বেড়ানোর ধারা বদলাচ্ছে বাঙালির। সঙ্গে বেড়ানোর গন্তব্যও। লম্বা ছুটিতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়ানোর বিকল্প হিসেবে অনেকেই এখন জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউ জ়িল্যান্ডকে রাখছেন পছন্দের তালিকায়। পিছিয়ে থাকছে না ভিয়েতনামও। এই বিকল্পের প্রতি গত কয়েক মাসে আরও কিছুটা ‘উৎসাহ’ বাড়িয়েছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি। ভ্রমণ-বিভ্রাট এড়াতে তাই অক্টোবরের পুজোর ছুটিতে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন সমুদ্র ঘেরা জাপান, নিউ জ়িল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াকে।
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের জেরে গত কয়েক মাস ধরেই উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। যুদ্ধের তীব্রতা কমলেও এখনও থামেনি। হামলা, পাল্টা হামলায় মাঝেমধ্যেই উত্তপ্ত হচ্ছে ওই অঞ্চল। যুদ্ধের জেরে গত কয়েক মাস ধরেই অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। জ্বালানির দামের প্রভাব এসে পড়েছে বিমান পরিবহণেও। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রায় ছ’মাস কাটলেও পরিস্থিতি যে স্বাভাবিক, তা অন্তত এখনই বলা যাচ্ছে না।
ভ্রমণপ্রিয় বাঙালির পছন্দের বেড়ানোর তালিকায় ইউরোপ উপরের দিকেই থাকে। সে সুইৎজ়ারল্যান্ডের সবুজ গালিচা হোক বা প্যারিসের আইফেল টাওয়ার— কে না একবার সামনে গিয়ে দাঁড়াতে চায়! পুজো হোক বা গরমের ছুটি, বাঙালির একাংশ বরাবর ইউরোপকেই বেছে নিয়েছে। শহরের ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, কলকাতা থেকে সরাসরি ইউরোপের বিমান সে অর্থে নেই। অধিকাংশ যাত্রীই দুবাই, আবু ধাবি বা দোহা থেকে উড়ান বদল করেন। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলের আকাশপথে অনিশ্চয়তা এবং বিমানের জ্বালানি খরচ ও সময় দুটোই বেড়েছে। দিল্লি বা মুম্বই থেকে ইউরোপের সরাসরি বিমান পরিষেবা থাকায় সেখানকার যাত্রীদের এই সমস্যা না হলেও কলকাতার ক্ষেত্রে যে সমস্যা বেশি, তা মেনে নিচ্ছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। এই সুযোগেই যে বিদেশের ‘বিকল্প’ জায়গার চাহিদা বাড়ছে, তা স্বীকার করে নিচ্ছেন তাঁরা।
কলকাতার জওহরলাল নেহরু রোডের একটি ভ্রমণ সংস্থার কর্ণধার পিনাকী মিত্র বলছেন, ‘‘ইউরোপের প্রতি বাঙালির আগ্রহ কমে গিয়েছে, এটা বলার সময় এখনও আসেনি। তবে এটাও ঠিক যে, ইউরোপের বিকল্প দেশগুলি নিয়ে বাঙালির আগ্রহ বাড়ছে। অনেকেই ঝামেলা এড়াতে বিকল্প জায়গা বেছে নিচ্ছেন। গত বছরের তুলনায় এই চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গিয়েছে।’’ এই আগ্রহের পিছনে শহরের পর্যটন ব্যবসায়ীদের আরও ব্যাখা, সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরে জাপান, অস্ট্রেলিয়া বা নিউ জ়িল্যান্ডের আবহাওয়া মনোরম থাকে। প্রকৃতিও অপরূপ রূপ ধারণ করে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে মার্চের পাশাপাশি এই সময়কে অনেকে বেছে নিচ্ছেন। ক্যামাক স্ট্রিট এবং সল্টলেকে ভ্রমণ সংস্থার অফিস রয়েছে সম্বুদ্ধ ঘোষের। তাঁর কথায়, ‘‘যুদ্ধের ছ’মাস পেরোলেও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। পর্যটকরা অনেকেই ওই এলাকা এড়াতে চাইছেন।"
‘ট্র্যাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল’-এর কার্যনির্বাহী সভাপতি প্রশান্ত মাঝির যদিও দাবি, ‘‘বাঙালির একটা বড় অংশ এখন চেনা জায়গা ছেড়ে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় যেতেই পছন্দ করেন। গত কয়েক বছর ধরে এটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পর্যটন ব্যবসাতেও তাই নতুন নতুন জায়গার চাহিদা বাড়ছে।’’