সমীরের বাড়িতে
তদন্তে এনআইএ
নিজস্ব সংবাদদাতা
পহেলগামের জঙ্গিহানায় নিহত সমীর গুহের বাড়িতে হাজির হন এনআইএ-র একটি দল। শনিবার বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ বেহালার সখেরবাজারে সমীরের বাড়িতে এনআইএ-র এক ডিএসপি এবং আরও দুই অফিসার আসেন। প্রায় চার ঘণ্টা সমীরের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। সূত্রের খবর, সে দিন ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানতেই সমীরের স্ত্রী এবং মেয়ের সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। বিকেলে সমীরের বাড়ি থেকে বেরিয়ে লালবাজারেও যায় এনআইএ-র দল। এ দিনের তদন্ত নিয়ে এনআইএ সরকারি ভাবে কিছু না জানালেও সূত্রের দাবি, সমীরের স্ত্রী এবং মেয়ের বয়ান-সহ প্রাপ্ত নানা তথ্য দিল্লিতে তদন্তকারী সংস্থার সদর দফতরে পাঠাবে এই দলটি। সেই তথ্য পহেলগামের জঙ্গিহানার তদন্তের মূল দায়িত্বে থাকা এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া হবে।
বেহালার সখেরবাজারের একটি আবাসনের একতলায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী সমীর গুহ সপরিবারে থাকতেন। বর্তমানে তাঁর স্ত্রী এবং মেয়ে সেখানেই আছেন। সূত্রের খবর, এ দিন তাঁদের কাছে এনআইএ-র তদন্তকারীরা জানতে চান, ঘটনার দিন পহেলগামে বৈসরন উপত্যকায় ঠিক কী ঘটেছিল? কোন দিক থেকে এসে কী ভাবে জঙ্গিরা হামলা করেছিল, জঙ্গিরা ঠিক কী কথা বলেছিল, তারা মোট কতজন ছিল ইত্যাদি। সমীরের স্ত্রী এবং মেয়ে যে বয়ান দিয়েছেন তা নথিবদ্ধ করেন অফিসারেরা।
গত মঙ্গলবার কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার পহেলগামে জঙ্গিদের গুলিতে মৃত্যু হয় ২৬ জনের। যার মধ্যে ২৫ জন পর্যটক এবং একজন স্থানীয় বাসিন্দা। সেই তালিকায় বেহালার সমীর গুহ ছাড়াও রয়েছেন নেতাজিনগর থানা এলাকার বাসিন্দা বিতান অধিকারী এবং পুরুলিয়া ঝালদার বাসিন্দা তথা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা অফিসার মনীশ রঞ্জন আছেন। তাঁদের পরিবারের সদস্য তথা প্রতক্ষ্যদর্শীদের বয়ানও নথিভুক্ত করার কথা রয়েছে এনআই-র। ওই ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে এনআইএ তদন্তভার নিয়েছে এবং তাদের জম্মু-কাশ্মীর শাখা অফিস মামলা রুজু করেছে। বিশেষ তদন্তকারী দলও গঠন করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, ঘটনার বিবরণ জানতে প্রতক্ষ্যদর্শীদের নামের তালিকা তৈরি করেছে এনআইএ। নিহতের সঙ্গে থাকা পরিজনদের নাম এবং হামলা থেকে রক্ষা পাওয়া পর্যটকদের নাম সেই তালিকায় আছে। ধাপে ধাপে তাঁদের সবার বয়ানই নথিবদ্ধ করা হবে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, বয়ান নেওয়ার পাশাপাশি ঘটনাস্থলে থাকা বিভিন্ন লোক সম্পর্কেও তথ্য জোগাড় করা হচ্ছে। প্রয়োজনে পর্যটনস্থলে মিশে থাকা কোনও সন্দেহভাজনের স্কেচও আঁকানো হতে পারে। এক গোয়েন্দাকর্তার কথায়, ‘‘হামলার কোনও চক্রী সাধারণ মানুষ বা ব্যবসায়ী সেজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ ঘটনার পরেই প্রাথমিক ভাবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী তিন জঙ্গির স্কেচ প্রকাশ করা হয়েছিল। এমনকি, দুই দফায় পাঁচ জঙ্গির বাড়ি বিস্ফোরণে উড়িয়ে দিয়েছে সেনা। সেই তালিকায় আছে হামলায় অভিযুক্ত তথা ফেরার দুই জঙ্গি আসিফ শেখ এবং আদিলের হোসেনের বাড়িও।