বিবাদ থেকে গুলি, দমদমে নিহত এক
নিজস্ব সংবাদদাতা
শহরের রাস্তায় ফের প্রকাশ্যে গুলি চলল। ওই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তির, জখম দু’জন। রবিবার অনেক রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধারে খলিসাকোটা এলাকায়।
গুলি চালানোর খবর পেয়ে দমদম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে সেখানেই মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃতের নাম রাজা দত্ত ওরফে বিশ্বজিৎ। পুলিশ খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। কয়েক জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের দাবি, রাজার বিরুদ্ধে একাধিক
অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, রবিবার গভীর রাতে দুই সঙ্গীকে নিয়ে একটি মোটরবাইকে চেপে উত্তর দমদম পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের খলিসাকোটায় বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধারে গিয়েছিলেন রাজা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আরও কয়েক জন। কোনও একটি বিষয় নিয়ে দু’পক্ষের বচসা হয়। তারই মধ্যে চলে গুলি। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন রাজা। মারধরে জখম হন আরও দু’জন। পুলিশ যাওয়ার আগেই চম্পট দেন অভিযুক্তেরা।
তদন্তে জানা গিয়েছে, রাজার সঙ্গে একটি আগ্নেয়াস্ত্র থাকার তথ্য মিলেছে। সেই আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিয়ে তাঁকেই খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়। আগ্নেয়াস্ত্রটি কার, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। ওই সময়ে কয়েক রাউন্ড গুলি চলে। রাজার পেটে একাধিক গুলি লেগেছে বলে সূত্রের খবর।
এ দিন ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিজেপি কর্মীদের একাংশের কথায়, এই এলাকাতেই তৃণমূলের একটি অফিস ছিল। সেখানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় রাজার নাম জড়িয়েছিল। তাই নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ তৈরি হয়। এই ঘটনার নেপথ্যে সেটি একটি কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, এমন একাধিক সূত্র যাচাই করে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন দিক থেকে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, ঘটনায় জড়িত একাধিক ব্যক্তি, যাঁরা রাজার পূর্ব-পরিচিত।
তাঁদের মধ্যে শত্রুতা থেকে এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে কিনা, তা-ও দেখা হচ্ছে।
রাজার দেহ ময়না তদন্তে পাঠানো হয়েছে। তার রিপোর্ট এলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হবে পুলিশ। তবে প্রাথমিক অনুমান, গুলিবিদ্ধ হয়েই মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যক্তির। বাকি আহত দু’জনকে মারধর করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।