বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক কেন সরাসরি অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে না? কেন ফৌজদারি অপরাধ ধরে শাস্তির বিধান থাকবে না? কেন তার বদলে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ বা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা করতে হবে? নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে শনিবার প্রেস ক্লাবের একটি সাংবাদিক বৈঠক থেকে এমনই প্রশ্ন তুললেন রিমঝিম জৈন নামে এক মহিলা।
তাঁর দাবি, আইন সংশোধন করা হোক। বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে ভুক্তভোগীদের একজোট হতে ডাক দেন তিনি। সমাজমাধ্যমে হ্যাশট্যাগ ‘সারভাইভিং দ্য বিট্রেয়াল’ এবং হ্যাশট্যাগ ‘ওয়াইভস স্ট্যান্ডিং টুগেদার’ প্রচার করছেন।
এ দিন রিমঝিম দাবি করেন, বিয়ের ১২ বছর পরে সম্প্রতি জানতে পারেন, তাঁর স্বামী বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে দ্বিতীয় বিয়েও করেছেন। সেই দ্বিতীয় মহিলা অন্তঃসত্ত্বা। এর পরেই তাঁকে ছেড়ে অন্যত্র থাকতে শুরু করেন গুরুগ্রামবাসী স্বামী। রিমঝিমও তাঁর হাওড়ার বাড়িতে ফিরে আসেন। গুরুগ্রামে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার পরে হাওড়ার মহিলা থানায়ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসভঙ্গ, ভীতি প্রদর্শন, প্রতারণা এবং সম্মিলিত অপরাধের ধারায় মামলা হয়। মহিলা জানতে পারেন, তাঁর স্বামী দেশ ছাড়ছেন। পুলিশকে জানানোয় মুম্বই থেকে স্বামীকে গ্রেফতার করে হাওড়ায় আনা হয়। তিন দিন পুলিশ হেফাজতে থাকার পরে বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত।
রিমঝিমের দাবি, ‘‘অন্য একাধিক ধারায় মামলা হলেও বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের কোনও ধারা নেই। হিন্দু বিবাহ আইনে দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ। পুলিশ জানিয়েছে, বিয়ের প্রমাণ দিতে হবে। তা হলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৮২(২) ধারায় বিচ্ছেদ না হওয়া সত্ত্বেও এবং আমার জীবিত অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীর শাস্তি হতে পারে। কিন্তু প্রমাণ পাব কোথায়?’’
আইনজীবী কল্লোল বসু বলছেন, ‘‘ব্যাভিচার বিবাহবিচ্ছেদের কারণ হিসাবে দেখানো যেতে পারে। কিন্তু ফৌজদারি মামলার সুযোগ আর নেই। আগে ছিল, সেটাকে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছে। তবে মহিলা যদি মানসিক যন্ত্রণার অভিযোগ করতে চান, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৮৫ নম্বর ধারায় সুযোগ রয়েছে।’’ ওই আইনজীবীর ব্যাখ্যা, হিন্দু বিবাহ আইনে বিচ্ছেদ না করে দ্বিতীয় বিয়ে করা যায় না। ফলে সেটা স্বীকৃত নয়। তবে তাঁর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে সন্তান হলে সে অবশ্যই বাবার সম্পত্তির দাবিদার হবে।
আইনজীবী অরূপ চক্রবর্তীর মন্তব্য, ‘‘সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দ্বিতীয় বিয়ের প্রমাণ দিতে পারলে নতুন ধারা যুক্ত হবে। তবে মহিলা তো আইন পর্যালোচনার আবেদন নিয়েই আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।’’