সুদের হার বাড়ল আমেরিকায়। তিন বছরেরও বেশি সময় পরে। আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ফেডারাল রিজ়ার্ভ-এর প্রধান কেভিন ওয়ার্শ বলেছেন, মূল্যবৃদ্ধি যে ভাবে মাথাচাড়া দিচ্ছে, তাতে সুদের হার না বাড়িয়ে উপায় ছিল না। সুদ বেড়েছে মাত্র ০.২৫ শতাংশ-বিন্দু, কিন্তু তা নিয়েই হইচই পড়েছে। ব্যাঙ্কের যে কমিটি সুদের হার স্থির করে, তার উপরে চটেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। হাজার হোক ব্যবসায়ী, সুদের হার বাড়লে বিরক্ত হবেনই! ও দিকে, আমেরিকার ফেডারাল রিজ়ার্ভ নিজেদের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার পরের দিনই ব্যাঙ্ক অব জাপানও সুদের হার বাড়ানোর কথা জানাল, আমেরিকার বৃদ্ধির সমপরিমাণ। যে দেশে সুদের হার বাড়ছে, সে দেশে যাঁরা টাকা জমান তাঁদের সুবিধা, যাঁরা ঋণ করেন তাঁদের অসুবিধা। সবচেয়ে বেশি ঋণ করতে হয় ব্যবসায়ীদেরই, নতুন লগ্নির জন্য। ফলে, সুদ বাড়লে লগ্নি কমে। কিন্তু, আমেরিকার মতো দেশে সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গোটা বিশ্বেই প্রভাব ফেলে, ভারতেও। এখন লগ্নির বাজার এমনিতেই টলমল। এর মধ্যে যদি আমেরিকায় সরকারের ঘরেই টাকা জমা রেখে ডলারের অঙ্কে চলনসই সুদ মেলে, অনেক লগ্নিকারীই ভারতের মতো অনিশ্চিত বাজারে লগ্নি এড়িয়ে যেতে চাইবেন। তাতে ভারতের বাজারে কী ঘটবে, তা অন্য গল্প।
আত্ম-পরিচয়
অস্ট্রেলিয়ায় ২০২৬-এর জনগণনায় প্রথমবারের মতো দেশের মানুষের যৌন ও লিঙ্গ-পরিচয় সম্পর্কিত প্রশ্ন রাখা হয়েছে ফর্মে। পরিবারের ষোলো বছর বা তার বেশি বয়সি সদস্যরা চাইলে জানাতে পারবেন তাঁদের যৌন পছন্দ কী, বা তাঁদের জন্মকালীন ও বর্তমান লিঙ্গপরিচয়ের ভিন্নতা আছে কি না। লিঙ্গপরিচয়ের ক্ষেত্রে যেমন পুরুষ, নারী, নন-বাইনারি, ‘উত্তর দিতে চাই না’ বা ‘অন্য কিছু’ মত দেওয়ার জায়গা থাকছে, তেমনই যৌন পরিচয়ের ক্ষেত্রে রয়েছে বিষমকামী, সমকামী পুরুষ/নারী, উভকামী, ‘উত্তর দিতে চাই না’, এমনকি ‘জানি না’ও। তবে এই সবই, এবং ধর্ম সংক্রান্ত প্রশ্নও, সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। লেবার পার্টি সরকার ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ক্ষমতায় এলে লিঙ্গ ও যৌন পরিচিতি বিষয়ক প্রশ্ন জনগণনায় রাখা হবে, তাই বাস্তবায়িত এ বার।
মাটি ছেড়ে
মহাকাশেও সামরিক ক্ষমতা প্রদর্শনের খেলায় মেতেছে শক্তিধর রাষ্ট্রগুলি। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক পরামর্শদাতা বলেছেন, আমেরিকার সামরিক বাহিনীর শুধু পৃথিবীর কক্ষপথেই নয়, চাঁদের আশপাশেও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। বিশ্ব রাজনীতি ও সামরিক মহলে আলোড়ন উঠেছে এই মন্তব্যে। কিছু দিন আগেই আমেরিকা ঘোষণা করে, মহাকাশে সুরক্ষামূলক সামরিক প্রযুক্তি মোতায়েন করেছে তারা। আসলে, চিন ও রাশিয়ার মতো প্রতিপক্ষ দেশের মহাকাশ-সক্ষমতা ও কৃত্রিম উপগ্রহ-বিধ্বংসী প্রযুক্তির মোকাবিলা করতেই ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ। আশঙ্কা, চাঁদের খনিজ সম্পদ নিয়ন্ত্রণ ও ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখার এই লড়াই এ বার মহাকাশেও ছড়াবে।
বই পড়লে
অনলাইনে অগভীরতার হট্টমেলায় নিরুদ্দেশ হচ্ছে বোধবুদ্ধি। পোশাকি নাম ‘ব্রেন রট’। পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে মগজের পুষ্টি বাড়াতে অভিনব উদ্যোগ করেছে সিঙ্গাপুর। নাগরিকেরা সরকারি ওয়েবসাইটে কত ক্ষণ পড়ছেন তার নথিভুক্তি অনুযায়ী কিছুটা করে অর্থ পাবেন। অন্তত ১৫ মিনিট পড়লে ২০টি ভার্চুয়াল কয়েন জমবে, ১,০০০ কয়েন হলে মিলবে ১ সিঙ্গাপুর ডলার। ৫০ দিন লাগবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে, কারণ দিনে একটি সেশনই নথিভুক্ত করা যাবে। অর্থের অঙ্ক হয়তো লোভনীয় নয়, তবে পড়ার অভ্যাস ফেরানোই যখন মূল লক্ষ্য, তখন ছোট্ট পিঠ-চাপড়ানিও মন্দ নয়। মানুষ যখন কোনও রকম পুরস্কারের টোপ ছাড়াই, শুধু পড়ার আকর্ষণেই আবার স্ক্রিন ফেলে বইয়ের পাতায় ফিরবেন, সেটাই সার্থকতা।
ঘুমিয়ে আয়
ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যদি রোজগার করা যেত! জাপানের এক তোশক নির্মাতা সংস্থা এমন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে, যেখানে ৯০ মিনিট ঘুমিয়ে বিজয়ী পেতে পারেন ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা। প্রতিযোগীদের নজরে রাখবে স্লিপ ট্র্যাকিং যন্ত্র, মাপবে ঘুমের গভীরতা, স্থায়িত্ব, ঘুমিয়ে পড়ার দ্রুততা। কারচুপি চলবে না: আগের রাত জেগে থাকা যাবে না, ঘুমের ওষুধ বারণ। প্রতিযোগিতার সময় হঠাৎ বিঘ্নও ঘটানো হবে, যাতে বোঝা যায় অপ্রত্যাশিত বিপত্তিতেও প্রতিযোগী ঘুমোতে পারেন কি না। উদ্যোক্তাদের দাবি, পুরস্কার ছুতো, উদ্দেশ্য ঘুমের ঘাটতি নিয়ে মানুষকে সচেতন করা।