্লিতে সুর চড়াল তৃণমূল। গত রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের সচিবকে একটি চিঠিতে আবেদন জানিয়েছেন, দলীয় গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক নির্বাচনের বিস্তারিত তথ্য তৃণমূল জমা দেওয়ার পর এ বার তদন্ত শেষ করুক কমিশন। কমিশনেরই বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর কেন অপর পক্ষকে বাড়তি ছাড় দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। লোকসভা এবং রাজ্যসভার তৃণমূলের সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং সাগরিকা ঘোষ আজ দিল্লিতেও এই নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন।
গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক নির্বাচনের তথ্য জমা দেওয়ার জন্য আরও ১৫ দিনের সময় চেয়ে কমিশনের কাছে আবেদন করেছে ঋতব্রত-পন্থী তৃণমূল। প্রসঙ্গত, ঋতব্রত-পন্থী তৃণমূল এবং মমতা-পন্থী তৃণমূলকে ওই তথ্য দেওয়ার জন্য প্রথমে ৬ জুলাই পর্যন্ত সময় দিয়েছিল কমিশন। তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, “প্রথমে তিন দিন, তার পরে ওদের দাবিতে পাঁচ দিন। এখন আরও পনেরো দিন! শুধু একের পর এক তারিখ পিছিয়ে সময় নষ্ট করছে বিশ্বাসঘাতক গোষ্ঠী। এতেই প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে কে প্রকৃত তৃণমূল।” মহুয়ার অভিযোগ, “আমরা সময় মেনে জবাব দিলেও অপর পক্ষ ই-মেল করেনি বা সশরীর হাজিরা দেয়নি। উল্টে তারা ১০ জুলাই পর্যন্ত যে বাড়তি সময় চেয়েছিল, কমিশন তা মঞ্জুর করে। কিন্তু আজ ১৩ জুলাই হয়ে গেলেও তাদের জবাব জমা পড়েনি।” কেন সময় দেওয়া হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মহুয়া। তাঁর কথায়, “আমাদের কাছে প্রকৃত তথ্য রয়েছে, তাই সময়ের মধ্যে জানাতে পেরেছি। ওদের কাছে প্রমাণ নেই, তাই কমিশনের কাছ থেকে আমাদের নথি নিয়ে টুকে পাশ করার চেষ্টা করছে।”
পাশাপাশি ইডি-র ভূমিকা নিয়ে সরব হয়ে সাগরিকা বলেন, “২০১৪ সালের পর থেকে ইডির ৯৫ শতাংশ মামলাই করা হয়েছে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে। বিজেপি আসলে দেশকে একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।” অরুণাচল বা মধ্যপ্রদেশের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে কেন কেন্দ্রীয় সংস্থা নীরব, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “অযোধ্যায় রামমন্দিরের অনুদানের অর্থ চুরি নিয়ে যা ঘটেছে, অন্য কোনও রাজ্যে তা হলে ইডি দৌড়ে যেত। এখানে আরএসএস জড়িত, তাই আড়াল করা হচ্ছে।”