মোহনবাগানে অভিষেকেই নায়ক সায়ন
নিজস্ব সংবাদদাতা
স্বপ্নের অভিষেক! ইস্টবেঙ্গল ছেড়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান সুপার জায়ান্টে যোগ দেওয়া শিকড় উপড়ে ফেলার মতোই কঠিন। মনের মধ্যে আশঙ্কার মেঘ জমতে থাকে। প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগে লড়াই মূলত নিজের সঙ্গে বেশি করতে হয়। ব্যর্থ হলেই যে কাঠগড়ায় যে তোলা হবে। সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু পেরেছেন। সোমবার মোহনবাগান মাঠে কলকাতা লিগের প্রিমিয়ার ডিভিশনে পাঠচক্রের বিরুদ্ধে গোল করে এবং করিয়ে সবুজ-মেরুন জার্সিতে অভিষেক স্মরণীয় করে রাখলেন সায়ন।
খেলা শুরু হওয়ার ১৯ মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল মোহনবাগান। কিন্তু কিয়ান নাসিরি একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে পাঠচক্রের গোলরক্ষক অর্ণব দাসের গায়ে বল মারেন। ২২ মিনিটে বিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে ঢুকে নেওয়া সায়নের শট অর্ণব ধরতে ব্যর্থ হন। বিনা বাধায় দ্বিতীয় পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন কিয়ান। ৩৯ মিনিটে ফের সায়ন পেনাল্টি বক্সে ঢুকে শট নেন। এ বার অবশ্য পাঠচক্রের গোলরক্ষক ভুল করেননি
গোল আটকাতে।
দ্বিতীয়ার্ধে পরিবেশ সম্পূর্ণ বদলে যায়। সব বাতিস্তম্ভের আলো না জ্বলায় মোহনবাগান মাঠে ‘আঁধার’ নামলেও সায়নের ঔজ্জ্বল্য কমেনি। ৬৫ মিনিটে রোহিতের পাস থেকে ব্যবধান বাড়ান সুহেল বাট। সংযুক্ত সময়ে (৯০+৩) বিভান লস্করের পাস থেকে গোল করলেন সায়ন। দু’মিনিট পরে ৪-০ করলেন বিভানই।
৪-০ জয়ের পরে সুহেল বিশ্বকাপে জনপ্রিয় হওয়া আর্লিং হালান্ডের ‘ভাইকিং রো’-র আদলে মাঠে ড্রাম বাজিয়ে উৎসব করলেন। আর সাংবাদিক বৈঠকে ম্যাচের সেরা সায়ন বলছিলেন, ‘‘স্বপ্নের অভিষেক বলা যেতেই পারে। প্রথম ম্যাচে গোল করিয়েছে এবং করেছি। সব ফুটবলারেরই লক্ষ্য থাকে প্রথম ম্যাচে ভাল খেলা।’’
জর্জ টেলিগ্রাফকে ৩-০ হারিয়ে চব্বিশ ঘণ্টা আগেই ইস্টবেঙ্গল লিগ-অভিযান শুরু করেছিল। মোহনবাগানের যাত্রা
শুরু হল ৪-০ জিতে।
যুগলবন্দি: সায়ন (বাঁ-দিকে) ও কিয়ান। ছবি: সুমন বল্লভ
কলকাতা লিগ
মোহনবাগান ৪n পাঠচক্র ০