দশ জনে খেলে মহমেডান স্পোর্টিংকে ৩-২ হারিয়ে লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরে শুভাশিস বসুরা গ্যালারির দিকে তাকিয়ে কি তাঁদের খুঁজছিলেন, যাঁরা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সমালোচনার তিরে বিদ্ধ করেছেন? সাংবাদিক বৈঠকে মোহনবাগান অধিনায়ক বললেন, ‘‘জীবনে উত্থান-পতনের মতো সমালোচনাও থাকবে। মুখে জবাব না দিয়ে আমাদের কাজ মাঠে নেমে নিজেদের প্রমাণ করা। এত বড় ঐতিহ্যশালী ক্লাব যদি একটা বছরও ট্রফিহীন থাকে, আমাদের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন।’’
শুভাশিসের মতোই সমালোচনার তিরে বিদ্ধ হতে হয়েছে কোচ বাস্তব রায়কে। মোহনবাগানে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। তিনিও বললেন, ‘‘যাঁরা সমালোচনা করতে চেয়েছেন, করেছেন। আমি নিজের কাজ করে গিয়েছে। এই ফলই
তার প্রমাণ।’’
শুভাশিস-বাস্তবদের কাছে লিগ জয় ছিল সমালোচনার জবাব। কিন্তু সায়নের কাছে ছিল নিজেকে প্রমাণ করার লড়াই। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে টানা দু’বার কলকাতা লিগ জিতে এ বারই যোগ দিয়েছেন সবুজ-মেরুন শিবিরে। পরিবর্ত হিসেবে নেমে গোল করে চ্যাম্পিয়ন করেছেন মোহনবাগানকে। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া ছেড়ে ফুটবলার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া সায়ন বললেন, ‘‘জয়সূচক গোল করে ভাল লাগছে ঠিকই। কিন্তু সকলে মিলে লড়াই না করলে এই সাফল্য পেতাম না।’’ সাহালের কথায়, ‘‘বেশি আনন্দ হচ্ছে সমর্থকদের জন্য। লিগ জয়ের লক্ষ্যপূরণ। এ বার আমার পাখির চোখ ব্রাজ়িল ম্যাচ।’’
মোহনবাগানের লিগ জয়ের উল্লাসের মধ্যেও প্রশ্ন উঠছে কলকাতা লিগের নিয়ম নিয়ে। গ্রুপ পর্বে ইস্টবেঙ্গল ১১ ম্যাচ থেকে ২৭ পয়েন্ট অর্জন করে শীর্ষ স্থানে শেষ করেছিল। মোহনবাগানের পয়েন্ট ছিল ২৩। সুপার সিক্সের পয়েন্ট যোগ করলে ইস্টবেঙ্গলের হয় ৩২ পয়েন্ট। মোহনবাগানের ৩০। আইএফএ-র অদ্ভুত নিয়মে গত কয়েক বছর ধরেই গ্রুপ পর্বের পয়েন্ট গ্রাহ্য হয় না
সুপার সিক্সে!
মোহনবাগান শিবিরে উৎসবের সন্ধেয় আঁধার মহমেডানে। কোচ সাহিদ র্যামন বললেন, ‘‘১০ জনের বিরুদ্ধে ২-১ এগিয়ে গিয়েও যে হেরে যাব, এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না।’’