১২৫ দিনের কাজ থমকে, বৈঠকে শিবরাজ-শুভেন্দু
চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য
পালাবদলের পরে রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাচ্ছে উল্লেখযোগ্য ভাবে। দায়িত্ব ছাড়ার হিড়িক পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জেতা পুরসভা-পঞ্চায়েতের বিভিন্ন পদাধিকারীদের। যাঁরা দায়িত্ব ছাড়েননি, তাঁদের অনেকে নিত্য কাজকর্ম সম্পর্কে কার্যত নির্লিপ্ত। ফলে নিবিড় ভাবে ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা প্রকল্প ভিবি-জি রাম জি (বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন গ্রামীণ) দ্রুত কার্যকর করা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে প্রশাসনেরই অন্দরে। এই পরিস্থিতিতে আজ, মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত এবং কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করতে চলেছেন।
গত ১ জুলাই থেকে চালু হয়েছে ভিবি-জি রাম জি। কিন্তু প্রশাসনিক সূত্রের খবর, রাজ্যের ৩৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে এখনও পর্যন্ত তা চালু করা গিয়েছে মাত্র ৪০০টিতে। কারণ, বেশির ভাগ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানেরা হয় দায়িত্ব পালন করছেন না, না হয় তাঁদের হদিসই নেই। অথচ এই প্রকল্প কার্যকর করার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা অনেক। ফলে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প কত দ্রুত গতি পাবে, তা নিয়ে চর্চা রয়েছে। অভিজ্ঞ আমলাদের একাংশ জানাচ্ছেন, পঞ্চায়েতের চালু ব্যবস্থা সংশোধন করে আধিকারিকদের দায়িত্ব বাড়িয়ে আপাতত (পঞ্চায়েত ভোট না হওয়া পর্যন্ত) পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পদক্ষেপ হতে পারে।
আধিকারিকেরা জানাচ্ছেন, কাজের পরিকল্পনা ও অনুমোদনের প্রশ্নে গ্রামসভার বৈঠক ও গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের ভূমিকা অনেক। তাঁদের ছাড়পত্রের পরেই তালিকাভুক্ত হয় কোনও কাজের পরিকল্পনা। ওই আধিকারিকেরা আরও জানাচ্ছেন, প্রায় ১৪,১৮০ কোটি টাকার বরাদ্দ রয়েছে এই প্রকল্পে। ফলে কাজ এবং প্রকল্পের পরিধি অনেক বড়। তাই সেই পরিকল্পনা যথাযথ না হলে শ্রমিকদের কাজ দেওয়া যাবে না উপযুক্ত সংখ্যায়। এক কর্তার কথায়, “যত টাকা রয়েছে, তাতে এক-একটি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রায় পাঁচ কোটি করে টাকা পাবে। সেই পরিমাণ অর্থে বিপুল গ্রামীণ পরিকাঠামোর কাজ করা সম্ভব। একই সঙ্গে নিশ্চিত করা যাবে ১২৫ দিনের কাজের সংস্থান।”
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ত্রিস্তর পঞ্চায়েতেই প্রায় ১১ হাজার শূন্যপদ তথা কর্মী সঙ্কট রয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরেই সেই হার প্রায় ৪০ শতাংশ। তার মধ্যে অনেক পদ রয়েছে নির্মাণ সহায়কের। যাঁরা প্রধানত প্রকল্পের কাজের দেখভাল করে থাকেন। তার পরেও জেলা স্তরে একই আধিকারিককে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সব প্রকল্পের কাজ করতে হচ্ছে। ফলে শূন্যপদ পূরণ না হলে এই প্রকল্প সামলানো কঠিন। যদিও কিছু দিন আগে প্রায় সাড়ে ছ’হাজার শূন্যপদ পূরণে ছাড়পত্র দিয়েছে নবান্ন। তার মধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে ৫৫০৯, পঞ্চায়েত সমিতিতে ৫৬৪ এবং জেলা পরিষদ স্তরে ৪৬৩টি পদ পূরণ হবে আগামী দিনে।
এই অবস্থায় আজ, মঙ্গলবার শিবরাজ-শুভেন্দুর বৈঠক হতে চলেছে। সেখানে কৃষি সংক্রান্ত ক্ষেত্রে নতুন পরিকল্পনা এবং কেন্দ্রের চালু প্রকল্পগুলি নিয়ে আলোচনা হবে। তেমনই পঞ্চায়েত ক্ষেত্রে ভিবি-জি রাম জি প্রকল্পের বাস্তবায়ন, গ্রামীণ পরিকাঠামো-রাস্তা-আবাস নিয়েও আলোচনা হবে।