ক্ষমতা হারানোর পরে প্রথম উপনির্বাচনেই দলের সম্মান সামাল দিতে নাজেহাল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সূত্রে খবর, উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নিয়ে দলেই চূড়ান্ত মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি আপাতত আড়াল করা হলেও পরে এই নিয়ে জলঘোলার সম্ভাবনা রয়েছে।
দলত্যাগ ও তহবিল-প্রতীক নিয়ে টানাটানির মধ্যে মমতা-তৃণমূলে (এমএআইটিসি) নতুন সমস্যা তৈরি করেছে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন। বিষয়টি নিয়ে দলের নেতাদের কাছে মতামত চেয়েছিলেন মমতাই। এই মুহূর্তে তাঁর বৃত্তে থাকা নেতাদের মধ্যে ডেরেক ও’ব্রায়েন, কুণাল ঘোষ এবং দোলা সেনের সঙ্গে আলাদা কথা বলেছিলেন তিনি। দলীয় সূত্রে খবর, তিন নেতাই এখনকার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সঙ্কটের মধ্যে উপনির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা এড়িয়ে থাকার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, দু’টি আসনেই দল জেতার মতো অবস্থায় নেই। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামলে নেতা-কর্মীদের নতুন করে শাসক শিবিরের ‘আগ্রাসন’ মোকাবিলা করতে হবে। তা এখন অপ্রয়োজনীয়। সে ক্ষেত্রে বিজেপি-বিরোধী হিসেবে কংগ্রেসকে সমর্থনের কথাও বলেছিলেন তাঁরা।
প্রতীক ‘ফ্রিজ়’ হওয়ার পরে দলের এই অংশ নিজেদের অবস্থান জোরালো করে মমতাকে জানায়, কমিশন যে বিজেপির ইঙ্গিতে ‘জোড়া ফুল’ কেড়ে নিতে চেয়েছে, তা পরিষ্কার। দল যে হেতু কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাচ্ছে, তাই নতুন কোনও প্রতীক প্রচার করাও কৌশল হিসেবে ভুল হবে। তাঁদের মতে, নতুন কোনও প্রতীক নিয়ে এগোতে দলের কর্মীরা যেমন উৎসাহ হারাবেন তেমনই বিভ্রান্ত হবেন সাধারণ মানুষও। সে ক্ষেত্রে ‘স্বাভাবিক মিত্র’ হিসেবে কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ভাবে ঠিক। প্রাথমিক ভাবে তাতে রাজি হন মমতাও।
দলের একটি সূত্র অনুযায়ী, বেঁকে বসেন আইনজীবী নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, মমতাকে তিনি জানান, লড়াই থেকে সরে যাওয়া ঠিক হবে না। তাতে দলের ক্ষতি হবে। প্রতীক নিয়ে দলের ‘বিদ্রোহী’দের সঙ্গে যে লড়াই চলছে, তার মধ্যে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মূলত তাঁর যুক্তির সামনেই কিছুটা পিছিয়ে মমতা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সম্মতি দেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই মুহূর্তে আমেরিকায় রয়েছেন। এই ব্যাপারে তাঁর অবস্থান নিয়েও কৌতূহল আছে দলের অন্দরে। সব মিলিয়ে দুই শিবিরের মতপার্থক্য শনিবার প্রকাশ্যেও চলে এসেছে। উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্তকে ভুল বলে উল্লেখ করে সকালে সমাজমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ সামনে এনেছেন কুণাল। পরে অবশ্য তিনি তা সরিয়েও নিয়েছেন।
এ বিষয়ে গণতান্ত্রিক তৃণমূলের (ডিটিসি) নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তির্যক মন্তব্য, “প্রার্থী তুলে নেব, না কি তুলব না, এই চলছে। পুরোটাই খেলা বলে ধরে নেওয়া, স্লোগানও ‘খেলা হবে’! স্বৈরতন্ত্র সব সময়ই বিষয়গুলিকে হালকা করতে চায়। সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন মমতা, যাওয়ার অধিকার আছে। আদালতে যা বলার, আইনজীবীরা বলবেন। যদি কমিশনের সিদ্ধান্ত মেনে না নেন, তা হলে ভোটে লড়া উচিতই ছিল না। সবটাই পরস্পরবিরোধী।” আর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের কটাক্ষ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের মেয়াদ পেরিয়ে গিয়েছে।”