মাদ্রাসার অশিক্ষক, শিক্ষকের চাকরি রক্ষার দাবি খারিজ
নিজস্ব সংবাদদাতা
নয়াদিল্লি, ১৩ জুলাই: পশ্চিমবঙ্গে ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মাদ্রাসায় নিযুক্ত শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মীদের চাকরি রক্ষা ও বেতনের দাবি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি জর্জ অগাস্টিন মসিহ-র বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মাদ্রাসায় কর্মরত ৩৬১ জন শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মী সমস্যার মুখে। তাঁদের দাবি ছিল, সমস্ত নিয়ম মেনেই তাঁদের নিয়োগ করা হয়েছিল। তাই তাঁরা রাজ্য সরকারের অনুদান প্রকল্প থেকে বেতন পাওয়ারও যোগ্য। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সমস্ত মামলাই খারিজ করে দিয়েছে।
২০০৮ সালের মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আইনকে ২০১৫ সালে ‘অসাংবিধানিক’ বলে খারিজ করে হাই কোর্ট সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষমতা তার পরিচালন কমিটির হাতেই রাখে। কিন্তু তৃণমূল সরকারের অবস্থান ছিল, নিয়োগ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। হাই কোর্টের রায় খারিজ করে ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্ট সেই দাবিকেই স্বীকৃতি দেয়। ইতিমধ্যে ২০১৬ থেকে ২০২০-র মধ্যে মাদ্রাসার পরিচালন কমিটি যাঁদের নিয়োগ করেছিল, তাঁরা চাকরি রক্ষায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁরা বেতন ছাড়াই কাজ করছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট ২০২৩ সালে কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি দেবীপ্রসাদ দে-র নেতৃত্বে কমিটি গড়ে। কমিটি এমন এক জনকেও পায়নি, যাঁদের ক্ষেত্রে সমস্ত নিয়ম মেনে নিয়োগ হয়েছে।
৩৬১ জনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট ১৩ জনের নিয়োগ নথি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। বিচারপতি দত্ত বলেন, এক জনের ক্ষেত্রেও সুরাহার প্রয়োজন হলে বাকিদের নথি দেখা হবে। তিনি বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘এক জনও আমাদের সন্তুষ্ট করতে পারেননি। তাই শুধু ১৩ জন নন, সকলের মামলাই খারিজ করা হচ্ছে।’’ মামলাকারীদের আইনজীবীরা জানান, তাঁরা রায় পর্যালোচনার আবেদন করতে পারেন।