‘আর ফিরবেন না’
কিন্তু জাহাঙ্গির, সওকাত মোল্লা, শাহজাহান, দিলীপ মণ্ডল, রাজু নস্করদের শাস্তি হবে।”
আগের সরকারের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে, তার সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘‘রাজ্যে বিজিবিএস (শিল্প সম্মেলন) করতে ফিকি-কে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ৩২৪ কোটি টাকা দিয়েছেন! পারেন তিনি দিতে?” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, পাথর খাদানে রাজ্যের প্রাপ্য ছিল ১২০০ কোটি। এসেছে ১০০ কোটি। তিনি বলেন, “১১০০ কোটি ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে বিদেশে চলে গিয়েছে।” প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নাম না করে শুভেন্দুর কটাক্ষ, “ছাপ্পা ভোটে পুরসভা জিতে এখানে বসে বলেছিলেন, তোমরা হেরেছো! এর পরে সব হারবে। আমরা বলেছিলাম, সময় আসবে। লড়াই করেছিলাম। এখন নিজের বুথে হেরে বাড়িতে বসে শুনছেন আমার কথা! ইতিবাচক সহযোগিতা করুন, সমালোচনা করার সুযোগ
পাবেন না।”
রতুয়ার তৃণমূল বিধায়ক সমর মালদহের নদী-ভাঙন, কৃষি ও মৎস্যজীবীদের সমস্যার দিকে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। উল্টো দিকে, সরকার পক্ষ তৃণমূলের ১৫ বছরের রাজত্বের কথা তুলে তাঁকে পাল্টা খোঁচা দিয়েছে। পাশাপাশি, বিরোধী শিবির থেকে ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়। এই সূত্রেই সমর বলেছেন, “আমরা তো খারাপ। কিন্তু আপনারাও এমন কাজ করবেন না, যাতে পাঁচ বছর পরে কেউ আপনাদের দিকে না ডিম ছোড়ে।’’ এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসকে নিগ্রহের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তৃণমূলেরই আর এক বিধায়ক আলিফা আহমেদ। তৃণমূলের অতীতের ‘সন্ত্রাসে’র প্রসঙ্গ পাল্টা তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, “১৫ বছর রাজত্ব করে এখন আপনারা বলছেন, খাপ পঞ্চায়েতের কথা! মগরাহাট পশ্চিমে গণনাকেন্দ্রের মধ্যেই খুন করা হল বিজেপি প্রার্থীকে। ২০২১-এর ভোটের সময় থেকে মনে করুন। এক লক্ষের বেশি বিজেপি কর্মীকে আপনারা ঘরছাড়া করেছেন। দু’হাজার এফআইআর-এর এগারোশো নেওয়া হয়েছিল। বাকিগুলি নেওয়া হয়নি। ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল।” বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তাঁকে বার বার বিধানসভা থেকে বহিষ্কারের প্রসঙ্গও এ দিন টেনেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী, সিপিএমের মোস্তাফিজুর রহমান (রানা) এসআইআর নিয়ে মানুষের আতঙ্কের কথা তুলে ধরেছেন। যদিও এই প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “সরকার অনুপ্রবেশকারীদের জেলে বসিয়ে ভাত খাওয়াবে না। ধরে বিএসএফের হাতে দেওয়া হবে। ১০ হাজার জনকে পাঠিয়েছি। আরও ১৮০০ আছে।”