রুটিন পরিবর্তনের ফলে দু’বার বদলাতে হল উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষার অ্য়াডমিট কার্ড! আগামী কাল, সোমবার, শুরু হচ্ছে ওই পরীক্ষা। তার আগে একেবারে শেষ মুহূর্তে অ্যাডমিট কার্ড পেল বেশির ভাগ পরীক্ষার্থী। যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা। অভিযোগ, কিছু স্কুল এখনও পরীক্ষার্থীদের অ্যাডমিট কার্ড দিতে পারেনি। তবে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি মসিউর রহমান সর্দার এই প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘‘যারা এখনও নতুন অ্যাডমিট কার্ডের প্রিন্ট-আউট হাতে পায়নি, তারা আগের অ্যাডমিট কার্ডের প্রিন্ট-আউট দেখিয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে। পরে নতুন অ্যাডমিট কার্ড সংগ্রহ করে নেওয়া যাবে।’’ এই ঘটনায় শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, বার বার রুটিন বদল করাতেই এই বিপত্তি। তাঁদের প্রশ্ন, কেন আগে থেকে পরিকল্পনা করে রুটিন তৈরি হল না?
পরীক্ষার রুটিন প্রথম বার প্রকাশিত হওয়ার পরে তা বদলায় রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের কারণে। আগামী ৬ অক্টোবর ওই দুই কেন্দ্রে ভোট। তাই ৫, ৬ এবং ৭ অক্টোবরের পরীক্ষা পিছিয়ে নতুন রুটিন প্রকাশ করে সংসদ। এর কিছু দিন পরে ফের সংসদ জানায়, ২২ সেপ্টেম্বর করম পুজোর জন্য ছুটি থাকার কারণে সে দিনের নির্ধারিত পরীক্ষা হবে ১৩ অক্টোবর।
শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, অ্য়াডমিট কার্ডে যে হেতু পরীক্ষার দিন লেখা থাকে, তাই সূচি বদলানোয় প্রতি বার নতুন করে অ্য়াডমিট কার্ড ছাপাতে হচ্ছে। ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক সৌগত বসু জানান, প্রথমে সার্ভার-বিভ্রাটে অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করা যাচ্ছিল না। পরে যদিও বা সেই সমস্যা মিটল, বার বার রুটিন পাল্টানোয় অ্যাডমিট কার্ড নতুন করে ছাপাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘সোমবার পরীক্ষা শুরু। এ দিকে, এখনও কয়েকটি স্কুলের পরীক্ষার্থীদের সকলে অ্য়াডমিট কার্ড পায়নি। তৃতীয় সিমেস্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অ্যাডমিট কার্ড পাওয়া নিয়ে এই টানাপড়েন কাম্য নয়। এই সব ঝঞ্ঝাটে পরীক্ষার্থীদের সময় নষ্ট হল।’’ ‘শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ’-এর সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, ‘‘যারা শনিবার অ্য়াডমিট কার্ড নিতে আসবে না, তাদের পরীক্ষার দিন পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষকদের কাছ থেকে অ্যাডমিট কার্ড নিতে হবে।’’
অ্যাডমিট কার্ড কেন আগের মতো উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ দেবে না? কেন তা ডাউনলোড করে প্রিন্ট-আউট নেওয়ার কাজ স্কুলকে করতে হবে? ঝাড়গ্রামের শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ বিদ্যামন্দিরের প্রধান শিক্ষক তপনকুমার দে বললেন, ‘‘আগে সংসদই অ্যাডমিট কার্ড দিত। এখন সংসদের ওয়েবসাইট থেকে সেটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট-আউট দেয় স্কুল। বার বার প্রিন্ট নেওয়ায় স্কুলের খরচ তো বাড়ছেই। তা ছাড়া, সাধারণ কাগজে প্রিন্ট-আউট দেওয়ায় অ্যাডমিট কার্ড নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।’’
‘মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি’র নেতা অনিমেষ হালদার বলেন, ‘‘উপনির্বাচনের জন্য পরীক্ষার রুটিন বদল না করে পরীক্ষার সূচি দেখে কি উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ফেলা যেত না? তা হলে তো বার বার রুটিন পরিবর্তন করতে হত না। মহালয়ার পরে সাধারণত পরীক্ষা হয় না। সব কিছুর কোপ কেন পরীক্ষার উপরে পড়বে?’’