রাশিয়ার তেল কিনলে ভারত, চিনের মতো দেশগুলির উপরে ১০০% শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব আমেরিকার সেনেট এবং হাউসে পাশ হয়েছিল আগেই। এ বার সেই বিলে সই করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে তা আইনে পরিণত হওয়ায় শুল্ক বসানোয় বাধা রইল না তাঁর প্রশাসনের সামনে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, রুশ তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা হওয়ায় এতে চাপে পড়বে ভারত। এ দেশের পণ্যে চড়া শুল্ক বসলে, তা অর্থনীতির বহু হিসাব ওলটপালট করে দিতে পারে। বিশেষত যখন বিশ্ব বাজারে তেলের চড়া দাম এবং দেশের বাজারে অত্যাবশ্যক পণ্যের দর বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তা বাড়ছে। এর ফলে দু’দেশের বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা থমকাতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
বিলটির বিরোধিতা করে এক্স-এ শনিবার কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশের বার্তা, ‘‘উৎপীড়ককে জবাব দেওয়ার একটাই উপায়, কড়া হাতে তার মোকাবিলা করা।’’ রফতানিকারীদের সংগঠন ফিয়োর প্রেসিডেন্ট এসসি রালহানের বক্তব্য, ‘‘আমেরিকা সত্যিই এত চড়া হারে শুল্ক চাপালে সে দেশে রফতানি বন্ধ করা ছাড়া উপায় নেই। কারণ, কারও পক্ষে এত চড়া শুল্ক দিয়ে পণ্য পাঠানো সম্ভব নয়।’’
বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহের যদিও দাবি, কোনও বাইরের চাপে মাথা নত করবে না ভারত। বরং দেশের মানুষের চাহিদা এবং তাঁদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অনেকে মনে করাচ্ছেন, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিচ্ছে মোদী সরকার। এই লক্ষ্যে সেপ্টেম্বরের শেষেই সে দেশ সফরে জি২০ বৈঠকের ফাঁকে তাদের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের। এই পরিস্থিতিতে নতুন শুল্কের খাঁড়া তাতে ধাক্কা দিতে পারে। তবে পুরো বিষয়টিই কত হারে শুল্ক চাপে বা আদৌ চাপে কি না, তার উপরে নির্ভর করবে বলে জানাচ্ছে তারা। আপাতত ট্রাম্পের সেই সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে সব মহল।