স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক সুদীপদের, কথা শাহের সঙ্গেও
অগ্নি রায়
নয়াদিল্লি, ১৩ জুলাই: এনসিপিআই-কে এনডিএ-র শরিক দল হিসেবে মান্যতা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল আজ থেকে। তা শেষ হবে সংসদের বাদল অধিবেশনের আগের দিন অর্থাৎ ১৯ জুলাই। আজ রাজধানীতে স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা জানাচ্ছেন এনসিপিআই শীর্ষ নেতৃত্ব।
সিদ্ধান্ত হয়েছে, এনসিপিআই-এর লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং উপদলনেতা শতাব্দী রায় হবেন। অর্থাৎ এর আগে তৃণমূলে যিনি যে পদে ছিলেন (সরানোর আগে) সেই পদকেই মান্যতা দেওয়া হয়েছে। আজ সুদীপ এবং কাকলি বিকেল তিনটের সময় স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেন। দু’দিন আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও দীর্ঘ বৈঠক করেছেন সুদীপ। প্রসঙ্গত, এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়ার পর এটি শাহ-সুদীপ দ্বিতীয় বৈঠক।
সুদীপ এবং কাকলি জানিয়েছেন, এনডিএ ব্লকে এনসিপিআই-এর ২০ জন সাংসদের বসার জায়গা নিয়ে আজ স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। নতুন সংসদ ভবনে তাঁদের দলীয় দফতর দেওয়া হবে বলে স্পিকার তাঁদের জানিয়েছেন। সুদীপের বক্তব্য, ঘর নির্দিষ্ট করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১০ তারিখে এনসিপিআই-এর পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাবনা বা চূড়ান্ত চিঠি স্পিকারের অফিসে দেওয়া হবে। ১৯ জুলাই বৈঠকে তাঁদের দলকে ডেকেওছেন স্পিকার।
এনসিপিআই-এ মেশা কুড়ি জন সাংসদের প্রত্যেকের সদস্যপদ খারিজের পৃথক পিটিশন স্পিকারের কাছে জমা দিয়েছিলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের বক্তব্য, সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী, একটি দলে যুক্ত থাকার পর অন্য দলে গেলে সাংসদ পদ খারিজ হয়ে যাবে। এনসিপিআই-এর দাবি, ওই পিটিশনের কোনও উল্লেখ আজ স্পিকারের সঙ্গে আলোচনায় আসেনি।
শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে সুদীপ বলেন, “অমিত শাহ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাজকর্মে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, তিনি সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলার মানসিকতা দেখাচ্ছেন। জানতে চেয়েছেন, আমাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ কেমন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কথা তাঁকে জানিয়েছি।” সুদীপ আরও জানান, শাহের ইচ্ছা, ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন করিয়ে বোর্ড গঠন করে ফেলার। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক হবে অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে।
কাকলির কথায়, “আগামী ১৯ তারিখ সর্বদলীয় বৈঠকে আমরা যোগ দেব। বাংলার উন্নয়ন আমাদের অগ্রাধিকার থাকবে অধিবেশনে। রেল, পরিকাঠামো, শিক্ষার মতো অনেক বিষয় আছে যা আগের রাজ্য সরকারের সময়ে অবহেলিত হয়েছে। আমার এলাকা বারাসত পর্যন্ত মেট্রোর কাজ ত্বরান্বিত করার বিষয়টি তুলব। আমি জ়িরো আওয়ারে গোহত্যা রোধ করার দাবি তুলব।” নিজের নির্বাচনী এলাকার সংখ্যালঘু ভোট বিবেচনা করে সুদীপ বলেন, “এনসিপিআই বিজেপি-র শরিক হলেও ধর্মনিরপেক্ষ নীতি মেনেই চলবে। এনডিএ-র অন্য দুই শরিক জেডিইউ এবং তেলুগু দেশমের কি সংখ্যালঘু ভোটার নেই? আমরা তো বিজেপি-র সঙ্গে মিশে যাইনি। আমাদের দলে তিন জন সংখ্যালঘু সাংসদ রয়েছেন। যা এই মুহূর্তে এনডিএ-তে অন্য কোনও
দলের নেই।”