স্বাতী ভট্টাচার্যের ‘গাহিতে পারি না গান’ (১২-৮) প্রবন্ধ প্রসঙ্গে কিছু কথা। যে অসরকারি সংস্থাগুলি অবিরাম কাজ করে চলেছে অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসাব না কষে, নাগরিক সমাজের উন্নতিকল্পে, অসহায়দের পাশে থেকে স্বাধীন ভাবে, কখনও বা পিছিয়ে পড়া শিশুদের শিক্ষার ভার নিজেদের কাঁধে নিয়ে আলোর দিশা দেখাচ্ছে, তাদের উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ চাপানোর চেষ্টা দুর্ভাগ্যজনক। নারী-পাচার বা প্রান্তিক শ্রেণির মহিলাদের স্বনির্ভর করার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, স্বাস্থ্য সচেতনতা শিবির করে বিনামূল্যে ডাক্তারি পরামর্শ, স্বাস্থ্যপরীক্ষার ব্যবস্থা করা, পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ, জলাশয় বুজিয়ে বহুতল নির্মাণের বিরুদ্ধে লড়াই চালানো— এই সব জনহিতকর কার্যাবলির জন্য যদি বিদেশি অনুদান সংগৃহীত হয়, তা হলে সেটি অপরাধযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে কেন?
স্বাধীনতা লাভের আশি বছর— আমাদের কাছে খবর বটে। কিন্তু, কী পেলাম, কতটা স্বার্থত্যাগ করলাম, সে বিষয়ে নীরব থাকাই শ্রেয়। বরং সমাজসেবার ক্ষেত্রে যাঁরা নিঃস্বার্থ ভাবে দারিদ্র, অসাম্য দূরীকরণে কাজ করে চলেছেন, সরকারি কাজের ত্রুটিগুলো দেখিয়ে দিচ্ছেন, জন-সমর্থন পাচ্ছেন, তাঁদের ভয় পাচ্ছে সরকার।
ভারতের দারিদ্র, অশিক্ষার হার, অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানহীন জনগণের প্রকৃত চিত্র বা বেকারের সংখ্যা কোনও দিন কি সম্মুখে আসবে? কৃষক ফসলের দাম না পেয়ে জীবন শেষ করে দেবেন। আর ঝাঁ-চকচকে শপিং মলে জনগণ ছুটবে পাড়ার মুদির দোকান বা রাস্তার ধারের বাজারকে উপেক্ষা করে। সরকারি সিদ্ধান্তে এই যে দলে দলে মানুষ কর্মহীন হচ্ছেন, তাঁদের নিয়ে কাজ করা অসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিই কোপে পড়ে। সরকারি রোষানলে পুড়ে খাক হয়ে যায় আত্মানুসন্ধান। সৃষ্টি বাধাপ্রাপ্ত হয়। অধিকার অর্জনের লড়াই যদি অপরাধ হয়, তবে ‘স্বাধীনতা-হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে...’ উচ্চারণও নিরর্থক।
ধ্রুবজ্যোতি বাগচী
কলকাতা-১২৫