পুড়ল বাড়ির নীচে থাকা দোকান, ফের প্রকট অগ্নি-সুরক্ষার ফাঁক
নিজস্ব সংবাদদাতা
রাস্তার ধারের দোকানগুলিতে অগ্নি-নির্বাপণ যন্ত্র থাকলে কী সুবিধা হয়, না থাকলেই বা বিপদ কী হতে পারে, বৃহস্পতিবার সেই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলেন দক্ষিণ দমদম পুর কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন বেলায় দমদম স্টেশন থেকে নাগেরবাজারের দিকে যাওয়ার রাস্তায় একটি তেতলা বাড়ির একতলায় থাকা তেলেভাজা-কচুরির দোকানে আগুন লাগে। সেই সময়ে হাওয়া থাকায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। তা দেখে ছুটে যান এলাকার লোকজন এবং ওই দোকানটির পাশের একটি রেস্তরাঁর কর্মীরা। তাঁরাই রেস্তরাঁয় থাকা অগ্নি-নির্বাপণ যন্ত্র দিয়ে ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন প্রায় নিভিয়ে ফেলতে সমর্থ হন। পরে দমকলের দু’টি ইঞ্জিন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়েরা জানাচ্ছেন, দোকানটির ক্ষয়ক্ষতি হলেও আরও বড় অঘটন ঘটেনি। রক্ষা পেয়েছে তেতলা বাড়িটিও। এর মূলে রয়েছে ওই রেস্তরাঁ কর্মীদের তৎপরতা।
এক কর্মী সঞ্জিত গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‘প্রথমে অগ্নি-নির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহার করি, তার পরে জল ঢেলে চেষ্টা করি। এর পরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ওই দোকানে তিনটি গ্যাস সিলিন্ডার ছিল। তার মধ্যে দু’টিতে আগুন লেগে গিয়েছিল। সিলিন্ডার দু’টি বার করে এনে আগুন নেভাই।’’ আর এক কর্মী জানান, আগুন দেখে অনেকে ছুটে এলেও কেউ এগিয়ে যেতে ভরসা পাচ্ছিলেন না। শেষে ওই রেস্তরাঁর তিন-চার জন কর্মীই জল ঢেলে আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান। তাঁদের সাহায্য করেন খাবার সরবরাহকারী একটি অনলাইন সংস্থার এক কর্মীও। প্রাথমিক ভাবে দমকলের অনুমান, রান্না করার সময়ে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে কোনও ভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসীরা জানাচ্ছেন, এর আগেও দক্ষিণ দমদম পুর এলাকায় যশোর রোডের ধারে খাবারের দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময়ে পুর কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, অগ্নি-সুরক্ষার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। কিন্তু বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরসভার সেই আশ্বাস স্রেফ মুখের কথা হয়েই থেকে গিয়েছে।
এ দিনের ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি তথা পুরসভার চেয়ারম্যান পারিষদ মুনমুন চট্টোপাধ্যায় স্বীকার করে নিয়েছেন, ওই রেস্তরাঁর কর্মী এবং স্থানীয়দের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। যার ফলে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছে।