ভুতনি: কখনও কনভয়ে, কখনও লঞ্চে মালদহের মানিকচকের ভূতনি, রতুয়ার বন্যা-পরিস্থিতি দেখলেন রাজ্যের পাঁচ মন্ত্রী, এক সাংসদ। কিন্তু অভিযোগ, শনিবার কয়েকটি ত্রাণশিবির পরিদর্শন করলেও ভূতনির জলবন্দি এলাকায় তাঁরা যাননি।
এ দিন সকালে লঞ্চে রতুয়ার পশ্চিম রতনপুর, সূর্যাপুর, ভূতনির কালুটোনটোলা, বসন্তটোলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, জনস্বাস্থ্য কারিগরি ও পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার, কারিগরি শিক্ষা ও দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। ছিলেন সেচ প্রতিমন্ত্রী জোয়েল মুর্মু, সাংসদ খগেন মুর্মুও। রতুয়া-মানিকচকের কয়েকটি শিবিরে গিয়ে ত্রাণও দেন তাঁরা। পরে, ভূতনি সেতুর শেষ প্রান্ত ঘুরে মানিকচক ব্লক অফিসে প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে চলে যান মন্ত্রীরা।
দুপুর ২টো নাগাদ ভূতনি সেতুতে কনভয় নিয়ে পৌঁছন পাঁচ মন্ত্রী। সেখান থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে শঙ্করটোলা গ্রাম। গোটা গ্রাম জলবন্দি। পাকা বাড়িগুলির ছাদে থাকছেন বাসিন্দারা। অভিযোগ, তাঁরা ত্রাণ ঠিকমতো পাচ্ছেন না। তাঁদের অন্যতম, শঙ্করটোলার দীনবন্ধু মণ্ডলের দাবি, “সামান্য দূরে ভূতনি সেতুতে প্রশাসনের শিবির। অথচ আমাদের দুয়ারে সরকারি সাহায্য পৌঁছচ্ছে না।” মালদহের জেলাশাসক রাজনবীর সিংহ কপূর অবশ্য বলেন, “বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।” মানিকচকের মথুরাপুর বিএসএস হাই স্কুল ও মানিকচক মডেল হাই স্কুলের ত্রাণশিবিরের একটিতে এ দিন দুর্গতদের পাতে পড়ে ভাত, ডাল, পাঁপড়, পাঁচমেশালি তরকারি, ডিমের ঝোল। অন্য শিবিরে মুরগির মাংস। ওই দুই শিবিরেই গিয়েছিলেন মন্ত্রীরা। মানিকচকের ত্রাণশিবিরে ফায়েরা বিবি বলেন, “১৩ দিনের মধ্যে চার দিন ডিম পেয়েছি। এক দিন মাংস। অন্য দিন জলের মতো ডাল, পাঁচমেশালি তরকারি। এ দিন মাংস পেলাম।” পর্যটনমন্ত্রী বলেন, “১০০ শতাংশ মানুষের কাছে পৌঁছনো সম্ভব নয়। তা-ও চেষ্টা করছি।”
দক্ষিণ মালদহের সাংসদ, কংগ্রেসের ইশা খান চৌধুরী বলেন, “মন্ত্রীরা এলেও সমস্যা মিটল না। কারণ, জলবন্দি এলাকায় তাঁরা গেলেনই না।” মানিকচক মডেল স্কুলে গিয়ে মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করেন গণতান্ত্রিক তৃণমূলের (ডিটিসি) বিধায়ক, রতুয়ার সমর মুখোপাধ্যায়। বলেন, “মন্ত্রীরা সর্বত্র গেলে মানুষের দুর্দশা আরও বেশি দেখতে পেতেন।’’