রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবেশী মহিলার সঙ্গে কথা বলছিলেন এক তরুণী। অভিযোগ, আচমকা পিছন থেকে এসে তাঁকে জাপটে ধরে যৌন হেনস্থার চেষ্টা করে স্থানীয় এক যুবক। পাড়ার কয়েক জন যুবক তার প্রতিবাদ করায় অভিযুক্ত ও তার সঙ্গীরা ওই যুবকদের বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার রাতে, উত্তর শহরতলির এই ঘটনায় এক জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে শুভঙ্কর দত্ত নামে এক জনকে গ্রেফতার করেছে। তবে মূল অভিযুক্ত-সহ বাকিরা পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, ওই তরুণী স্থানীয় বিজেপি কর্মী। ওই রাতে রাস্তায় এক জনের সঙ্গে কথা বলার সময়ে সেখান দিয়ে
যাচ্ছিল মূল অভিযুক্ত জগদীশ সিংহ। মত্ত অবস্থায় সে ওই তরুণীকে যৌন হেনস্থার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ, তরুণীর চিৎকারে স্থানীয় কয়েক জন যুবক ছুটে এসে প্রতিবাদ করলে
জগদীশের সঙ্গী শিবু আরও লোকজন ডেকে আনে। তারা এসে ওই তরুণীকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসা যুবকদের লাঠি, বাঁশ, ব্যাট দিয়ে এলোপাথাড়ি মারতে থাকে বলে অভিযোগ। সেই সময়ে স্থানীয়েরা বাইরে বেরিয়ে এলে চম্পট দেয় অভিযুক্তেরা।
জখম চার জনকে উদ্ধার করে বরাহনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তার মধ্যে তিন জনের মাথা ফেটেছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তিন জনকে ছাড়া হলেও এক জনকে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁকে কামারহাটির
সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়।
আহত শুভজিৎ কর্মকার বলেন, ‘‘ওরা ২০-২৫ জন ছিল। দিনের পর দিন এলাকায় বিভিন্ন অপরাধ করে চলেছে।’’ এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে
পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অভিযুক্তেরা সকলেই তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ বলে দাবি স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের। বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, ‘‘সর্বস্ব হারিয়েও যারা এ সব অসামাজিক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে, তাদের মনে রাখতে হবে, এখন আইনের শাসন চলছে। পুলিশকে বলেছি, দ্রুত ব্যবস্থা নিতে।’’ যদিও অভিযুক্তদের সঙ্গে দলের সম্পর্ক নেই বলেই দাবি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের।