কমেছে চাহিদা, উৎসবের মরসুমে সঙ্কটে রিকশা চালকেরা
শুভঙ্কর পাল শিলিগুড়ি
সময়ের সঙ্গে বদলেছে শিলিগুড়ি শহরের চেহারা। বদলেছে মানুষের জীবনযাত্রা, যাতায়াতের মাধ্যম এবং দুর্গাপুজো উপভোগ করার ধরণও। এক সময়ে দুর্গাপুজো এলেই শহরের রাস্তায় বাড়তি চাহিদা তৈরি হত হাতেটানা রিকশার। শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে ঘুরে প্রতিমা দর্শনের জন্য বহু মানুষ রিকশা ভাড়া করতেন। ঘণ্টা প্রতি ৩০০-৪০০ টাকা ভাড়ায় শহরের বিভিন্ন পুজো মণ্ডপ ঘুরিয়ে দেখাতেন রিকশা চালকেরা। পুজোর কয়েকটা দিন তাঁদের কাছে বাড়তি রোজগারের অন্যতম বড় সুযোগ হয়ে উঠত।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ছবিতে এসেছে আমূল পরিবর্তন। বর্তমানে টোটো, স্কুটার, বাইক ও ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় কমেছে রিকশার চাহিদা। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, দুর্গাপুজোর মরসুমেও তেমন যাত্রী পাচ্ছেন না শহরের বহু রিকশাচালক। ফলে উৎসবের আনন্দের মাঝেও তাঁদের জীবনে রয়ে গিয়েছে আর্থিক অনিশ্চয়তা ও হতাশা। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পুজো মণ্ডপে যাওয়ার জন্য অনেকেই রিকশা বেছে নিতেন। বিশেষ করে শহরের অলিগলি দিয়ে মণ্ডপে পৌঁছনো বা একাধিক পুজো একসঙ্গে দেখার ক্ষেত্রে রিকশার ব্যবহার ছিল চোখে পড়ার মতো। পুজোর দিনগুলিতে যাত্রীদের চাহিদা থাকায় রিকশাচালকদেরও রোজগার ভালো হত।
রিকশাচালক রমেশ রায় বলেন, “সাত-আট বছর ধরে আমরা আর আগের মতো ভাড়া পাই না। আগে দুর্গাপুজো এলেই মানুষ যোগাযোগ করতেন। তাঁদের রিকশায় নিয়ে শহরের বিভিন্ন পুজো মণ্ডপ ঘুরিয়ে দেখাতাম। কিন্তু এখন মানুষ টোটোর উপরে বেশি ভরসা করছেন। অনেকে আবার নিজের স্কুটার, বাইক বা গাড়ি নিয়ে ঘোরেন। ফলে আগের মতো আর যাত্রী পাওয়া যায় না।
দুর্গাপুজো এলেও এখন আমাদের আয় তেমন হয় না। কিন্তু সংসার চালানোর জন্য এই রিকশাই চালাতে হয়। কোনও দিন কিছু রোজগার হয়, আবার কোনও দিন সারা দিন রাস্তায় থেকেও
যাত্রী পাই না।”