দক্ষিণ ভারত ঘুরে ধৃত তৃণমূল নেতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
জিপিএস লাগানো গাড়ি, মোবাইল বাড়িতেই রাখা ছিল। নগদ টাকা নিয়ে দক্ষিণ ভারতে পালিয়েছিলেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ। প্রায় ১৭ দিন ধরে দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় চক্কর কাটছিলেন পানিহাটির এ বারের তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর। শেষে তিরুপতি হয়ে কলকাতায় ফিরতেই পাঁচ বছর আগের বিধানসভা ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করল পুলিশ, রবিবার রাতে।
দক্ষিণেশ্বর এলাকা থেকে তীর্থঙ্কর ওরফে পুচির গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়তে সোমবার সকালে খড়দহ থানার সামনে ভিড় করেন স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। নির্মল ও তীর্থঙ্করের বিরুদ্ধে ‘চোর’ স্লোগান তুলে, ঢোল বাজিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তাঁরা। এলাকায় বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়। তীর্থঙ্করকে প্রিজ়ন ভ্যানে তোলার সময়ে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন বিজেপি কর্মীরা। কোর্টে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন করা হয়েছিল। ব্যারাকপুর মহকুমা আদালত ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগ, ২০২১ সালের ১৪ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৫ মিনিট থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সোদপুরের অমরাবতী এলাকায় স্থানীয় বিজেপি নেতা জয় সাহার বাড়িতে তীর্থঙ্করের নেতৃত্বে এলোপাথাড়ি বোমা ও গুলি ছোড়ে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। তীর্থঙ্কর-সহ নির্দিষ্ট ভাবে সাত জন এবং অন্যদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইন ও অস্ত্র আইনের দু’টি ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা মোতাবেক ভয় প্রদর্শন, খুনের চেষ্টা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, যৌথ অপরাধ-সহ একাধিক ধারায় মামলা রয়েছে। খবর, গত ২৫ জুন পানিহাটি থেকে পালান তীর্থঙ্কর। পানিহাটি পুরসভার জল বিভাগের চেয়ারম্যান পারিষদ সদস্য তীর্থঙ্কর তৃণমূলের যুব নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীরও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এ দিন জয় বলেন, ‘‘আমার বাড়িতে পরিকল্পিত ভাবে হামলা চালানো হয়েছিল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজও ছিল। তার পরেও কেউ গ্রেফতার হয়নি। উল্টে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে আমাকে জেল খাটানো হয়েছিল।’’ এ দিকে, একাধিক এফআইআর খারিজ ও রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন নির্মল ও তীর্থঙ্কর। ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে, ২০২৪ সালে এক লটারি বিজেতার থেকে তোলা দাবির অভিযোগে এবং বেআইনি নির্মাণের জন্য আর্থিক প্রতারণা, পৃথক তিনটি অভিযোগে খড়দহ থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরের প্রেক্ষিতে এই মামলা।
সূত্রের খবর, নির্মলের বিরুদ্ধে প্রোমোটারকে হুমকি দিয়ে তোলাবাজির মতো অভিযোগ রয়েছে। তিনি পলাতক। যদিও দিনকয়েক আগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল শিবিরের বৈঠক চলাকালীন বাইরে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। পরে ঋতব্রত জানিয়ে দেন, পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ককে তাঁরা ডাকেননি। রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ, ‘বাঁচার’ তাগিদে ঋতব্রত শিবিরে আশ্রয়ের চেষ্টা করেছিলেন নির্মল। সেই আশায় কলকাতায় ফেরেন তীর্থঙ্করও। খবর, তিরুপতি ঘুরে রবিবার রাতে ট্রেনে দক্ষিণেশ্বরে নামেন তিনি। এর পরে ডানলপ ও দক্ষিণেশ্বরের মাঝে সবেদাবাগানে অপেক্ষা করছিলেন।