প্রতারণায় অভিযুক্তের গাড়ি থেকে উদ্ধার বিপুল নগদ, প্রশ্নে তিন পুলিশকর্মীর উপস্থিতি
শুভাশিস ঘটক
গভীর রাতে শহরে একটি গাড়ি থেকে নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় এক জনকে গ্রেফতারের পরে অভিযোগ উঠেছে, কলকাতা পুলিশের এক ইনস্পেক্টর ও দুই কনস্টেবল ওই অপরাধে সহযোগিতা করেছেন।
পুলিশ সূত্রের খবর, গত ৬ জুলাই চুঁচুড়া থানার তদন্তকারীরা বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের বাগুইআটি থানা এলাকা থেকে সত্যরঞ্জন শীল ওরফে সোনা নামে এক ব্যক্তিকে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার করেন। পুলিশ সূত্রের দাবি, সত্যরঞ্জনের গাড়ি থেকে নগদ ৬ লক্ষ ৫৪ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার হয়। সেই টাকার উৎস কী এবং তা কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা নিয়ে সত্যরঞ্জনের থেকে কোনও সদুত্তর মেলেনি। সে নিজের গাড়িতে ওই টাকা পাচার করছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।
পুলিশ সূত্রের খবর, সত্যরঞ্জন ‘হ্যাবিচুয়াল অফেন্ডার’, অর্থাৎ তার বিরুদ্ধে পাঁচটিরও বেশি অপরাধের মামলা রয়েছে। ৬ জুলাই গাড়িতে সত্যরঞ্জন ছাড়াও কলকাতা পুলিশের প্রভাবশালী এক ইনস্পেক্টর এবং দুই কনস্টেবল ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে ওই তিন পুলিশকর্মী অসংলগ্ন কথা বলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ধৃতের গাড়িতে ওই তিন জনের উপস্থিত থাকার বিষয়ে একটি জেনারেল ডায়েরি করা হয়। এর পরে লালবাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে দাবি করছেন চুঁচুড়া থানার তদন্তকারীরা। কোন পরিস্থিতিতে এক জন 'হ্যাবিচুয়াল অফেন্ডার’-এর গাড়িতে উৎসহীন নগদ টাকা পাচার করার সময়ে ওই তিন জন উপস্থিত ছিলেন, লালবাজারের কর্তাদের কাছে তা খতিয়ে দেখার সুপারিশ করেছেন চুঁচুড়া থানার তদন্তকারী অফিসার।
সূত্রের খবর, ওই ইনস্পেক্টর লোকভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। সেখানেই ছিলেন ওই দুই কনস্টেবলও। চুঁচুড়া থানার বার্তা পাওয়ার পরে নড়েচড়ে বসেন লালবাজারের কর্তারা। এর পরে তড়িঘড়ি ওই ইনস্পেক্টরকে ব্যারাকপুরের ফার্স্ট ব্যাটালিয়নে বদলি করে দেওয়া হয়েছে বলে লালবাজার সূত্রের খবর। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ওই তিন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে কোনও বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, ওই ইনস্পেক্টর জোর করে জমি দখল এবং সেই জমিতে বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত ইডি-র মামলায় জেল হেফাজতে থাকা কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন উপ-নগরপাল শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। অভিযোগ, নিজের ঘনিষ্ঠ পুলিশকর্মীদের একাংশ, সমাজবিরোধী এবং নির্মাণ ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছিলেন শান্তনু। দুর্নীতির টাকায় শান্তনু ও তাঁর ঘনিষ্ঠ পুলিশ অফিসারেরা লাভবান হয়েছিলেন বলে সম্প্রতি আদালতে চার্জশিট পেশ করে দাবি করেছে ইডি।
চুঁচুড়া থানা সূত্রের খবর, সত্যরঞ্জনের একাধিক বেআইনি ব্যবসা রয়েছে। ওই সব ব্যবসায় বিভিন্ন উৎস মারফত দুর্নীতির কালো টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্রের খবর, সত্যরঞ্জন শুধু কলকাতা পুলিশের অফিসারদের একাংশেরই ঘনিষ্ঠ নয়, তাকে মাঝেমধ্যেই রাজ্য পুলিশের এসটিএফের সল্টলেকের অফিসে যাতায়াত করতে দেখা যেত। রাজ্য পুলিশের এসটিএফের এক ডিএসপি পদমর্যাদার অফিসারের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।