এ বারের সংক্ষিপ্ত আইএসএল-কে স্বীকৃতি দিয়ে দিল এএফসি। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এশিয়ার নিয়ামক সংস্থার কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল, বিশেষ পরিস্থিতি হিসেবে গণ্য করে যদি লিগকে স্বীকৃতি দেওয়া যায়। বৃহস্পতিবার চিঠি দিয়ে এএফসি জানিয়ে দিয়েছে, তারা এআইএফএফের এই আবেদন
মঞ্জুর করছে।
যে কোনও দেশের সর্বোচ্চ লিগকে এএফসি-র অনুমোদন পেতে হলে কতগুলি নিয়ম মানতে হয়। তার মধ্যে মুখ্য হচ্ছে, দেশের সর্বোচ্চ লিগে প্রত্যেকটি দলকে ন্যূনতম ২৪টি করে ম্যাচ খেলতে হয়, আট মাস ধরে লিগ চলতে হয়। এ বারে কাটছাঁট হওয়া ১৪ দলের আইএসএল হবে তিন মাসের, প্রত্যেকটি দল ন্যূনতম ১৩টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। সুপার কাপের ম্যাচ ধরলেও শর্ত পূরণ হচ্ছে না।
ফেডারেশনের পক্ষ থেকে শুধু এ বারের জন্য ছাড় চেয়ে এএফসি-র কাছে আবেদন করা হয়েছিল। এএফসি লিগকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবে এএফসি প্রতিযোগিতায় ভারত থেকে আসা সেরা দুই ক্লাবকে যোগ্যতা অর্জন পর্বের একটি ম্যাচ খেলে মূল পর্বে আসতে হবে। অন্যান্য বারের মতো সরাসরি মূল পর্ব থেকে খেলতে পারবে না। সুপার কাপ জেতায় গোয়া হবে একটি দল। এর পর আইএসএল যারা জিতবে, তারা দ্বিতীয় দল হিসেবে এএফএসি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাবে। ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে এ দিন বলেন, ‘‘আমরা এএফসি-কে সব কিছু বুঝিয়ে বলেছিলাম, কী পরিস্থিতিতে লিগ শুরু করা যাচ্ছিল না। এএফসি-র কাছে কৃতজ্ঞ যে, লিগকে স্বীকৃতি দিয়েছে।’’
এ দিকে, আইএসএল শুরু হচ্ছে জেনে সব দলের নড়াচড়াও শুরু হয়ে গিয়েছে। কলকাতায় মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট, ইস্টবেঙ্গল যুবভারতীতে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। এ দিন কোচ সের্খিয়ো লোবেরার সঙ্গে মোহনবাগানের ফুটবলারেরা যখন মাঠে নামছিলেন, অনেকে ভেবেছিলেন জন্মদিন বলে অনিরুদ্ধ থাপা হয়তো অনুশীলন করবেন না। কিন্তু সবুজ-মেরুন মাঝমাঠের অন্যতম ভরসার ভাবনায় যে এখন প্রথম একাদশে নিজের জায়গা পাকা করা ছাড়া আর কিছু নেই। সংশয় ছিল রবসন রবিনহোকে নিয়েও। পেটের সমস্যায় গত দু’দিন অনুশীলন করতে পারেননি। বৃহস্পতিবার মাঠে নেমে পড়েন তিনি। শরীরের বাড়তি ওজন ঝরিয়ে দিমিত্রি পেত্রাতসও মরিয়া লোবেরার আস্থা অর্জন করতে।
ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুসো যদিও অনুশীলনে সবাইকে পেলেন না। চোট থাকায় সাউল ক্রেসপো, আনোয়ার আলি, প্রভাত লাকড়া ও দেবজিৎ মজুমদার মাঠের ধারে রিহ্যাব করলেন। অস্কারের প্রধান চিন্তা এখন হামিদ আহদাদ ও হিরোশি ইবুসুকির শূন্যস্থান পূরণ করা। লাল-হলুদের স্পেনীয় কোচ এমন দু’জন ফুটবলার চাইছেন, যাঁরা ফরোয়ার্ডে খেলার পাশাপাশি মাঝমাঠও সামলাতে পারবেন। মাঠ ছাড়ার সময় সমর্থকদের তিনি আশ্বাস দিয়ে গেলেন, ভাল কিছু করে দেখানোর।
কলকাতার আর এক দল মহমেডান স্পোর্টিংয়ের সমস্যা ফিফার ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা। নতুন ফুটবলার নিতে পারবে না তারা। গত মরসুমে ফুটবলারদের বেতন বকেয়া রাখার জন্য ফিফা নির্বাসিত করেছিল মহমেডানকে। প্রায় ১২ কোটি টাকা বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ায় গত বছরের শেষ দিকে শাস্তি তুলে নেয় ফিফা। কিন্তু কার্লোস ফ্রাঙ্কা পুরো টাকা না পাওয়ায় ফের ফিফার দ্বারস্থ হয়েছেন। ফলে মহমেডানকে আবার নির্বাসিত করেছে ফিফা। এই পরিস্থিতিতে ক্লাব কর্তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আইএসএলে শুধু ভারতীয় ফুটবলার খেলানোর। মেহরাজউদ্দিন ওয়াডুর অধীনে অনুশীলন শুরু হবে হয়তো ২৬ জানুয়ারির পরে।
গোয়া ফুটবল দল আবার জানিয়েছে, তাদের ফুটবলারেরা কম বেতনে এ বারের আইএসএলে খেলতে রাজি হয়েছে। কয়েকটি ক্লাবের দাবি, পুরো মরসুম খেলা হচ্ছে না। ক্লাব আর্থিক সঙ্কটে ভুগছে, তাই ফুটবলারেরাও
বেতন হ্রাসে রাজি হোক। একই পথে হাঁটতে চাইছে বেঙ্গালুরু এফসি। যদিও জানা গিয়েছে, বেশির ভাগ ক্লাব বেতন কমানোর কথা বলেনি, এই প্রস্তাব দিচ্ছে দু’তিনটি ক্লাবই। ফেডারেশন জানিয়ে দিয়েছে, তারা এর মধ্যে জড়াবে না। এটা সম্পূর্ণ ভাবে ক্লাবেদের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার।