শাহের দ্বারস্থ হতে চান নির্যাতিতার বাবা
শান্তনু ঘোষ
দুর্নীতি মামলায় শর্তসাপেক্ষে জামিন মিলেছে আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের। চিকিৎসক-পড়ুয়ার খুন ও ধর্ষণের ঘটনার নেপথ্যে যে দুর্নীতি চক্র রয়েছে, তাতে অভিযুক্ত কী ভাবে জামিন পেতে পারেন? রাজ্য সফরে আসা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে সেই প্রশ্ন তুলে ধরার চেষ্টা করবেন নির্যাতিতার পরিবার। তরুণী চিকিৎসকের মা এখন বিজেপির বিধায়ক। শনিবার নির্যাতিতার বাবা বলেন, ‘‘চেষ্টা তো করছি। সুযোগ পেলে নিশ্চয় জানাব।’’ অন্যদিকে, জামিনের প্রতিবাদে এবং ন্যায় বিচারের দাবিতে ফের আন্দোলন শুরুর ডাকও দিতে শুরু করেছে বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠন।
যদিও বর্তমানে শহরের রাজপথ আবারও ন্যায় বিচারের দাবিতে কতটা আন্দোলিত হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, সময় যত গড়িয়েছে আন্দোলনের জোটবদ্ধ মনোভাব ততই ফিকে হয়েছে। আবার খোদ তরুণী চিকিৎসকের বাবার দাবি, ‘‘আন্দোলন যে যাঁর স্বার্থে করেছেন, সেটা পরে বোঝাই গিয়েছে। কিন্তু সেটাও বড় কথা নয়। সাধারণ মানুষ আজও ন্যায় বিচায় চায়। কিন্তু সিবিআই
সেটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাই করছে না।’’
যদিও জুনিয়র চিকিৎসকেরা কোনও স্বার্থ নিয়ে আন্দোলন করেনি বলেই দাবি আর জি করের আন্দোলনের মুখ বলে পরিচিত দেবাশিস হালদারের। তাঁর কথায়, ‘‘আমরাও নতুন সরকারের উপরে ভরসা রাখতে চাই। কিন্তু ডবল ইঞ্জিন সরকারে সিবিআই, পুলিশ কোনও দিক থেকেই তো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আর যেখানে নির্যাতিতার মা নিজে সেই দলেরই বিধায়ক। সেখানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে কেন?’’ একই ভাবে সার্ভিস ডক্টরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক চিকিৎসক সজল বিশ্বাসের প্রশ্ন, ‘‘নির্বাচনের আগে ন্যায় বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। কেন্দ্র ও রাজ্য দুই জায়গাতেই এখন তাদের সরকার। এর মধ্যেই বিচার বিভাগের এই সিদ্ধান্ত মানুষকে
হতাশ করেছে।’’
তবে, সরকার নয়, তদন্তকারী সংস্থাকেই কাঠগড়ায় তুলছে নির্যাতিতার পরিবার। তরুণী চিকিৎসকের বাবার দাবি, সন্দীপের জামিন খারিজের জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে সিবিআই যাতে আবেদন করে সেই বিষয়েও তাঁরা চাপ তৈরি করবেন। সন্দীপের জামিন মেলার পর থেকে কার্যত মুখে কুলুপ এঁটেছেন তরুণী চিকিৎসকের মা। গলায় আক্ষেপের সুর। শুধু বললেন ‘‘কী আর বলব?’’
আর জি করের ঘটনার নেপথ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কারণে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার ওই তরুণী চিকিৎসক হয়েছিলেন বলে বারবার করে অভিযোগ করেছেন চিকিৎসক থেকে নির্যাতিতার বাবা-মাও। কিন্তু মূল ঘটনার সঙ্গে দুর্নীতি মামলার কোনও যোগ না থাকার কথা সিবিআই আগেই জানিয়ে দিয়েছে বলেও এ দিন অভিযোগ করেন নির্যাতিতার বাবা। সপ্তমীর সকালে তাঁর আক্ষেপ ‘‘সকলেই বুঝতে পারছে মূল ঘটনার সঙ্গে দুর্নীতির যোগ রয়েছে। কিন্তু সিবিআই না বুঝলে কী আর করব?’’ তাঁর আরও আক্ষেপ, ‘‘যে সংস্থার প্রধান বলছেন কিছু করব না। সেখানে নীচের স্তর যে গয়ংগচ্ছ্ব মনভাব দেখাবে সেটাই স্বাভাবিক। তাও সিবিআইয়ের উপর আমাদের চাপ রাখতেই হবে।’’
দু’বছর আগে শারদ মরসুমে ন্যায় বিচারের দাবিতে ধর্মতলায় অনশনে থাকা চিকিৎসক অনিকেত মাহাতোর দাবি, আন্দোলন কিছুটা প্রশমিত করতে সন্দীপকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। নতুন সরকার এসে আর জি করের তদন্তের ফাইল খুলে তিন পুলিশ কর্তাকে নিলম্বিত করেছে। কিন্তু তাঁদের নেপথ্যে কে, কার কথায় তাঁরা কাজ করেছেন কোনও কিছুই প্রকাশ্যে এল না। অনিকেতের কথায়, ‘‘এর পরে হয়তো ওই কর্তারাও স্বপদে ফিরে আসবেন। আগের সরকারও ন্যায়বিচারকে প্রহসনে পরিণত করেছিল। নতুন সরকারও কি সেই পথে হাঁটছে?’’ তরুণী চিকিৎসকের বিধায়ক মা মুখে কুলুপ আঁটলেও, বাবার অবশ্য দাবি, ‘‘ন্যায় বিচারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী চেষ্টা করে যাচ্ছেন।’’