অভিষেককে বিঁধে হুঙ্কার শুভেন্দুর
‘মমতা আর ফিরবেন না’
নিজস্ব সংবাদদাতা
শক্তি দেখিয়েই সহযোগিতা চাইল নতুন সরকার! বাজেট অধিবেশনের সূচনায় রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের অভিমুখ স্পষ্ট করেছিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। রাজ্যপালের ভাষণের উপরে বিতর্কে যোগ দিয়ে মঙ্গলবার সেই অভিমুখের চেহারা স্পষ্ট করে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিলেন, ‘লাল চুল কানে দুল’ সংস্কৃতি আর চুরি-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’র নীতি নেওয়া হবে। এর সঙ্গেই জানালেন, চলতি অধিবেশনের শেষ দিনে দুর্নীতি রোধে কড়া আইন আনা হচ্ছে, যা কার্যকর হলে দোষীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলাম করা হবে। পাশাপাশি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর কোনও দিন ক্ষমতায় ‘ফিরবেন না’ বলেও ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
অষ্টাদশ বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের প্রথম অধিবেশনে বিতর্কে উঠে আসে আগের সরকারের কাজকর্মের কথা। অতীতের সূত্র টেনেই দৃশ্যত ‘আক্রমণাত্মক’ মুখ্যমন্ত্রী বিরোধীদের উদ্দেশে বলেছেন, “যে অত্যাচার করেছেন, তা সভ্য দেশে হয় না। কোনও দিন ফিরতে পারবেন না। কাজ করতে দিন। সহযোগিতা করুন।” বিতর্কে যোগ দিয়ে বিজেপির বিধায়কেরাও তৃণমূল সরকারের চুরি-দুর্নীতি, ব্যর্থতা, রাস্তা, জল-কল, নদী বাঁধের সমস্যা তুলে ধরেছেন। আর মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “রাজ্যে দুর্নীতি রোধ করতে সরকার কড়া ও যুগান্তকারী আইন আনছে। তা কার্যকর হলে দুর্নীতি করে পার পাওয়া যাবে না। দোষীদের শুধু জেলেই পচতে হবে না, বরং দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত সমস্ত টাকা এবং দুর্নীতিকারীর সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সরকারি স্তরে বাজেয়াপ্ত ও জনসমক্ষে নিলাম করা হবে।” দুর্নীতির অর্থ উদ্ধারের বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, “হরিশ চ্যাটার্জি রোড, হরিশ মুখার্জি রোড, আমতলায় যে সমস্ত বিশাল বিশাল রাজপ্রাসাদ গড়ে উঠেছে, আইন মেনে সেগুলিকে অধিগ্রহণ করে কলকাতার বিভিন্ন উড়ালপুলের নীচে বা ফুটপাতে অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটানো মানুষদের স্থায়ী থাকার বন্দোবস্ত সরকার করবে।” ‘সব কা সাথ, সব কা বিকাশে’র সঙ্গে খুঁজে খুঁজে ‘সব কা হিসাব’ নেওয়া হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এ-ও বলেছেন, “কোনও ভদ্রলোকের গায়ে কেউ হাত দেবেন না। (তৃণমূল বিধায়ক) শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, সমর মুখোপাধ্যায়েরা সম্মাননীয়।