অডিট হবে বেসরকারি উচ্চশিক্ষাঙ্গনে: শুভেন্দু
নিজস্ব সংবাদদাতা
তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে ‘ডিগ্রি-ব্যবসা’র দুর্নীতি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। গত ১৫ বছরে ব্যাঙের ছাতার মতো গজানো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, বিএড কলেজ, পলিটেকনিক, আইন কলেজের অডিট করা হবে বলে রাজ্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিকাশ ভবনে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ও আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ছাড়পত্র পাওয়া সব বেসরকারি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্পেকশন (তদন্ত) হবে। যদি দেখা যায়, তারা নিয়ম মেনে চলছে, বেতন কাঠামো ঠিক আছে, তা হলেই তারা অনুমোদন পাবে। শিক্ষাকে পণ্য হতে দেব না।”
স্মরণাতীত কালে প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী এলেন বিকাশ ভবনে। কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের অভাব ও রাজনৈতিক সংঘাতে শিক্ষাক্ষেত্রের নানা সঙ্কট নিয়ে সোমবার আলোচনা হয়েছে। উচ্চ শিক্ষায় কেন্দ্রীয় অনুদান প্রকল্প ‘রুসা’-এ রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অনুদান-সদ্ব্যবহার ভাল নয় বলে আঙুল তোলেন সুকান্তও। এই সংক্রান্ত নয়া প্রকল্প পিএম-উষা থেকে এত দিন দূরে থাকলেও রাজ্য দ্রুত তাতে শামিল হবে বলে জানান শুভেন্দু। যাদবপুরের মতো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ও মনে করে, কেন্দ্রের টাকার সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংযুক্ত অনুদানের টাকা আসতে দেরি হওয়ায় এত দিন সমস্যা হয়েছে।
আইআইএম কলকাতার মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৃণমূল আমলে সামান্য পুরসভার ছাড়পত্র মেলেনি বলে ৫০০ কোটির প্রকল্প আটকে বলে এ দিন রাজ্যের কাছে দরবার করা হয়েছে। শুভেন্দু জানান, আগের সরকারের নিস্পৃহতা বা বিরোধিতায় না মেলা কেন্দ্রের শিক্ষা সংক্রান্ত সব অনুদান রাজ্য পেতে শুরু করবে। প্রথমেই কম্পোজ়িট গ্রান্টের জন্য যোগ্য ৮১ হাজার স্কুলের বিষয়টি দেখা হচ্ছে। বেশ কিছু স্কুলে গরমে পাখার সমস্যা বা রান্নায় গ্যাসের আকাল দূর করা হবে বলেও মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস। ১ অগস্ট থেকে কলকাতার একাংশে ইসকনের মিড-ডে মিলও চালু হবে। স্কুল পরিচালনায় অভিভাবকদের রেখে বিধানসভায় নতুন বিল আসবে বলে জানান শুভেন্দু।
বিভিন্ন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রকল্পের জমি-জট পারস্পরিক সমন্বয়ে কাটানো নিয়ে আশাবাদী সুকান্তও।