কাল থেকে আর নেই।
অথচ এরই জন্য এক দিন সে দেশ ছেড়েছিল। ছেড়ে এসেছিল একটা ছোট্ট মফস্সল, পিচ-ওঠা রাস্তা, কিছু মুখ। রিটায়ারমেন্টের অনুষ্ঠান থেকে ফিরে এসে আবেশ আজ এ-সব ভাবছিল। এমন সময় মোবাইলটা বেজে উঠল। ধরতেই এক কোলিগের গলা, “স্যর, ঠিকঠাক পৌঁছেছেন তো?”
“হ্যাঁ, থ্যাঙ্ক ইউ। অল ইজ় ওয়েল।”
“ওকে স্যর। হ্যাভ এ ওয়ান্ডাফুল রিটায়ার্ড লাইফ।”
“থ্যাঙ্কস এগেন।”
ফোনটা কেটে গেল।
ফের ভাবনাটায় ফিরে গেল আবেশ। যেতে যেতে কখন ঘুমিয়ে পড়ল। উঠে দেখল, বেলা শেষ। আশপাশের ছাদে লালচে বিকেল।
এ দেশের বিকেলগুলো এরকমই। প্রায় গাছহীন। চারপাশে উঁচু-উঁচু টাওয়ার, মাল্টিপ্লেক্স কমপ্লেক্স, সার সার ফ্ল্যাট। এ রকমই একটা বিলাসবহুল বিল্ডিংয়ে বিকেল পাঁচটা নাগাদ উঠে আবেশ আজ বাইরে এল। এসে করিডর দিয়ে হাঁটতে যাবে, এক ফ্লোর-ক্লিনার হঠাৎ প্রশ্ন ছুড়ল, “স্যর, আপনার হাতে রক্ত কেন?”
“রক্ত! কোথায়!”
“আপনার হাতদুটো দেখুন।”
আবেশ হাতদুটো ওল্টাল। চমকে উঠল। ঠিকই। হাতের তালুদুটো কেমন লালচে-লালচে। চাপ-চাপ রক্ত ফুটে উঠেছে। কিন্তু কী করে!
পরদিনই এক জন বড় ডাক্তারকে দেখাল সে। এ দেশেরই। ডা. তাহির খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করলেন। তার পর জানালেন, হাতের তালুতে চাপ-চাপ রক্ত ফুটে ওঠা বা ত্বকের নীচে রক্তরঞ্জিত দাগ দেখা যাওয়া কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। এটি সুপারফিশিয়াল থ্রম্বোফ্লেবিটিস, সিফিলিস, আঘাত বা রক্তনালির কোনও অন্তর্নিহিত রোগের লক্ষণ হতে পারে। জানিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “আজই প্রথম দেখলেন এ রকম?”
“হ্যাঁ, স্যর।”
“কখনও কোনও আঘাত-টাঘাত পেয়েছিলেন কি?”
মাথা নাড়ল আবেশ, “না, না!”
“ব্যথা আছে?”
“না তো!”
ফোলা-টোলাও নেই। তা হলে? ডা. তাহির একটা প্যাড টেনে নিলেন। তার পর অনেকগুলো ওষুধ লিখে দিলেন তাতে। সঙ্গে কিছু পরীক্ষা।
দু’দিন বাদেই দাগটা চলে গেল। তবু পরীক্ষাগুলো করে নিল আবেশ। তার পর ডা. তাহিরের ওয়টস্যাপে রিপোর্টগুলো পাঠিয়ে লিখল, “যাক, দাগটা গেছে। বড় চিন্তায় ফেলেছিল।”
ডা. তাহির লিখলেন, “রিপোর্টগুলোও ঠিকঠাক। কিচ্ছু মেলেনি। ওকে, ডোন্ট ওরি।”
কিন্তু পুরো সপ্তাহও কাটল না, আবার সেই রক্ত! ডা. তাহির ভুরু কুঁচকোলেন। আরও একটু সময় নিয়ে পরীক্ষা করলেন এ বার। তার পর বললেন, “আচ্ছা, গত সপ্তাহেও আপনি এই দিনই এসেছিলেন না?”
“হ্যাঁ। এই দিনই।”
“কী বার ছিল যেন?”
“ফ্রাইডে।”
“আজও তো তাই?”
“হ্যাঁ স্যর।”
“স্ট্রেঞ্জ!” তাহির যেন কী ভাবলেন। তার পর হঠাৎই প্রেসক্রিপশনের পিছনে কী একটা লিখলেন। হাতে নিয়ে আবেশ থ! দেখল, কোনও ওষুধের নাম নয়। শুধু এক জন মানুষের নাম লেখা, ডা. আজিজ। একজন নামকরা মন-চিকিৎসক। তাঁকে দেখাতে বলা হয়েছে। তাঁকে কেন! আবেশ ঘাবড়ে গেল। ডা. তাহির কোনও স্পষ্ট উত্তর করলেন না। শুধু জানালেন, “লেট হিম সি।”
অগত্যা। আকাশ-পাতাল ভাবতে ভাবতে বেরিয়ে এল আবেশ।
বাইরে দাঁড় করানো তার নিজস্ব দামি গাড়ি। সামনে ড্রাইভার। পিছনের সিটে এসে বসতেই গাড়ি ছুটল। আজ এসি বন্ধ, জানলা খোলা। চোখেমুখে বাইরের হাওয়া এসে লাগছে। খানিক আনমনা হয়ে গেল আবেশ। কবেকার সব ছবি ভেসে উঠতে লাগল চোখের পর্দায়। ফেলে আসা একটা বাড়ি, পাড়া, রাস্তা। কিছু মুখ কি ইট-চাপা ঘাসের মতো? মরে না? ইট সরালে দেখা যায়, হলদে হয়ে গেছে! ভাবতে ভাবতে এ রকমই একটা মুখ ফুটে উঠল তার মনে…
আবেশ তখন বেকার। এলাকারই একটা টুরিস্ট বাসে চেপে বেড়াতে গিয়েছিল। পাশের সিটে এসে বসেছিল একটি মেয়ে। লম্বা, পানপাতা মুখ, চোখে গগলস আর সাদা জরির কাজ করা নীলচে শাড়িতে ফাটাফাটি। খানিক বাদে একটু আলাপ হয়। একটুই। কিন্তু জায়গাটায় পৌঁছেই আর দেখা নেই। খুঁজতে খুঁজতে দেখে, সন্ধে নামা একটা বাঁধের উপর একা-একা সে দাঁড়িয়ে। আবেশ পাশে গিয়ে প্রশ্ন ছোড়ে, “কী দেখছেন? বাড়িঘর?”
ঘাড় ফিরিয়ে তাকায় সে। বলে, “না। পাখিগুলোকে।”
“কোথায়?”
“ওই তো, বাঁ দিকটায়। দিনের শেষে ঘরে ফিরছে।”
“বাহ্, দারুণ তো! মানুষও কি এ রকম ফেরে?”
“হয়তো ফেরে।”
“কেন বলুন তো?”
একটু চুপ করে থেকে বলে, “কে জানে। হয়তো না ফিরলে মানুষ হারিয়ে যায়।”
কথাটা মনে পড়তেই চমকে উঠল আবেশ। যেন সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে কানে বেজে উঠল কবেকার সেই কথাটা! ভাবল, দেখতে দেখতে আজ চৌত্রিশটা বছর হয়ে গেল সে দেশছাড়া। শেষ এক বার গিয়েছিল বহু বছর আগে। আর ফেরেনি। পারেনি। সে কি হারিয়ে গেছে?
ছত্রিশ তলায় ফ্ল্যাট। ফলে লিফ্টেই ওঠানামা। রুমে ঢুকতেই নামী পানশালার মতো একটা নীলচে আলো, হালকা গন্ধ, হিমেল স্পর্শ। খানিক ধাতস্থ হতে ফুটে উঠল, কোণের একটা নরম সোফার ভিতর ডুবে আছে শাইমা। শাইমা খাতুন, তার স্ত্রী। এ দেশের মেয়ে। ইংরেজিতেই প্রশ্ন ছুড়ল, “কী বললেন, ডক্টর তাহির?”
আবেশ সবিস্তার জানাল।
শুনেই লাফিয়ে উঠল শাইমা, “হোয়াট আ মিস্টিরিয়াস ফান!”
*****
ডা. আজিজ বাড়িতেই বসেন। চোদ্দো জনের পর ডাক পড়ল আবেশের। বসতে বললেন ডা. আজিজ। প্রেসক্রিপশন, কেস-হিস্ট্রি আগেই জমা নেওয়া। দেখে কপালে ভাঁজ। বললেন, “মিস্টার আবেশ, আপনার সব রিপোর্ট অ্যান্ড রিমার্কস দেখলাম। ভেরি ইনডিসিসিভ, আই হ্যাভ নেভার সিন লাইক দিস বিফোর। এখনও কি হাতদুটোয় রক্ত ভেসে উঠছে?”
আবেশ নতমুখ, “হ্যাঁ স্যর।”
“কোনও ব্লাড থিনার নেন কি?”
“না, না।”
ডা. আজিজ আর কিছু জিজ্ঞেস করলেন না। কথায় কথায় শুধু জানলেন, লোকটি এক জন ভারতীয়। গ্রামীণ এক মফস্সলে বড় হয়েছে। বাবার সামান্য আয়। কিন্তু ছেলের কোনও সাধ অপূর্ণ রাখেননি। নিজেরা কষ্টে থেকে ছেলের জন্য ভাল শিক্ষক রেখেছে। পড়িয়েছে। এ ভাবে স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর পর তাদের সেই একমাত্র আদরের সন্তানটি যখন বহু দূরের একটা কলেজে পড়তে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়, বাবা আমতা-আমতা করে বলেন, “খোকা, কাছেপিঠে কোনও কলেজে পড়লি হত না?”
খোকা বোঝায়, “পাশ হলেই তো ফিরে আসব।”
“তা ঠিক। কিন্তু চাকরি পেলি তো আবার যেতি হবে’খন?”
“তা তো হবেই।”
“শুনিচি অনেকে বিদেশি চলি যায়, তুইও কি চলি যাবি?”
“আরে না না।”
শুনে বাবা-মা হাসেন। বলেন, “তালি যা। বড় হ’ গে।”
চার বছর পর খোকা বড় হয়ে ফিরে আসে। সেই হাসি, চেহারা, স্কুল থেকে ফিরে “ও মা, মা-আ!” বলে ডেকে ওঠাটি নেই। কী দারুণ ছবি আঁকত। আর আঁকে না। এমবিএ পড়তে এ বার আর-এক কলেজে যায়। কিন্তু সেখান থেকে আর ঘরে ফেরা হয় না। বিদেশে যাওয়ার একটা মস্ত অফার আসে। বড় কোম্পানি, প্রচুর টাকা মাইনে। সঙ্গে সঙ্গে ছেলে রাজি। মা বলে, “আমাদের ছেড়ে অত দূর চলি যাবি, খোকা?”
শুনেই খোকা খেপে যায়, “কত টাকা মাইনে জানো!”
“তা ঠিক। কিন্তু তুই যে আমাদের এট্টা-মাত্তর সন্তান।”
“তাতে কী! ওফ! ও-সব ছাড়ো তো। অনেক থেকেছি তোমাদের সঙ্গে। এ বার আমাকে মুক্তি দাও বুঝলে, মুক্তি দাও।”
বাবা ততক্ষণে যেন একটা মুঠো করা কাগজের মতো। দুমড়ে যাচ্ছিল। ভয়ে-ভয়ে বলে, “হ্যাঁ রে খোকা, কিন্তু এখানেও যে শোনলাম ম্যালা টাকার চাকরি পেইছিস। ওতি হবে না?”
খোকা অমনি গম্ভীর, “লাগে লাগে। তুমি আর কী বুঝবা?”
বাবা কেন্নোর মতো গুটিয়ে যায়। মাও আর কথা বলে না।
পরদিন তার সঙ্গে দেখা। পানপাতা মুখ, নীলচে শাড়ি। নাম খেয়া। এখানেই থাকে। আলাপটা থেকে ক্রমশ সম্পর্ক। তার হাত ধরে একটা বকুল গাছের নীচে দেখা হয় দু’জনের। বাবাই প্রথম চিনিয়েছিল বকুল গাছটা। খুব ফুল হত। গন্ধে ম-ম করত জায়গাটা। এক নির্জন কোর্ট রোডের ধারে। শীতের সকালে মা-ও ফুল কুড়োতে যেত আবেশকে নিয়ে।
এমন এক গাছ! কত স্মৃতি, স্বপ্ন… তার নীচে। সেই গাছটাকেই সাক্ষী রেখে আবেশ এক দিন কথা দেয়, চাকরি পাওয়ার পর ঘর বাঁধবে তারা। সেই ঘরে তার বাবা-মা'কেও নিয়ে যাবে। সেই কথা খেয়া মনে করাতে আবেশ হঠাৎই উত্তেজিত হয়ে পড়ে। বলে, “আরে, আমি কি একেবারে চলে যাচ্ছি? ক’টা বছর পরেই তো ফিরে আসব। ক’টা দিনের জন্য কেউ এত টাকার চাকরি ছেড়ে দেয়!”
“কী ছাড়ে তা হলে?”
“মানে!” অবাক হয় আবেশ।
খেয়া চোখ তোলে। চুপ করে তাকিয়ে থাকে। তার পর বলে, “আমার কাছে কী চাইছ?”
“অপেক্ষা। বিশ্বাস করো... ”
“বেশ!” খেয়া আর কথা বাড়ায় না। খানিক বাদে দু’জন দু’দিকে চলে যায়। বকুল গাছটা একা পড়ে থাকে।
দেশ ছাড়ার দিন সকাল থেকে বৃষ্টি। দিনটা শুক্রবার ছিল। আবেশের বাবা, মা, খেয়া এয়ারপোর্টের লাউঞ্জে সার সার দাঁড়িয়ে থাকে। চোখে জল। আবেশ পিছন ফিরে হাত নাড়ে। তার পর ভিতরে ঢুকে যায়। আর ওকে দেখা যায় না। খানিক বাদে বহু দূর উড়ে যায়। এ ভাবে এক বছর, পাঁচ বছর, দশ বছর...
খেয়া আর বকুল গাছটার নীচে যায় না। বাবা-মাও কিসের একটা ব্যথা ভুলে থাকার চেষ্টা করে সারা দিন। শুধু মাঝেমধ্যে টিনের একটা বাক্স থেকে এটা-ওটা বার করে আনে আবেশের মা। এ রকমই একটা জিনিস দেখিয়ে এক দিন বলে, “দ্যাকো দ্যাকো, খোকার এই জামাটা দ্যাকো! পুজোর সময় তুমি কিনি দেছিলে না?” খোকার বাপ উত্তর দেয় না। চোখ মোছে।
এ সবই আবেশ শুনেছিল মাঝাসাঝে বাড়িতে ফোন করে। পরে আর তেমন ফোন করত না। শেষমেশ এ দেশেই বিয়ে। নিঃসন্তান। স্ত্রী বড় চাকরি করে। সকাল হলেই অফিসে চলে যায়। সেখান থেকে বেরিয়ে পার্টি। রাত অবধি বাইরে। আবেশ এখন সারা দিন উঁচু এক বিদেশি ফ্ল্যাটে থাকে। রিটায়ার্ড। উচ্চতাটা তাকে খেতে আসে। রোজ। বলতে বলতে গলা ধরে গেল আবেশের।
ডা. আজিজ চুপ। শুনতে শুনতে যেন কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলেন। বেরিয়ে আসতে একটু সময় নিলেন। একটু চুপ করে থেকে বললেন, “একটা কথা বলব, মিস্টার রয়?”
“অফ কোর্স!” আবেশ মুখ তুলল।
“আই উড লাইক টু সাজেস্ট, আপনি এ বার দেশে ফিরে যান।”
“মানে!” অবাক হয় আবেশ।
“ইয়েস, ইট’স মাই ট্রিটমেন্ট। হয়তো ওখানেই আপনার এই রোগের শিকড় পড়ে আছে। তাকে তুলতে গেলে তো সেই মাটির কাছেই যেতে হবে আপনাকে।”
*****
প্লেনটা মাটি ছুঁতেই আবেশের কান্না পেল। স্কুলে গাওয়া একটা গান বেজে উঠল তার বুকের ভিতর, “ও আমার দেশের মাটি...”
পথঘাট আর আগের মতো নেই। তাদের ছোট্ট একতলা বাড়িটাও কেমন ভাঙাচোরা, বিবর্ণ, পোড়ো বাড়ির মতো। দরজা খুলতেই মা। মা কেমন বয়স্ক হয়ে গেছে! চিনতেই পারছিল না একদম। তার পর চোখ পিটপিট করে খানিক তাকিয়ে থেকে বলল, “কে, খোকা?”
আবেশের চোখে জল। হাসল।
পাগলের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল মা। পাশে মশারি টাঙানো খাটে এক জন রুগ্ণ মানুষ শুয়ে আছে। তাকে ডেকে বলল, “কই, শুনতি পাচ্ছ? খোকা, আমাদের খোকা এয়েচে।”
“খোকা! কই… কোথায়!” বাবা এদিক-ওদিক হাতড়াতে লাগল।
বাবা কি এখন চোখে ভাল দেখতে পায় না? আবেশ তাড়াতাড়ি মশারি খুলল। বাবাকে জড়িয়ে ধরল।
রাতে খেতে খেতে খেয়ার কথা উঠল। জানা গেল, খেয়া এখন বিধবা। এক মেয়ে। কাছেই থাকে। দু’দিন বাদে হাঁটতে হাঁটতে আবেশ সেই বকুল গাছটার কাছে গেল। খানিক বাদে আরও একটা মানুষ এসে দাঁড়াল সেই গাছতলাটায়। কত যুগ পর! একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে খেয়া। ঠোঁটে এক অদ্ভুত চিলতে হাসি। ধারালো ছুরির মতো। কেটে যায়। বলল, “তার পর?”
“এই তো।”
“জানতাম, তুমি ফিরবে।”
“তার মানে!”
“ছাড়ো। ফোনে কী একটা বলছিলে, কী হয়েছে হাতে?”
“জানি না। বাদে বাদে দু’-হাতে একটা রক্তের দাগ ফুটে ওঠে।”
“কেন, তুমি কি কিছু খুন করেছিলে?” খেয়ার চোখে সেই অদ্ভুত চিলতে হাসি।
আবেশ চমকে উঠল, “খুন!”
তোলপাড় হল সে। কথাটার মানে কী! সে কি সত্যিই কাউকে খুন করেছে! কাকে! তাকিয়ে দেখল, বকুল গাছটা অনেক বদলে গেছে। তার বাবা-মার মতো। খেয়ার মতো। কেমন ছায়াহীন, পাতা ঝরা। ভাবল, এ ভাবেও কি কেউ অপেক্ষা করে! কারও জন্য!
ছবি: সৌমেন দাস