টেস্টে রাহুল-গিলে আস্থা অশ্বিনের, নজরে সুথার
ইন্দ্রজিৎ সেনগুপ্ত
নিউ জ়িল্যান্ডের মাটিতে ভারতীয় টেস্ট দলের মরণ-বাঁচন লড়াই। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার দৌড়ে থাকতে গেলে নিউ জ়িল্যান্ড থেকে হেরে আসলে চলবে না। কঠিন পরিবেশে অন্তত সিরিজ় ড্র করতে হবে শুভমন গিলদের। প্রাক্তন ভারতীয় অফস্পিনার আর. অশ্বিন মনে করেন, সিরিজ় ড্র করে আসাই বিরাট প্রাপ্তি হবে ভারতের। পাশাপাশি এও বলেন, টেস্টে কে এল রাহুল ও শুভমন গিলই বড় ভরসা হয়ে উঠবেন ভারতের। তাঁদের ছন্দ ঠিক করে দেবে
সিরিজ়ের ভাগ্য।
১৯ নভেম্বর থেকে ওয়েলিংটনের বেসিন রিজ়োর্ভে প্রথম টেস্টে ব্যাটসম্যানদের বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলে মনে করছেন অশ্বিন। ফলে রাহুল ও গিলকে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। সোনি স্পোর্টস নেটওয়ার্ক আয়োজিত ভার্চুয়াল গ্রুপ কলে অশ্বিন বলছিলেন, ‘‘নিউ জ়িল্যান্ডের পরিবেশে রান করতে হবে। কোন ব্যাটসম্যান ভাল খেলবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে এখনও পর্যন্ত যা দেখেছি, তাতে কে এল রাহুল এবং শুভমন গিলকেই এগিয়ে রাখব। আমার মনে হয়, এই সিরিজ়ে অনেক কিছু নির্ভর করবে ওদের ছন্দের উপরে। ওদের অভিজ্ঞতার উপরে অনেক বেশি নির্ভর করবে ভারতের ব্যাটিং বিভাগ।’’
রাহুল ও গিলের ছন্দে আস্থা আছে অশ্বিনের। ইংল্যান্ডে ৭০০-র বেশি রান করেছিলেন শুভমন। অন্য দিকে রাহুল নতুন বলের ধার কমিয়ে দিচ্ছিলেন। ভারতীয় ব্যাটিং বিভাগের তাঁরাই যে মূল শক্তি তা বলতে দ্বিধা নেই অশ্বিনের। বলছিলেন, ‘‘অন্যদের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছি না। তবে রাহুল ও শুভমন যে অভিজ্ঞতা, ছন্দ এবং দক্ষতা নিয়ে খেলছে, তাতে ওদের উপরেই বাজি ধরব। ওরা ভাল খেলতে পারলে ভারতের সিরিজ় জয়ের সম্ভাবনা আরও বাড়বে।’’
একদিনের ক্রিকেটে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা ও গিলের অভিজ্ঞতা ভারতকে সাহায্য করবে বলে মনে করেন অশ্বিন। তাঁর কথায়, ‘‘বিরাট ও রোহিতের নিউ জ়িল্যান্ডে সাদা বলের ক্রিকেটে যথেষ্ট রান আছে। দল ওদের অভিজ্ঞতার উপরে নির্ভর করতে পারে। শুভমনও ভাল খেলছে। আশা করছি, সাদা বলের ক্রিকেটেও ছন্দ ধরে রাখবে ও।’’ ইডেন পার্ক ও হ্যামিল্টনের ছোট বাউন্ডারিতে টি-টোয়েন্টিতে বড় রান উঠতে পারে বলেও মনে করছেন ভারতের প্রাক্তন অফস্পিনার। তবে একদিনের ক্রিকেটে বোলাররা সাহায্য পেলে সিরিজ় আরও আকর্ষণীয় হবে। বলছিলেন, ‘‘একতরফা ম্যাচ দেখতে ভাল লাগে না। অন্তত ওয়ান ডে। বোলাররা সাহায্য পেলে খেলার মান আরও
ভাল হবে।’’
প্রথম টেস্টে বেসিন রিজ়ার্ভে স্পিনারদের জন্যও সাহায্য থাকতে পারে বলে মনে করেন অশ্বিন। বলছিলেন, “আগের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, বেসিন রিজ়ার্ভে গ্লেন ফিলিপস উইকেট পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জ়িল্যান্ডের মধ্যে শেষ টেস্টেও নেথান লায়ন ভাল বল করেছিল। আমিও যখন ওখানে বল করেছি, তখন পিচে যথেষ্ট বাউন্স পেয়েছি। ভাল স্পিনার সাহায্য পাবে। তবে সব সময় আক্রমণাত্মক বোলিং করার প্রয়োজন নেই। এক প্রান্ত থেকে রান আটকানোর কাজ করে যাক। উইকেট আসবেই।’’
ভারতীয় স্পিনারদের মধ্যে মানব সুথারকে দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন অশ্বিন। বলছিলেন, ‘‘ও বল ঘোরাতে পারে। ও পিচ থেকে বাউন্স আদায় করতে পারবে। তবে দলে সুযোগ পাবে কি না জানি না। একমাত্র স্পিনার হিসেবে রবীন্দ্র জাডেজাকে খেলানো হতে পারে। কারণ, ও ব্যাট করতে পারে। মানবও খারাপ ব্যাট করে না। এ বার দেখা যাক।’’
কুলদীপ যাদবের সুযোগ না পাওয়া নিয়েও ক্ষুব্ধ অশ্বিন। বলছিলেন, “কুলদীপকে এই ম্যানেজমেন্টের অধীনে আর আগের মতো প্রথম পছন্দের স্পিনার হিসেবে দেখা হচ্ছে না। এটা দুর্ভাগ্যজনক। নিউ জ়িল্যান্ডের পিচে কুলদীপ বল ঘোরাতে পারবে। বাউন্স আদায় করে নেবে। ওকে সুযোগ দেওয়া উচিত।’’
অশ্বিন যদিও টি-টোয়েন্টিতে কুলদীপের খেলার সম্ভাবনা দেখছেন না। সি ভি বরুণ ফিরছেন। তবে এক দিনের ক্রিকেটে কুলদীপকে প্রথম একাদশে দেখতে চান ভারতের প্রাক্তন তারকা অফস্পিনার।
বিরাট ও রোহিতের নিউ জ়িল্যান্ডে সাদা বলের ক্রিকেটে যথেষ্ট রান আছে। দল ওদের অভিজ্ঞতার উপরে নির্ভর করতে পারে।
আর. অশ্বিন