নিরপেক্ষ তদন্তে রাজি পাকিস্তান, শরিফের হুমকিও
নিজস্ব প্রতিবেদন
২৬ এপ্রিল: পহেলগামে হামলা এবং ভারতের পদক্ষেপ নিয়ে নরমে গরমে তাদের অবস্থান জানাল পাকিস্তান। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গে আজ প্রথমবার মুখ খুলে জানিয়েছেন, ওই ঘটনার ‘নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ’ তদন্ত হলে ইসলামাবাদ তাতে সহযোগিতা করতে রাজি। তবে একই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ভারত কোনও রকম হামলা চালালে পাকিস্তানের সেনা জবাব দিতে তৈরি। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী বিলাবল ভুট্টোও হুমকি দিয়ে বলেছেন, হয় সিন্ধু নদের জল পাবে পাকিস্তান, না হলে নদীতে ভারতীয়দের রক্তস্রোত বয়ে যাবে। শাহবাজ় শরিফ ও বিলাবলের মন্তব্য নিয়ে ভারতীয় নেতৃত্বের পাল্টা প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে।
পহেলগামে পর্যটকদের উপর জঙ্গি হামলা নিয়ে গোটা দুনিয়ায় যখন নিন্দার সুর, তখন পাক উপপ্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইশক দার মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘যারা হত্যা করেছে, তারা স্বাধীনতা সংগ্রামীও হতে পারে।’’ এর তীব্র প্রতিক্রিয়া হতেই শাহবাজ় শরিফ আজ পহেলগামের ঘটনা নিয়ে কিছুটা সুর নরম করে বলেছেন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হলে পাকিস্তান সহযোগিতা করতে রাজি। কাকুলে পাকিস্তান ‘মিলিটারি অ্যাকাডেমি’র অনুষ্ঠানে শরিফ বলেছেন, ‘‘পহেলগামে সম্প্রতি যে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে, তাতে লাগাতার দোষারোপের পর্ব শুরু হয়েছে। এটা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। পাকিস্তান একটি দায়িত্বশীল দেশ। যদি কোনও নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ তদন্ত হয়, তাহলে তাতে যোগ দিতে আমরা রাজি আছি।’’ তবে পহেলগাম নিয়ে ভারত উপযুক্ত তথ্য ছাড়া অর্থহীন ভাবে পাকিস্তানকে দোষারোপ করছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
‘নিরপেক্ষ তদন্ত’ নিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। তাঁর কথায়, ‘‘পহেলগামে যে কিছু একটা হয়েছে, পাকিস্তান প্রথমে সেটাই মেনে নিতে রাজি ছিল না। তারা বলেছিল, ভারতই এর পিছনে রয়েছে। প্রথমেই যারা আমাদের দোষারোপ করেছে, তাদের কথা নিয়ে মতামত দেওয়া অর্থহীন। ফলে শাহবাজ় শরিফের বক্তব্যকে আমি খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি না।’’
সেনা অ্যাকাডেমির ওই অনুষ্ঠানে পাক সেনা কর্তাদের সামনে ভারতকে হুঁশিয়ারি দিতেও ছাড়েননি শরিফ। জানান, কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানেও কোনও বদল আসেনি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘(ভারত) কোনও হঠকারী পদক্ষেপ করলে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে আমাদের সেনাবাহিনী সক্ষম। ২০১৯ সালে ভারতের অনুপ্রবেশের জবাব আমরা দিয়েছি।’’ ২০১৯-এর ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামার ঘটনার পর জঙ্গিদের মারতে বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনা হামলা চালায়। জম্মুর রাজৌরি সেক্টরে পাল্টা আক্রমণ চালায় পাক বায়ুসেনাও। সেই সময়ে পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে ধ্বংস করে ভারত।
শরিফ এদিন কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন সে দেশের সেনাপ্রধানের সুরেই। পাক সেনাপ্রধান অসীম মুনির সম্প্রতি পাকিস্তানের চোখে কাশ্মীরকে মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ ধমনী জাগিউলার ভেন-এর সঙ্গে তুলনা করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছিলেন। শরিফ আজ বলেছেন, পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মহম্মদ আলি জিন্না কাশ্মীরকে পাকিস্তানের ‘জাগিউলার ভেন’ বলে মনে করতেন। পাক প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘কাশ্মীরি জনতা তাদের মহান লড়াই ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যতক্ষণ না পর্যন্ত আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার লাভ করছে, পাকিস্তান ততদিন তাদের সমর্থন করবে।’’
তবে পাক প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের নরম-গরম মন্তব্যকেও আজ ছাপিয়ে গিয়েছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা বিলাবল ভুট্টো। পাকিস্তানে এক সভায় বিলাবল আজ বলেন, ‘‘সিন্ধু নদ আমাদের। সেটা আমাদেরই থাকবে। হয় সিন্ধু নদের জল পাবে পাকিস্তান, না হলে নদীতে ভারতীয়দের রক্তস্রোত বয়ে যাবে।’’ সিন্ধু চুক্তি স্থগিত করা নিয়ে ভারতের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন শাহবাজ় শরিফও। তিনি বলেছেন, পাকিস্তানকে জল দেওয়া না হলে ইসলামাবাদ সর্বশক্তি দিয়ে তার মোকাবিলা করবে। সিন্ধু চুক্তি স্থগিত নিয়ে বিলাবলের হুমকির জবাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী। তিনি আজ পাল্টা বলেন, ‘‘ওঁকে বলুন জলে ঝাঁপ দিতে। অবশ্য জল না থাকলে ঝাঁপাবেনই বা কোথায়!’’ তাঁর কথায়, ‘‘পহেলগামে জঙ্গি হামলার মাসুল পাকিস্তানকে দিতে হবে। এটা সবে শুরু।’’