প্রার্থী সাবিনা অপছন্দ, কার্যালয়ে ভাঙচুর কর্মীদের
নিজস্ব সংবাদদাতা
কালীগঞ্জ: উপনির্বাচনে বোমায় নিহত বালিকা তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন নদিয়ার কালীগঞ্জ আসনে সিপিএম প্রার্থী হওয়ার পরে একটা দিনও পেরোল না। প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে সিপিএমের পলাশি এরিয়া কমিটির অফিসে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল দলেরই কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে। তাঁদের বক্তব্য, সাবিনা এমনকি, দলের সাধারণ সদস্য হিসাবেও সক্রিয় নন। তাঁকে প্রার্থী করার বিষয়ে নিচুতলায় কোনও আলোচনাও হয়নি। এই প্রার্থী তাঁরা মানছেন না। অবিলম্বে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিও তোলা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু প্রার্থিতালিকা ঘোষণা করার পরেই কালীগঞ্জে সিপিএমের অন্দরে ক্ষোভের আঁচ টের পাওয়া গিয়েছিল। প্রার্থীর নাম জেনে এক দল সিপিএম কর্মী দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। কেউ কেউ দল ছেড়ে দেওয়ার হুমকিও দেন। সমাজমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। দলীয় সূত্রের দাবি, পলাশির এক স্থানীয় নেতাকে প্রার্থী করার দাবি তুলছেন ওই কর্মীরা। সাবিনা অবশ্য বলেন, “এ বিষয়ে জানি না।”
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও কালীগঞ্জের পাশের কেন্দ্র নাকাশিপাড়ায় সিপিএম প্রার্থী নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। সে সময় বেশ কয়েক জনকে বহিষ্কার করে দল। কালীগঞ্জেও কি তেমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে? সিপিএমের পলাশি এরিয়া কমিটির সম্পাদক অজয় সরকার বলেন, “কিছু কর্মীর মধ্যে ক্ষোভ আছে। আমরা আলোচনা করে মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।”
তবে সিপিএমের নদিয়া জেলা সম্পাদক মেঘলাল শেখ বলেন, “যারা এ সব করেছে তারা দলের কর্মী নয়, দালালি করছে। দলের ভিতরে সমস্যা তৈরি করে বিরোধীদের লাভ পাইয়ে দেবে। আমরা দেখছি, কারা করল। তাদের বিরুদ্ধে দল ব্যবস্থা নেবে।” সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, ‘‘কোথাও সমস্যা হয়ে থাকলে শীঘ্রই মিটে যাবে। তবে তামান্নার খুনে অভিযুক্তদের মদতে এমন ঘটনা ঘটানো হয়নি তো?”