১৯ সেপ্টেম্বর: অবশেষে জাতীয় নির্বাচক প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন অজিত আগরকর। জানা গিয়েছে, আগরকর তাঁর সিদ্ধান্তের কথা ভারতীয় বোর্ডকে জানিয়ে দিয়েছেন। বোর্ড এ বার নতুন চেয়ারম্যানের খোঁজ করবে।
আগরকরকে যে নির্বাচক প্রধানের পদ থেকে সরতে হবে, তার ইঙ্গিত ছিল শনিবারের আনন্দবাজার পত্রিকায়। সেটাই হল শেষ পর্যন্ত। আগরকরের মেয়াদ অবশ্য এই মাসেই শেষ হচ্ছে। কিন্তু এক বছর পরেই দক্ষিণ আফ্রিকায় ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ। তাই মনে করা হচ্ছিল, আগরকর হয়তো আরও একটা বছর থেকে যাবেন। কিন্তু তা হল না। ভারতীয় বোর্ডই আর চায়নি আগরকর থাকুন। বাধ্য হয়েই সরে যেতে হল তাঁকে। প্রতিকূল পরিস্থিতি দেখে আগরকর নিজেই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন বোর্ডকে।
এও জানা গিয়েছে, রোহিত শর্মা-বিতর্কও আগরকরের সরে যাওয়ার অন্যতম কারণ। গত ইংল্যান্ড সফর চলাকালীন সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, লর্ডসের একদিনের ম্যাচের পরে অবসর নেবেন রোহিত। তাঁকে নাকি আর ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য ভাবা হচ্ছে না। নির্বাচকরা সামনের দিকে তাকাতে চান। সে কথা নাকি রোহিতকে জানিয়েও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওই ম্যাচে অসাধারণ শতরান করে সমালোচকদের চুপ করিয়ে দেন রোহিত। এর পরে বোর্ড সরাসরি রোহিতের পাশে দাঁড়িয়ে বিবৃতি দেয়। যা দেখে আগরকর বুঝে যান, পরিস্থিতি খারাপ। বোর্ডের শেষ রিভিউ মিটিংয়ে অনুপস্থিত ছিলেন আগরকর। এমনকি, অনলাইনেও তিনি যোগ দেননি। তখন থেকেই ছবিটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল।
একইসঙ্গে শোনা যাচ্ছে, বোর্ডের সেন্টার অব এক্সেলেন্সের দায়িত্বে থাকা ভি ভি এস লক্ষ্মণের সঙ্গেও নাকি সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল আগরকরের। তাঁর সরে যাওয়ার নেপথ্যে এটা অন্যতম কারণ। একটা সময় মনে করা হয়েছিল, কোচ গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে যে-হেতু আগরকরের সম্পর্ক ভাল, তাই তিনি হয়তো নির্বাচক প্রধানের পাশে দাঁড়াতে পারেন। বিশেষ করে যখন আর মাত্র এক বছর দূরেই বিশ্বকাপ। কিন্তু বোর্ডের ক্ষমতাসীন কর্তারা নাকি রাশ নিজেদের হাতে রাখতে চাইছেন। ফলে আগরকরের ভাগ্যরেখা খুব স্পষ্ট
হয়ে গিয়েছিল।
আগরকর সরে যাওয়ার পরে কাকে নির্বাচক প্রধান বাছবে বোর্ড? জানা গিয়েছে, কোনও হেভিওয়েট প্রার্থী পছন্দ বোর্ডকর্তাদের। প্রাক্তন অফস্পিনার হরভজন সিংহকেও নাকি বাজিয়ে দেখা হয়েছিল। জানা গিয়েছে, তিনি খুব আগ্রহী নন। ফলে বোর্ডকে এখন অন্য দিকে তাকাতে হবে। পার্থিব পটেল-সহ ভেসে উঠেছে আরও কয়েক
জনের নাম।
বোর্ডের সঙ্গে আগরকরের দূরত্বটা পরিষ্কার হয়ে যায় যখন রোহিতের পাশে দাঁড়িয়ে বিবৃতি দেন বোর্ড সচিব দেবজিৎ শইকিয়া। বোর্ডের এক সূত্র সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেছে, ‘‘ওই দিনেই সম্ভবত আগরকর বুঝে গিয়েছিল যে, ওর পক্ষে আর দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়। চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে যেতে হবে। এমনকি, আগরকর জানতও না রোহিতের পাশে দাঁড়িয়ে বিবৃতি দিয়েছে বোর্ড। যখন জানল, বুঝে যায়, ভারতীয়
ক্রিকেটের বড় মাথাদের নিয়ে একচেটিয়া সিদ্ধান্ত আর তার কমিটি নিতে পারবে না।’’
বোর্ড চেয়েছিল রোহিতের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেন দুম করে সিদ্ধান্ত না নেন আগরকর। আবার উল্টো দিকে নির্বাচক প্রধানের পছন্দ ছিল যশস্বী জায়সওয়াল। আগরকর মনে করেছিলেন, বিশ্বকাপ দলে রাখতে গেলে যশস্বীকে অন্তত ২০টি একদিনের ম্যাচ খেলার সুযোগ দিতে হবে। রোহিত থাকলে যেটা সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে রোহিতই ওপেন করবেন। কিন্তু বোর্ড বুঝিয়ে দেয়, সেই সিদ্ধান্ত আগরকর নিতে পারবেন না। কোচ গম্ভীরও ঢাল হয়ে উঠতে পারলেন না। ক্রিকেটারদের ফিটনেস সংক্রান্ত সমস্যা নিয়েও নাকি সিওই প্রধান লক্ষ্মণের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়েছিল আগরকরের। ক্রিকেটারদের ফিটনেস সংক্রান্ত প্রশ্নে সিইও যে ভাবে সমালোচনার মুখে পড়েছিল, সেটা খুশি করেনি লক্ষ্মণকে।