নয়াদিল্লি, ১৯ সেপ্টেম্বর: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, রাজ্যের এসআইআর-এ তথ্যগত অসঙ্গতির জন্য বিচারাধীন ভোটারদের মধ্যে থেকে যে ২৭ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছিল, তাঁদের মধ্যে মাত্র ৭ লক্ষ ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশন হলফনামা দিয়ে জানাল, ওই ২৭ লক্ষের মধ্যে ২২ লক্ষ ২১ হাজার জন ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। বাকি ১৬ লক্ষ ১০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে নাম বাদ দেওয়ার জন্য। কমিশনই আরও নাম বাদ দিতে ট্রাইবুনালে এত আবেদন করেছে।
সুপ্রিম কোর্টে ডেরেক ও’ব্রায়েনের দায়ের করা মামলায় হলফনামা দিয়ে কমিশন জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত এসআইআর আপিল ট্রাইবুনালে প্রায় ৩৮ লক্ষ ৩১ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লক্ষ ২২ হাজার আবেদনের ফয়সালা হয়েছে। ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রেই বাদ যাওয়া নাম ভোটার তালিকায় যোগ করার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইবুনাল। ট্রাইবুনালে যে ১ লক্ষ ২২ হাজার মানুষের আর্জির ফয়সালা হয়েছে, তার মধ্যে ১ লক্ষ ১১ হাজারকে তালিকায় ফেরানোর নির্দেশ হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এ নির্বাচন কমিশন ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারকে ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রেখে দিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৩৩ লক্ষ মানুষকে সুপ্রিম কোর্টের নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরাই ভোটার তালিকায় ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। বাকি ২৭ লক্ষের আপিলের জন্য সুপ্রিম কোর্ট ট্রাইবুনাল গঠন করে। গত ১ অগস্ট মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, বাদ পড়া ২৭ লক্ষের মধ্যে মাত্র ৭ লক্ষ মানুষ ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। বাকিরা নিজেদের ভোটার হিসেবে দাবি করেননি। তাঁরা নিজেদের নাগরিক হিসেবে দাবি করবেন কি না, সেটা জনগণনার সময়ে জানা যাবে।
সুপ্রিম কোর্টে মামলাকারী প্রদেশ কংগ্রেসের এসআইআর কমিটির চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ বসু বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য বলছে, বাদ যাওয়া ২৭.১৬ লক্ষের মধ্যে ২২.২১ লক্ষ তাঁদের নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আপিল করেছেন। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্ধৃত ৭ লক্ষ সংখ্যাটি ভুল। এত সংবেদনশীল বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া উচিত। বিশেষত তা যেখানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। কেউ ট্রাইবুনালে আপিল না করলেও বে-নাগরিক হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া যায় না।’’
কমিশন কিসের ভিত্তিতে ৬০ লক্ষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে চেয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, ৩৩ লক্ষকে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরাই ভোটার তালিকায় ফিরিয়েছেন। এখন ট্রাইবুনালও ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রে ভোটারদের নাম যোগ করার রায় দিচ্ছে। প্রসেনজিতের বক্তব্য, ‘‘কমিশন যে অন্যায় ভাবে মানুষদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছিল, তা তাদেরই হলফনামা থেকে বোঝা যাচ্ছে। কমিশনের তথ্য
শুভেন্দু অধিকারীর দাবির বিপরীত কথা বলছে।’’
কমিশন সূত্রের যুক্তি, ৩৩ লক্ষ নাম বিচারবিভাগীয় অধিকারিকরা ভোটার তালিকায় ফেরানোর নির্দেশ দিলেও সব কমিশন মানছে না, ওই ৩৩ লক্ষের মধ্যে ১৬ লক্ষ ১০ হাজার নাম বাদ দিতে ট্রাইবুনালে গিয়েছে। তবে কমিশন নাম যোগের আবেদনের সংখ্যা (২২ লক্ষ ২১ হাজার) জানানোয় মামলাকারীরা মনে করছেন, মঙ্গলবারের শুনানিতে, এঁদের আবেদন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শোনার নির্দেশ হতে পারে। প্রসেনজিৎ রাজ্যের প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্রের জন্য একটি করে ট্রাইবুনাল গঠনের আবেদন করেন। কমিশন সেই প্রস্তাবে কার্যত সায় দিয়েছে।