জাত-ধর্ম হয় না সৈনিকের, বললেন নিহত ঝন্টুর দাদা
সাগর হালদার
তেহট্ট: পরিবারের আকুল কান্না। হাজার মানুষের ভিড়। সেনার ‘গান স্যালুট’। নদিয়ার তেহট্টে নিজের গ্রামের কবরস্থানে মাটি পেলেন কাশ্মীরে জঙ্গিদের গুলিতে নিহত জওয়ান ঝন্টু আলি শেখ।
পহেলগামে জঙ্গিহানা ইস্তক বিভিন্ন মহল থেকে ধর্মীয় মেরুকরণ উসকে তোলার চেষ্টা চলছে। শনিবার ভাইয়ের মরদেহ কবর দেওয়ার আগেই ঝন্টুর দাদা, কাশ্মীরে কর্মরত ভারতীয় সেনার সুবেদার রফিকুল শেখ বলেন, “সৈনিকের আবার ধর্ম কী? সৈনিকের জাতধর্ম হয় না। ভারতীয় সেনা হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ—সবাইকে নিয়ে তৈরি। ”
বৃহস্পতিবার জম্মু ও কাশীর জেলার উধমপুরে জঙ্গিদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে নিহত হন ৬ প্যারাশুট রেজিমেন্ট স্পেশাল ফোর্সের হাবিলদার ঝন্টু। শুক্রবার রাতে তাঁর কফিনবন্দি দেহ কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছয়। রাতে ব্যারাকপুরে সেনা হাসপাতালে দেহ রাখা হয়েছিল। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ তা পৌঁছয় তেহট্টের পাথরঘাটা গ্রামের বাড়িতে। তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে তখন তিলধারণের জায়গা নেই।
বাড়ির কাছেই ইদগাহের মাঠে সেনার গাড়ি থেকে কফিন নামানো হতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে ঝন্টুর পরিবার। কফিনে মাথা দিয়ে কাঁদতে থাকেন ঝন্টুর স্ত্রী শাহনাজ পারভিন। পাশে তাঁর বছর বারোর ছেলে আর ছ’বছরের মেয়েও অঝোরে কাঁদতে থাকে। পরে দেহ যায় বাড়িতে। সেখানে স্নান করিয়ে ফের মাঠে আনা হয়। সেখানে
সেনার গান স্যালুটের পরে, কফিন কাঁধে করে নিয়ে যাওয়া হয় পাথরঘাটা কবরস্থানে। রফিকুল এবং ঝন্টুর ছেলেকেও কফিনে কাঁধ দিতে দেখা যায়। শাহনাজ বলেন, “অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল। বদলা চাই।” রফিকুল বলেন, “আমাদের কাছে দেশ আগে। তার পরে পরিবার। ভাই দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে। বদলা আমরা নেবই।”
এ দিনই ঝন্টুর পরিবারকে এককালীন ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শাহনাজের সঙ্গেও কথা বলেছেন। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ শাহনাজকে বিশেষ ব্যবস্থায় চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাচ্চা দু’টি সেনা স্কুলে পড়ে। ওরা তেহট্টে থাকবে, না কি কলকাতায় থাকবে, তা দেখে নিতে হবে। প্রয়োজন পড়লে, কলকাতার স্কুলে পড়ানোর ব্যবস্থা করে দেব।”
এ দিন মরদেহ আসার আগে থেকেই পাথরঘাটায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস-সহ বেশ কিছু তৃণমূল নেতা। সিপিএমের শতরূপ ঘোষ, এস এম সাদি প্রমুখও ছিলেন। তবে বিজেপি নেতাদের দেখা যায়নি।