ওএমআর-এ গন্ডগোল: সব আর্জিই খারিজ
নিজস্ব সংবাদদাতা
নয়াদিল্লি, ২৩ মে: ‘র্যাঙ্ক জাম্পিং’-এর পরে এ বার ‘ওএমআর মিসম্যাচ’। স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২০১৬ সালের নিয়োগ পরীক্ষায় যাঁদের ওএমআর-এর সঙ্গে প্রাপ্ত নম্বরের মিল ছিল না, তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের ‘দাগি’ নন বলে দাবি করলেন। এবং আর্জি জানালেন, আপাতত তাঁদের চাকরি করতে দেওয়া হোক। নতুন নিয়োগ পরীক্ষা হলে তাঁদের পরীক্ষায় বসার সুযোগও দেওয়া হোক। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সেই আর্জি আজ খারিজ করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ জানিয়েছে, ২৬ হাজার শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীর চাকরি বাতিলের রায়ে আর কোনও বদল হবে না। এই রায়ে বিভ্রান্তির অবকাশ নেই বলে জানিয়ে বিচারপতি সঞ্জয় কুমার বলেন, ‘‘যাঁরা বিভ্রান্ত হতে চান, তাঁরাই বিভ্রান্ত হন।’’ এর আগে যাঁরা ‘র্যাঙ্ক জাম্পিং’ বা মেধাতালিকায় রদবদলের ফলে চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁরাও দাগি নন বলে দাবি করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট তা খারিজ করে দিয়েছিল।
গত ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট যোগ্য, অযোগ্যের মধ্যে বাছবিচার না করে ২০১৬ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চাকরি পাওয়া প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মীর চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। যাঁদের বিরুদ্ধে কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ নেই বা যাঁরা ‘দাগি’ (‘টেন্টেড’) নন, তাঁরা এই সব শূন্যপদে নতুন করে নিয়োগের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন। তাঁদের বেতন ফেরত দিতে হবে না। পরে সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের নতুন নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত চাকরি করে যাওয়ার অনুমতিও দেয়। কিন্তু ‘দাগি’-দের চাকরি হারানোর সঙ্গে বেতন ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
‘ওএমআর মিসম্যাচ’-এর ফলে একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক পদে চাকরিপ্রাপ্তদের আইনজীবী মুকুল রোহতগি বলেন, কলকাতা হাই কোর্ট তিনটি শ্রেণিকে ‘দাগি’ বলে চিহ্নিত করেছিল, যাঁদের বেতন ফিরিয়ে দিতে হবে। এক, যাঁরা প্যানেলের বাইরে থেকে চাকরি পেয়েছিলেন। দুই, যাঁরা প্যানেলের মেয়াদ ফুরোনোর পরে চাকরি পেয়েছিলেন। তিন, যাঁরা ফাঁকা ওএমআর শিট জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু যাঁদের ‘ওএমআর মিসম্যাচ’ রয়েছে, বা যাঁরা ওএমআর-এ কিছু উত্তর দিয়েছেন, কিন্তু তার সঙ্গে প্রাপ্ত নম্বর মিলছে না, তাঁরা এই ‘দাগি’-দের দলে পড়েন না। তাঁদের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরি করতে দেওয়া হোক। বিচারপতি কুমার বলেন, ‘‘হাই কোর্ট তো বলেনি যে শুধু ওই তিনটি শ্রেণিই দাগি।’’ বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের হয়ে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং ফিরদৌস শামিম প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এ সব হল ঘুরপথে রায়ের পর্যালোচনা করানোর সন্দেহজনক কৌশল। ‘ওএমআর মিসম্যাচ’-এর ফলে নবম-দশমের শিক্ষক পদে চাকরি পাওয়া প্রার্থীদের আইনজীবী করুণা নন্দী বলেন, ‘‘আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, যাঁরা দাগি নন, তাঁদের বেতন ফেরত দিতে হবে না। এই প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কী হবে, তা স্কুল সার্ভিস কমিশন বিবেচনা করুক।’’ কিন্তু বিচারপতিরা সেই আর্জিতে কান না দিয়ে মামলা খারিজ করে দেন।