জয় এল, তবুও হাতছাড়া হল খেতাব।
লিগের শেষ ম্যাচে নামার আগে অঙ্কটা ছিল কোল ইন্ডিয়াকে ন্যূনতম পাঁচ গোলের ব্যবধানে হারাতে হবে ইস্টবেঙ্গলকে। সেই সঙ্গে বারাসতে মোহনবাগান বনাম মহমেডান ম্যাচ ড্র হতে হবে এবং ইউনাইটেড স্পোর্টসের বিরুদ্ধে ভবানীপুরকে কোনও ভাবে জিতলে চলবে না।
সেই সমীকরণ তখন প্রায় মিলতে শুরু করেছে। আর সমর্থকদের মনের মধ্যে বাজতে শুরু করে দিয়েছে সেই বিখ্যাত গান— ‘আমার স্বপ্ন যে সত্যি হল আজ।’
আচমকা লাল-হলুদ গ্যালারিতে পিন পতনের নিঃস্তব্ধতা। ব্যাপার কী? জানা গেল, চলতি মরসুমে ইস্টবেঙ্গল ছেড়ে মোহনবাগানে যোগ দেওয়া সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোলে এগিয়ে গিয়েছে সবুজ-মেরুন। তার পরে আরও দু’গোল করল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু মহমেডান আর গোল করতে পারেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত সায়নের গোলে ৭ পয়েন্ট নিয়ে লিগ জিতল মোহনবাগান। তাতে ইস্টবেঙ্গলের গোল পার্থক্যের হিসেব হয়ে গেল মূল্যহীন। সেই সঙ্গে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে সাত গোলে জিতেও হতাশাই সঙ্গী
হল আকাশদের।
এর পরের ছবিটার জন্য বোধ হয় সাংবাদিকরা শুধু নয়, প্রস্তুত ছিলেন না আকাশরাও। তাঁরা তখন মাঠে মুখ নিচু করে বসে। আচমকা করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠল ইস্টবেঙ্গল মাঠ। আকাশ, মহম্মদ বিলালের নামে উঠল জয়ধ্বনি। লড়াকু যোদ্ধাদের সম্মান জানাতে ভুললেন না সমর্থকরা— “লিগ না জিতলেও তোমাদের কৃতিত্ব কিছুমাত্র কম নয়। মোহনবাগানের দুই রাউন্ড (গ্রুপ পর্ব ও সুপার সিক্স) মিলিয়ে পয়েন্ট ৩০। সেখানে আমাদের ৩২ পয়েন্ট”। দেখে কে বলবে, ট্রফি চলে গিয়েছে পড়শি ক্লাবে।
গ্রুপ পর্বে যে ইস্টবেঙ্গলকে দেখা গিয়েছিল, সুপার সিক্সের প্রথম দুই ম্যাচে সেই দলকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ইস্টবেঙ্গল শেষ ম্যাচে স্বমেজাজে ফিরল, কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গিয়েছে। এ দিন জোড়া গোল করলেন আকাশ এবং বিজয় মুর্মু। বাকিরা হলেন মহম্মদ বিলাল, তন্ময় দাস এবং উত্তম হাঁসদা।
ম্যাচের পরে হতাশ গলায় ইস্টবেঙ্গলের কোচ অর্চিষ্মান বললেন, “সুপার সিক্সে ইউনাইটেড স্পোর্টসের বিরুদ্ধে ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করাই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিল। তবে ছেলেরা লড়াই করেছে। এটাই আমাদের প্রাপ্তি।”
‘লড়াই করেও লিগ হাতছাড়া’— এক কথায় এটাই কাহিনি ইস্টবেঙ্গলের!
ইস্টবেঙ্গল: গৌরব সাউ, শুভ বিশ্বাস, সোনম সেওয়াং, মনোতোষ চাকলাদার, জয় বাজ় (সৌমিক কোলে), তন্ময় দাস, অনন্ত এন এস, আকাশ হেমব্রম, দেবদত্ত এস (উত্তম হাঁসদা), বিজয় মুর্মু, মহম্মদ বিলাল।