চাপ বাড়িয়ে এ বার প্রাক্তন আইপিএস
পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে ভোট করাতে হতে পারে ধরে নিয়েই রবিকে আগেভাগে সেখানে রাজ্যপাল নিয়োগ করা হল? গত সাড়ে তিন বছরে বোসের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাত তৈরি হলেও বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব রাজ্যপালের ভূমিকায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিল না। বিজেপির রাজ্য নেতারা মনে করছিলেন, বোস রাজ্য সরকারকে যথেষ্ট বেগ দিতে পারছেন না।
অন্য দিকে রবি সিবিআই, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোতে কাজ করেছেন। নাগা জঙ্গি সংগঠনের এনএসসিএন-আইএমের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যস্থতাকারী ছিলেন। যৌথ গোয়েন্দা কমিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান রবিকে নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল করেছিল মোদী সরকার। কিন্তু নাগাল্যান্ডের সরকারের সঙ্গে তাঁর বিবাদ বাধে। তারপরে তাঁকে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল করা হয়। ডিএমকে সরকার তাঁর বিরুদ্ধে বিল আটকে রাখা, প্রতি পদে বাধা তৈরির অভিযোগ তুলেছে। তা নিয়ে মামলায় সুপ্রিম কোর্টও রাজ্যপাল হিসেবে রবির ভূমিকার সমালোচনা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, রাজ্যপাল হিসেবে রবিকে নিয়োগ করা নিয়ে তাঁর সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুধু তাঁকে খবরটি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এই ধরনের কাজকর্ম সংবিধান ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিরুদ্ধে। এতে রাজ্যের মর্যাদায় আঘাত লাগে।
বিরোধী শিবির মনে করিয়ে দিচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদে বোসের পূর্বসূরি জগদীপ ধনখড় গত বছর ২১ জুলাই আচমকাই উপ রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়রাম রমেশের প্রশ্ন, ‘‘প্রথমে জগদীপ ধনখড়কে উপ রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বরখাস্ত করা হল। এ বার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদে তাঁর উত্তরসূরি সি ভি আনন্দ বোসেরও একই পরিণতি হল। হচ্ছেটা কী?” পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘কিছু কারণ আছে হয়তো। জেনে বলব।” বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের প্রতিক্রিয়া, ‘‘রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি রাজ্যপাল। রাজ্যপালের পদত্যাগের কারণ খতিয়ে দেখার মতো সংস্থা আমার কাছে নেই! তার কোনও প্রয়োজন, সময়ও আছে বলে মনে করি না। উনি বিদ্বান মানুষ। শোনা যাচ্ছে, শারীরিক কারণে পদত্যাগ করেছেন। আর তৃণমূলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হল সব কিছুর মধ্যে
ষড়যন্ত্র খোঁজা।”
তবে সিপিএমের নেতা সুজন চক্রবর্তীর প্রশ্ন, ‘‘ভোটের মুখে রাজ্যপাল পদত্যাগ করলেন, না কি করানো হল? এর আগে জগদীপ ধনখড় উপরাষ্ট্রপতি হতে, নীতীশ কুমার রাজ্যসভার জন্য পদত্যাগ করেছেন। এখন রাজ্যপাল কেন?’’ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারেরও প্রশ্ন, ‘‘এর নেপথ্যে উপরাষ্ট্রপতি ধনখড়ের পদত্যাগের মতো কোনও অদৃশ্য কারণ আছে কি? না কি রাজ্যপালের কার্যালয়কে ব্যবহার করে বিজেপির অপচেষ্টার চিত্রনাট্য এটি?”
বিনামূল্যে টিকা
হাম, রুবেলা, হেপাটাইটিস-বি-এর মতো বারোটি রোগ প্রতিরোধের টিকা এ বার বেসরকারি হাসপাতালেও বিনামূল্যে মিলবে। ‘ইউনিভার্সাল ইমুনাইজ়েশন প্রোগ্রাম’-এর অধীনে জন্মের পরে শিশুদের ওই সমস্ত টিকা সরকারি হাসপাতালে বা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দেওয়া হয়। কিন্তু টিকাদান কর্মসূচিতে আরও গতি আনতে বেসরকারি হাসপাতালেও বিনামূল্যে ওই পরিষেবার ব্যবস্থা করছে স্বাস্থ্য দফতর। সপ্তাহে দু’দিন টিকাদান কর্মসূচির জন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে সংশ্লিষ্ট জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে লিখিত আবেদন করতে হবে। অনুমতি মেলার পরে বেসরকারি হাসপাতাল জেলার নির্দিষ্ট ‘কোল্ড চেন’ থেকে টিকা সংগ্রহ করতে পারবে। নিজস্ব সংবাদদাতা