যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়াতে সিসি ক্যামেরায় মোড়া হবে বিভিন্ন স্টেশন
শিবাজী দে সরকার
ধীরে ধীরে প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে ট্রেন। চলন্ত ট্রেনের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েক জন যাত্রী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মহিলারাও। হঠাৎ এক যুবক দরজার কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা এক মহিলার হাত থেকে তাঁর মোবাইলটি ছিনিয়ে নিল। এবং ধীরে চলতে থাকা ওই ট্রেন থেকে লাফ দিয়ে নেমে গেল।
উপরের দৃশ্যটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনার নয়। অভিযোগ, বিভিন্ন রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ঢোকার এবং বেরোনোর মুখে ট্রেনের গতি কমলে হামেশাই এই ধরনের ঘটনা ঘটে। পুলিশে অভিযোগ জানানো হলেও সব সময়ে দুষ্কৃতীরা ধরা পড়ে না। যার প্রধান কারণ, বেশির ভাগ স্টেশনেরই ঢোকার এবং বেরোনোর মুখে সিসি ক্যামেরা নেই। দুষ্কৃতীরা তা জেনেই ছিনতাইয়ে আরও বেশি করে সাহস পাচ্ছে। সূত্রের খবর, এ বার তাই বিভিন্ন স্টেশনের প্রবেশপথে সিসি ক্যামেরার নজরদারি বাড়াতে চাইছে রাজ্য রেল পুলিশ। এর জন্য শিয়ালদহ রেল পুলিশ জেলার প্রতিটি থানা এবং পুলিশ ফাঁড়ির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় কতগুলি সিসি ক্যামেরা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্টেশন চত্বর কিংবা প্ল্যাটফর্মের কোন কোন অংশ সিসি ক্যামেরার নজরদারির বাইরে রয়েছে, তা-ও দ্রুত জানাতে বলা হয়েছে রেল পুলিশের আধিকারিকদের। সূত্রের খবর, ওই তালিকা ধরে রেল পুলিশের তরফে ক্যামেরা বসানোর জন্য রেল কর্তৃপক্ষকে প্রস্তাব পাঠানো হবে। উল্লেখ্য, রেলের তরফেই সিসি ক্যামেরা বসানো হয় বিভিন্ন স্টেশন এবং প্ল্যাটফর্মে।
রেল পুলিশের এক কর্তা জানালেন, প্রতিটি স্টেশনে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি মূলত রেল রক্ষী বাহিনীর তরফে করা হয়। কিন্তু বিভিন্ন ঘটনার তদন্তে দেখা গিয়েছে, ওই সমস্ত ক্যামেরার কিছু ‘শ্যাডো’ এলাকা রয়েছে, যা থাকে সিসি ক্যামেরার নজরদারির বাইরে। বিশেষ করে, স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের শেষ প্রান্তে। ওই সব অংশে সিসি ক্যামেরার ঘাটতি রয়েছে। এ বার তাই সব এলাকা সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে আনার চেষ্টা শুরু হয়েছে।
শিয়ালদহ রেল পুলিশ জেলার অধীনে রয়েছে ১৪টি থানা এবং সম সংখ্যক পুলিশ ফাঁড়ি। এ ছাড়া, রয়েছে পাঁচটি তদন্ত কেন্দ্র। এর মধ্যে বড় স্টেশনগুলিতে সিসিটিভি-র নজরদারি থাকলেও ছোট স্টেশনগুলিতে তাতে ঘাটতি রয়েছে বলেই খবর। যদিও বা থাকে, তার সংখ্যা খুব কম। প্রসঙ্গত, শিয়ালদহ স্টেশনে নিরাপত্তা বাড়াতে এবং অপরাধী শনাক্ত করতে অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ফেস রিকগনিশন ক্যামেরা বসেছে।
রেল পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কর্মীর সংখ্যা প্রয়োজনের চেয়ে অনেক কম। সেই ঘাটতি মেটাতেই স্টেশন এবং প্ল্যাটফর্মের প্রতিটি কোণ সিসি ক্যামেরা দিয়ে মুড়ে ফেলতে চান রেলকর্তারা। তার জন্যই ওই প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে রেল পুলিশের তরফে।