দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মা-বোনেদের উপরে অত্যাচার হলে ছাড়বেন না বলে বৃহস্পতিবার অন্নপূর্ণা দিবসের অনুষ্ঠানে সকলকে আশ্বস্ত করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সে দিনই বিকেলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার একটি পঞ্চায়েতের সঞ্চালক তথা সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত সমিতির এক তৃণমূল সদস্যার শাড়ি খুলে, ব্লাউজ ছিঁড়ে নিগ্রহের অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের বেশির ভাগই মহিলা। শনিবার রাত পর্যন্ত পুলিশ কাউকে ধরতে পারেনি। তবে বিজেপির দাবি, ঘটনায় তাদের কেউ জড়িত নয়।
নিগৃহীতা শুক্রবার থানায় এবং বিডিও-র কাছে যে ২৪ জনের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, তাদের মধ্যে ১৩ জনই মহিলা। জেলা পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন যে, ওই মহিলাকে মারধর, গুরুতর আঘাত করা, পথ আটকানো, যৌন নির্যাতন এবং খুনের হুমকির ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিগৃহীতার ক্ষোভ, অভিযুক্তেরা বিজেপির কর্মী-সমর্থক হওয়ায় পুলিশ তাদের ধরেনি। কয়েক জন বিজেপির পদেও রয়েছেন বলে তাঁর দাবি। ওই তৃণমূল নেত্রী বলছেন, “প্রকাশ্য দিবালোকে সম্মান নষ্ট করা হল। আতঙ্কে আছি। এটা সুশাসন!”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতটির সাধারণ সভা থাকায় ওই মহিলা গিয়েছিলেন। বিকেলে সভা শেষে তাঁরা যখন দোতলা থেকে নামছিলেন তখন নীচে বেশ কিছু মহিলা-পুরুষ ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে নানা প্রশ্ন তুলে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যদের সঙ্গে বচসা, ধাক্কাধাক্কিতে জড়ান। দলের এক সদস্যকে মারধর থেকে বাঁচাতে গিয়ে ওই মহিলা আক্রান্ত হন। অভিযোগ, তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বার করে শাড়ি খুলে ফেলা হয়, ব্লাউজ ছিঁড়ে দেওয়া হয়। পঞ্চায়েত চত্বরে ঘোরানোও হয়। স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা হয়েছে তাঁর।
ওই মহিলা বলেন, “কিছু দিন আগে আমাকে বিজেপিতে যোগ দিতে বলা হয়েছিল। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলই করব বলেছিলাম। হয়তো সে আক্রোশেই হামলা হল।” স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “এক জন মহিলা জনপ্রতিনিধির সঙ্গে প্রকাশ্যে যে আচরণ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুতর। মঙ্গলবার ব্লক অফিসে বিক্ষোভ-অবস্থান করব।”
এই ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা স্তরের বিজেপি নেত্রী অনিতা প্রধান বলেন, “এক জন মহিলা হিসেবে তীব্র প্রতিবাদ জানাই। বিজেপি যুক্ত কি না, প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিক। তবে আমাদের দলে এই সংস্কৃতি নেই।”
বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য প্রদ্যোৎ বৈদ্যের দাবি, “ঘটনায় বিজেপির কেউ জড়িত নয়। ওই ভদ্রমহিলার বিরুদ্ধে ভূরি-ভূরি অভিযোগ রয়েছে। এমন কিছু ঘটে থাকলে, জনতার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।” নিগৃহীতা পাল্টা বলেন, “দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারলে মুখ্যমন্ত্রীর জুতো মাথায় ঘুরে বেড়াব।” মনো-সমাজকর্মী মোহিত রণদীপের বিশ্লেষণ, “কারও পোশাক কেড়ে নগ্ন করার মধ্যে পুরুষতান্ত্রিক মন প্রকাশ পায়। নির্যাতনে শরিক নারীদের মধ্যে সে মনই ফুটে উঠেছে।”