সদ্য মা হয়েছেন চিত্রাঙ্গদা শতরূপা। একরত্তির জন্য রাত জাগতে হচ্ছে। ক্লান্তি নিয়েই সাক্ষাৎকারে বসলেন অভিনেত্রী।
প্র: ছেলে কেমন আছে?
উ: ছোটবেলা থেকে শুনে আসতাম ‘মা হলে বুঝবি’, এখন বুঝছি। মাত্র তিন মাস হল। একটা ছোট্ট পুতুল যেন! ওকে নিয়ে খেলছি আবার দায়িত্বও পালন করছি।
প্র: ‘অনেকদিন পর’-এর শুট তো গর্ভাবস্থায় করেছেন...
উ: আমি যখন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা তখন সৌরভ (পালোধী) যোগাযোগ করেছিল। মুখে মৌরি নিয়ে চিত্রনাট্য শুনতে গিয়েছিলাম, যাতে বমি ভাব কেটে যায়। তবে শুট শুরুর আগেই ওদের বলে দিয়েছিলাম।
প্র: সাইকেলও তো চালিয়েছেন...
উ: হ্যাঁ। প্রথমে একটু সন্দিহান ছিলাম। কারণ সাইকেল চালানোর অভ্যেস বহু দিন ছিল না। চালাতে গেলে যদি পড়ে যাই! ভয় ছিল। তখন সম্বিতকে (চট্টোপাধ্যায়, স্বামী) বললাম সাইক্লিং শেখাতে। অন্য কেউ হলে হয়তো ভয় পেত, বারণ করত। কিন্তু সম্বিত খুব উৎসাহী ছিল। ও বলেছিল, ‘আমাদের ছানাটা কত লাকি ভাব, কত দিন পর বাংলা ছবি করছিস।’
প্র: এত দিন বাংলা ছবিতে দেখা যায়নি কেন?
উ: সেটা পরিচালকরা বলতে পারবেন। এখন কাজ পাওয়ার জন্য সকলের হাবভাব হল ‘আমাকে দেখুন’। সেটা আমি পারব না। তাই সৌরভের মতো পরিচালক, যাঁরা আমাকে ডেকে কাজ দেবেন, তাঁদের সঙ্গে কাজ করেই খুশি।
প্র: সৌরভের পরিচালনায় কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
উ: দারুণ। সৌরভের ‘অঙ্ক কি কঠিন’ দেখেছিলাম। আর সিনেমার শুটের পরে ‘যে জানলাগুলোর আকাশ ছিল’ দেখলাম। আমি তো বরাবরই নাটক দেখি। গত দশ বছরে দেখা সেরা বাংলা নাটক এটা। আর সে দিন অ্যাকাডেমি থেকে নাটক দেখে বেরোনোর সময়ে রাহুলদার (অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়) সঙ্গেও দেখা হয়েছিল। রাহুলদা তো আমাকে দেখেই খুব আনন্দ করে বলল, ‘তুই সৌরভের ছবিতে অভিনয় করছিস? আমি খুব খুশি। বাংলা ছবিতে তোর আরও কাজ করা উচিত।’ সেই শেষ দেখা।
প্র: রাহুলের মৃত্যু যে প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেল, কাজের জায়গায় নিরাপত্তা নিয়ে কী বলবেন?
উ: রাহুলদার ক্ষেত্রে যেটা হল সেটা নিরাপত্তার ত্রুটি। জলের গভীরতা ঠিকমতো না জেনে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিয়ে শুট করা উচিত নয়। অভিনেতা নিজেও যদি অমন জায়গায় গিয়ে শুট করতে চান, তাঁকে বারণ করাও প্রযোজনা সংস্থার দায়িত্ব। ক’দিন আগে কেরলেও এক মডেল মারা গেলেন দুর্ঘটনায়। আমি শুধু বাংলা ইন্ডাস্ট্রির কথা বলব না। বড় নাম না হলে শিল্পীদের প্রতি এই দায়সারা ভাবটা ঠিক নয়। একটা দৃশ্য তৈরি করতে গিয়ে একজন মানুষ মারা গেলে সেই দৃশ্যটার কী মূল্য রইল?
প্র: নওয়াজ়উদ্দিন সিদ্দিকীর সঙ্গে ‘ম্যায় অ্যাক্টর নহি হুঁ’তে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
উ: কাজটা শুরুর আগে আমাদের এক দিনও দেখা হয়নি। সোজা শুট শুরু আর সেই দৃশ্যে ফোনে ওঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছি। সিনিয়র শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার উত্তেজনা থাকে আবার ভয়ও করে। আমার কোনও কথা যদি তাঁর ইগোতে লেগে যায়, সমস্যা হয়। কিন্তু নওয়াজ় স্যর এতটাই পেশাদার যে, আমি চরিত্র হিসেবে ওঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছি, গালমন্দ করছি, আর উনি ততটাই স্পেস দিয়ে যাচ্ছেন। ওঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি।
নবনীতা দত্ত
ছবি: সর্বজিৎ সেন