Save শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি as your preferred edition?
Unsave শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি as your preferred edition?
শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি
  • Change Page
  • Change Date
  • Change Edition
  • Back to Online Edition

Anandabazar e-paper 18th Oct 2026

  • Change Edition
  • Change Date
  • Change Page
Choose Edition
  • কলকাতা
  • বর্ধমান
  • আসানসোল দুর্গাপুর
  • পুরুলিয়া বাঁকুড়া
  • বীরভূম
  • নদিয়া
  • মুর্শিদাবাদ
  • উত্তর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা
  • হাওড়া, হুগলি
  • শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি
  • উত্তরবঙ্গের উত্তরে
  • পশ্চিম মেদিনীপুর-ঝাড়গ্রাম
  • পূর্ব মেদিনীপুর
  • উত্তরবঙ্গের দক্ষিণে
Choose Page
  • page-1.html
    Page 1
  • page-2.html
    Page 2
  • page-3.html
    Page 3
  • page-4.html
    Page 4
  • page-5.html
    Page 5
  • page-6.html
    Page 6
  • page-7.html
    Page 7
  • page-8.html
    Page 8
  • page-9.html
    Page 9
  • page-10.html
    Page 10
  • page-11.html
    Page 11
  • page-12.html
    Page 12
  • page-13.html
    Page 13
  • page-14.html
    Page 14
  • page-15.html
    Page 15
  • page-16.html
    Page 16
  • page-17.html
    Page 17
  • page-18.html
    Page 18
  • page-19.html
    Page 19
  • page-20.html
    Page 20
  • page-21.html
    Page 21
  • page-22.html
    Page 22
  • page-23.html
    Page 23
  • page-24.html
    Page 24
Change Date
Select a date
  • Confirm
  • প্রথম পাতা
  • অবকাশ
  • রাজ্য
  • সম্পাদকের পাতা
  • রাজ্য/দেশ
  • দেশ/বিদেশ
  • দেশ/বিদেশ/ব্যবসা
  • শিলিগুড়ি/জলপাইগুড়ি
  • উত্তরবঙ্গ
  • খেলা
  • ইত্যাদি
  • রবিবাসরীয়
  • প্রথম পাতা
  • অবকাশ
  • রাজ্য
  • সম্পাদকের পাতা
  • রাজ্য/দেশ
  • দেশ/বিদেশ
  • দেশ/বিদেশ/ব্যবসা
শিলিগুড়ি/জলপাইগুড়ি উত্তরবঙ্গ খেলা ইত্যাদি রবিবাসরীয়
Back To
সম্পূর্ণ পাতা
শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি Page 21
Sunday, 18 Oct, 2026

Share Article

facebook
X
Whatsapp

ঢাক

স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

ঝামেলাটা লেগেছিল ঢাক বাজানো নিয়ে। দৃশু গঙ্গার ওপারের পদ্মদিঘি থেকে সে বার বারো জন ঢাকি নিয়ে এসেছিল। সে ইয়াব্বড়-বড় তাদের ঢাক। তাতে নীল ঢাকনা, সোনালি ঝালর। এক পাশে কাঠবিড়ালীর লেজের মতো উঠে থাকা সাদা পালক! দৃশুদের ক্লাব থেকে ঢাকিদেরও সুন্দর পোশাক দিয়েছিল সে বার। পুজোর আলোয় সব ঝলমল করছিল।

পুজো প্যান্ডেলের পাশে নাটকের স্টেজ বাঁধা হয়েছিল। তার উপর লাল কার্পেট মুড়ে ঢাকিদের দাঁড় করানো হয়েছিল। আর তারা এক সঙ্গে ঢাক বাজাচ্ছিল। সেই সমবেত ঢাকের আওয়াজ যেন ওদের মোহনপুর ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ছিল আরও দূর-দূরান্তে।

আরে বাবা, রূপাঞ্জলি সঙ্ঘের পঁচাত্তরতম বর্ষের পুজো বলে কথা! জমিয়ে ঢাক বাজবে না? ঢাক না হলে কি পুজো জমে?

দৃশু স্টেজের এক পাশে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে ঢাক বাজানো দেখছিল। মানে ঢাকের বাজনা শোনার কথা, কিন্তু ঢাকিদাদারা এমন ঘুরে ঘুরে নেচে
নেচে ঢাক বাজাচ্ছিল যে, সেটা একটা দেখার মতো দৃশ্যও ছিল।

পঁচাত্তর বছর ধরে একটা পুজো চলছে, চাট্টিখানি কথা নাকি? তাই রপাঞ্জলি সঙ্ঘের সবাই কোমর বেঁধে নেমেছিল পুজোটাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। প্যান্ডেলের শিল্পী আনা হয়েছিল কলকাতা থেকে। লাইটিং আনা হয়েছিল চন্দননগর থেকে। তা ছাড়া বিখ্যাত গায়কদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল অষ্টমী ও নবমীতে অনুষ্ঠানের জন্য। সঙ্গে রোজ দুপুরে পাত পেড়ে খাওয়াদাওয়া। সব মিলিয়ে সে এক এলাহি ব্যাপার!

দৃশুর বয়স তখন সবে তেইশ। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে একটা বিদেশি পেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিতে চাকরি পেয়েছে সবে। অফিসে কাজের চাপ বেশ। কড়াকড়িও খুব। কিন্তু তার মধ্যেও ক্লাব থেকে ওকে দায়িত্ব দিয়েছিল ঢাকি ঠিক করার। তাই কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও দৃশু অনেক খোঁজখবর করে ঢাকি নিয়ে এসেছিল গঙ্গার ওপারের পদ্মদিঘি থেকে।

জলে দৃশুর চিরকাল ভয়। ভাদ্রের টুপুটুপু হুগলি নদী, মানে যাকে সবাই গঙ্গাই বলে, দেখলে ওর বুকের মধ্যেটা কাঁপে। খালি মনে পড়ে ছোটবেলায় ওর বাবার এই গঙ্গাতেই ডুবে মারা যাওয়ার সেই দৃশ্য! তাই কোনও দিন সাহস করে জলে নামা হয়নি দৃশুর। সাঁতার শেখা হয়নি। তাও দায়িত্ব পালনের জন্য ও নৌকো করে সেই কানায়-কানায় ভর্তি গঙ্গা পেরিয়ে গিয়েছিল ঢাকিদের বায়না করতে। নৌকোয়, সবার মধ্যে বসেও ভয়ে বুক কাঁপছিল ওর। খালি মনে হচ্ছিল, যদি নৌকো উল্টে যায়, তা হলে কী হবে? পাশে বসে থাকা বিলুকে সেটা বলেওছিল ও।

বিলু ওর ছোটবেলার বন্ধু। এই মোহনপুরেই ওদের বড় ইলেকট্রনিক্সের দোকান। বিলু সেখানেই বসে। বিলু সব ব্যাপারেই খুব ইজ়ি থাকে। সব কিছুতেই বলে, “ও কোনও ব্যাপার নয়।”

এইচ এস-এ অঙ্কে ব্যাক পেয়েছিল বিলু। রেজ়াল্ট দেখে ফেরার পথে তাও দোয়ারির দোকানে দাঁড়িয়ে নির্বিকার ভাবে জিলিপি খাচ্ছিল ও।

দারুণ রেজ়াল্ট করেও এ বার কী নিয়ে পড়বে ভেবে পাগল হচ্ছিল দৃশু। ও সেই নির্বিকার বিলুকে দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিল, “কী রে, তুই এই রেজ়াল্ট করেও এ ভাবে জিলিপি খাচ্ছিস?”

বিলু বলেছিল, “কেন? রেজ়াল্টের সঙ্গে জিলিপির কী সম্পর্ক?”

“বাড়িতে বকবে না তোকে?” দৃশু জিজ্ঞেস করেছিল ওকে।

“হ্যাঁ, বাবা ক্যালাবে বটে,” বিলু নির্বিকার ভাবে বলেছিল, “কিন্তু ও কোনও ব্যাপার নয়। লাইফে বেঁচে থাকতে গেলে অমন একটু ক্যালানি-ট্যালানি খেতে হয়।”

আর এক বার চম্পা নামে একটা মেয়েকে ভাল লেগেছিল বিলুর। তাকে জন্মদিনে দামি ফোন দেবে বলে নিজের মায়ের একটা সোনার চুড়ি নিয়ে স্যাঁকরার কাছে বেচে দিয়েছিল ও। সেই স্যাঁকরা বিলুদের পরিচিত। ব্যস! সে বিলুর বাবাকে বলে দিয়েছিল সব।

বিলুর বাবা রাগে পাগল হয়ে গিয়ে দোকানের সামনের রাস্তাতেই জুতো খুলে বিলুকে চোরের মার মেরেছিল। লোকজন জমে গিয়েছিল চার দিকে। সবাই ভেবেছিল, পকেটমার ধরা পড়েছে। কয়েক জন এসে বিলুর বাবার প্রয়াসে যোগদান করার চেষ্টাও করেছিল।

মার খাওয়া হতক্লান্ত বিলুকে বিকেলে দেখেছিল দৃশু। দেখেছিল, ব্যাটা বান্টিদার রোলের দোকানে দাঁড়িয়ে এগ-চিকেন রোল খাচ্ছে!

দৃশু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিল, “কী রে বিলু? তুই রোল খাচ্ছিস?”

বিলু অবাক হয়ে বলেছিল, “হ্যাঁ! না হলে কি ইঁদুর মারার বিষ খাব?”

“না মানে, ইয়ে…” দৃশু আমতা আমতা করে বলেছিল, “সবার সামনে এমন মার খেলি সকালে! তাই ভাবলাম…”

“অত ভাবিস না তো!” বিলু খাবার মুখে পুরে চিবোতে চিবোতে বলেছিল, “প্রেম করলে অমন একটু মারধোর খেতে হয়। আমার বাবা তো প্রেম করেনি, তাই জানে না। বাবার তো লাভ ম্যারেজ নয়, অ-লাভজনক বিবাহ। ঘটক লাগিয়ে খুঁজে খুঁজে বড়লোকের শাঁসালো মেয়েকে বিয়ে করেছিল। হেব্বি মোটা পণ নিয়েছিল। প্রেম-ফেম বাবা বোঝে না। তাই কেলিয়েছে আমাকে। বাট আই ডোন্ট মাইন্ড। ও কোনও ব্যাপার নয়।”

এমন বিলুকে নৌকায় বসে দৃশু বলেছিল, “ভরা গঙ্গা। নৌকো যদি উল্টে যায়! কী হবে?”

“কী আর হবে! আমরা পটল তুলব!” বিলু ক্যাজুয়ালি বলেছিল, “ভুতোদাদের আবার অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে হবে ঢাকি খোঁজার!”

“আরে আমরা যে মরে যাব!” দৃশু ভয় নিয়ে তাকিয়েছিল বিলুর দিকে।

বিলু গঙ্গার হাওয়া খেতে খেতে, চোখ অর্ধেক বুজে বলেছিল, “আরে বাবা, বেঁচে থাকতে গেলে মাঝে মাঝে অমন একটু মরেও যেতে হয়। ও কোনও ব্যাপার নয়।”

এমন বাধা পেরিয়ে ঢাকিদের এনেছিল দৃশু। তাই তারা যখন স্টেজের উপর নাচতে নাচতে ঢাক বাজাচ্ছিল, দৃশুর হেব্বি গর্ব হচ্ছিল। যাক, ওকে যে কাজটা দেওয়া হয়েছে সেটা তো করতে পেরেছে!

বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে মা আর দৃশু মামার বাড়িতেই থাকে। সবাই জানে, দৃশু লেখাপড়ায় দারুণ ভাল। কিন্তু বড্ড ভিতু, আর নড়বড়ে। সবাই সামনে ভাল ছেলে বললেও, দৃশু জানে, আড়ালে ওকে সবাই ক্যালানে বলে। তাই কেউ কোনও দায়িত্ব দিতে চায় না।

ক্লাবের সেক্রেটারি ভুতোদা সে বার কেন যে ওকে ঢাকি আনার দায়িত্ব দিয়েছিল, কে জানে! কিন্তু সেটা যে ঠিক ভাবে করতে পেরেছে, তাতেই ও খুব খুশি হয়েছিল। ঢাকিদের ঢাকের আওয়াজ যেন ওর এই বিজয়গাথাই চার দিকে ছড়িয়ে দিচ্ছিল। আর তখনই হয়েছিল গোলমালটা।

“এই বন্ধ করো, বন্ধ করো ঢাক!” একটা তীব্র চিৎকার সমবেত ঢাকের আওয়াজকে পরাস্ত করে সবার কানে পৌঁছে গিয়েছিল। কয়েক সেকেন্ডের জন্য প্যান্ডেলের সামনের ষষ্ঠীর সকালের এলোমেলো ভিড়টা থমকে গিয়েছিল। কে এমন চিৎকার করল! কার গলার জোর এমন! বারো জন ঢাকি পর্যন্ত ঢাক থামিয়ে দিয়েছিল থতমত খেয়ে।

আর দৃশু সেই প্রথম দেখেছিল ঝিনুককে। কোঁকড়া চুল। ছোট্ট টিকোলো নাক। মাখনের মতো গায়ের রং। ছাঁচে তৈরি দেবীমূর্তির মতো মুখ। কিন্তু সম্পূর্ণ প্রসাধনহীন। কাউকে যে এতটা সুন্দর দেখতে হতে পারে, দৃশুর ধারণা ছিল না। মেয়েটা রাগে গোলাপি হয়ে ছিল।

রূপের একটা জোর আছে, একটা ধমক আছে। তার সামনে মানুষ কিছুক্ষণের জন্য হলেও থমকে যায়। তবু, পুজোর ঢাক বন্ধ করতে বলছে, সাহস তো কম নয়!

ভুতোদা দৃশুকে ধাক্কা মেরে সামনে এগিয়ে দিয়েছিল। বলেছিল, “তোর ডিপার্টমেন্ট। সামলা!”

ডিপার্টমেন্ট মানে? দৃশু কি পাবলিক হেলথ-এ চাকরি করে নাকি? এমন একটা মেয়ের সামনে ওকে ঠেলে দিতে ভুতোদার মায়া হল না? সেক্রেটারি হিসেবে ভুতোদারই তো এ-সব ব্যাপার হ্যান্ডেল করা উচিত!

দৃশু ঘাবড়ে গিয়েছে দেখে বিলু পাশ থেকে ওকে আর এক ঠেলা মেরে বলেছিল, “যা না। কথা বল। ভয় পাস না। ও কোনও ব্যাপার নয়।”

ভিতু মানুষকেও কেউ যদি সবার সামনে ‘ভয় পাস না’ বলে, তা হলে তার ইগো হার্ট হয় না, বলুন? দৃশুরও হয়েছিল।

ও মেয়েটির সামনে গিয়ে যথাসম্ভব গম্ভীর গলায় বলেছিল, “আপনি কে?”

“আমি ঝিনুক! ঢাকটা বন্ধ করুন। নয়তো আস্তে বাজান।” ঝাপটা দিয়ে বলেছিল মেয়েটা।

ঢাক আস্তে বাজান! মানে কী? এ তো আস্তে আস্তে চিৎকার করতে বলার মতো ব্যাপার। আরে বাবা, ঢাক কি আর অত রাখঢাক করে বাজানো যায়!

দৃশু বলেছিল, “পুজোতে ঢাক বাজবে না? এ কী কথা বলছেন!”

“বাজালে আস্তে বাজান। আমার দাদু, নাইন্টি টু! খুব অসুস্থ। এ ভাবে ভয়ঙ্কর আওয়াজ হলে মারা যাবে। ঢাক বেশি জরুরি, নাকি মানুষের প্রাণ!”

দৃশু এ দিক-ও দিক তাকিয়ে নিঃশব্দে ক্লাবের সিনিয়রদের সাহায্য চেয়েছিল। কিন্তু ওকে বেকায়দায় দেখার লোভ হয়তো কেউ সামলাতে পারছিল না।

“কী হল, চুপ করে আছেন কেন, উত্তর দিন!” ঝিনুক ঝাঁঝের সঙ্গে বলেছিল।

দৃশু ঘাবড়ে গিয়ে, কী বলবে বুঝতে না পেরে, বিলুকেই কোট করে ফেলেছিল। বলে দিয়েছিল, “বেঁচে থাকতে গেলে মাঝে মাঝে অমন একটু মরেও যেতে হয়।”

“কী বললি!” ঝিনুক গোলাপি থেকে লাল হয়ে গিয়েছিল, “মরে যেতে হয়! মাঝে মাঝে মরে যেতে হয়? আজ তোকেই মেরে ফেলব আমি!”

ঝিনুক দৃশুর পাঞ্জাবির বুকের কাছটা খামচে ধরে জোরে টান দিয়েছিল। আর সঙ্গে আরও কত কী যে বলেছিল! এ বার ক্লাবের বড়রা এসে পড়েছিল। আধ ঘণ্টা ধরে ঝামেলা চলেছিল বেশ। এক দিকে ক্লাবের সবাই, অন্য দিকে একা ঝিনুক।

দৃশু মনে মনে নিজের ডিপার্টমেন্ট থেকে পদত্যাগ করে মুগ্ধ হয়ে ঝিনুকের সাহস আর লড়াই দেখছিল। আর ভাবছিল, মেয়ে তো নয়, যেন গলানো লোহা!

পরে ঝিনুকের বাবা, মা, কাকা, কাকিমা এসেছিল। আস্তে আস্তে আবহাওয়া ঠান্ডা হয়েছিল। তার পর সবার সম্মতিক্রমে ঠিক হয়েছিল যে, একটু একটু করে ঢাক বাজবে। তাও একটা। ঝিনুকের দাদুর শরীরের কথা ভেবে রূপাঞ্জলি সঙ্ঘ এ বার কনসিডার করছে!

ঝামেলা মিটে যাওয়ার পরে দৃশু দেখেছিল, ঝিনুক চলে যেতে যেতে ওর দিকে তাকিয়ে চোখ দিয়ে বজ্র হেনেছিল একটা। কিন্তু আমাদের কিউপিড সাহেব সেটাকে কী ভাবে যে বাণে পরিণত করেছিলেন কে জানে! আর সেই প্রচণ্ড ঝগড়ার পরে জীবনে প্রথম বার দৃশ্যমান বন্দ্যোপাধ্যায় প্রেমে পড়েছিল। লাভ অ্যাট ফার্স্ট ফাইট!

ওর ঢাকের আয়োজন মাঠে মারা গেলেও দৃশুর কিন্তু খারাপ লাগেনি। ওর চোখের সামনে কেবলই ভাসছিল, একটা কোঁকড়া চুলের মেয়ে একা হাতে কুড়ি জন মানুষের সঙ্গে লড়াই করছে! ওর মনে হয়েছিল, পুজোর দিনে এর চেয়ে উপযুক্ত দৃশ্য আর কিছু হতে পারে না।

ঝিনুক মুখার্জি। সেকেন্ড ইয়ার, ইংলিশ অনার্স। পার্ক স্ট্রিটের নামী কলেজে পড়ে। মোহনপুর থেকে কলকাতা, ট্রেনে করে কুড়ি মিনিট। তাই ডেলি প্যাসেঞ্জারি করতে অসুবিধে হয় না। মেয়েটা দারুণ গান করে। মাউথ অর্গান বাজায়। হাতের আঁকাও খুব ভাল।

সে বারের কালীপুজোয় ও-ই তো প্যান্ডেলের সামনের বড় আলপনাটা এঁকেছিল। অত ঝামেলার পরেও রূপাঞ্জলি সঙ্ঘে ঝিনুকের যোগদানে কেউ বাধা দেয়নি। বরং কালীপুজো আসতে আসতে দৃশু দেখেছিল, ঝিনুক ওদের ক্লাবের এক জন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছে।

এত দিন কোথায় ছিল মেয়েটা? আগে তো এখানে দেখেনি!

উত্তরটা ওকে খুঁজে এনে দিয়েছিল বিলু। বলেছিল, “পাড়ায় ওই হালদারদের তিনতলা বাড়িটা সবে কিনেছে ওরা। বাপ-কাকা বিশাল বড় সরকারি কন্ট্রাক্টর। টাকার পাহাড়ে বসে রোজ কফি খায় আর সানসেট দেখে। পুজোয় কুড়ি হাজার টাকা দিয়েছে পরে। হেব্বি গাছে নৌকা বেঁধেছিস ভাই!”

“মানে?” দৃশু ঘাবড়ে গিয়েছিল খুব।

বিলু ভুরু কুঁচকে বলেছিল, “ন্যাকা আমার! ডায়াপার পরে! তুই মেয়েটার প্রেমে পড়িসনি? সত্যি করে বল!”

দৃশু কুঁকড়ে মাথা নিচু করে নিয়েছিল। ওর সামনে ভাসছিল একটা ছবি। ওর পাঞ্জাবির বুকের কাছটা খামচে ধরে আছে একটা মেয়ে। কী সুন্দর তার হাতের আঙুলগুলো! কোঁকড়া চুল হাওয়ায় উড়ছিল মেয়েটার। গাল দুটো লাল আভায় জ্বলে উঠেছিল যেন। আর এত কাছ থেকে দৃশু দেখেছিল, মেয়েটার ঠোঁটের উপর একটা ছোট্ট, এক কুচি এলাচদানার মতো বাদামি তিল! আর মেয়েটার গা থেকে কী সুন্দর যে গন্ধ আসছিল! কয়েক মুহূর্তমাত্র, কিন্তু সেটুকুই মনে লেগে ছিল দৃশুর। আর ও ভেবেছিল, কোনও দিনও কি আবার ঝিনুকের কাছে যাওয়া হবে ওর! জানা হবে, ওই ছোট্ট এলাচদানার স্বাদ কেমন!

তার পর এই পাঁচটা বছর দৃশুর যে কী ভাবে কেটেছে, ও-ই জানে। কিন্তু এখনও ও ঝিনুককে বলতে পারেনি ওর মনের কথা। ও শুধু পাড়ায় আর পাড়ার বাইরে দূর থেকে দেখে গিয়েছে ঝিনুককে। ঝিনুক কশ্চিৎ কখনও নিজে থেকে কথা বললে সেই সব কথার উত্তর দিয়েছে মাত্র।

দৃশু জানে, ঝিনুকরা ওদের নাগালের বাইরের মানুষ। তাও বিলুর থেকে ঝিনুকের খবর পায় ও। গত কয়েক বছরে বিলুর সঙ্গে ঝিনুকের খুব বন্ধুত্ব হয়েছে। ঝিনুক ‘বিলুদা’ বলে ডাকে ওকে। রাখি পরায়, ভাইফোঁটা দেয়। কিন্তু তা বলে বিলুর মাধ্যমে দৃশু কখনও ঝিনুকের কাছে পৌঁছতে চায়নি।

বিলুর থেকে কিছু দিন আগে ও শুনেছে যে, ঝিনুকের নাকি বিয়ের সম্বন্ধ হচ্ছে। যার সঙ্গে বিয়ের কথা হচ্ছে, সে নাকি সিঙ্গাপুরে থাকে। তাদেরও নাকি বড় ব্যবসা আছে।

তা হতেই পারে! সারা বছর কত মানুষেরই তো বিয়ে হচ্ছে। কিন্তু ‘তা হতেই পারে’ বললেও খবরটায় দৃশু কষ্ট পেয়েছে খুব। তবে এখন দৃশু বোঝে, বড় হওয়া মানে এমন হাজার হাজার কষ্ট মেনে নেওয়া। বুকের তলায় সে-সব চেপে হাসিমুখে বেঁচে থাকার ভান করে যাওয়া।

তাই ঠিক করেছে, এ-সব নিয়ে কিছু ভাববে না ও। আজ এই পুজোর দিনগুলো, ভান করে নয়, সত্যি-সত্যি ভাল করে কাটানোর চেষ্টা করবে।

এ বারের পুজোটা দেশে কাটানো ওর শেষ পুজো। কারণ সামনের জানুয়ারিতে দৃশু জার্মানি চলে যাচ্ছে। সেখানকার ওয়াসেনবার্গ শহরের একটা বড় রং প্রস্তুতকারক কোম্পানিতে ও বেশ ভাল চাকরি পেয়েছে।

ওকে মা বলছে যে, যাওয়ার আগে যেন বিয়ে করে নেয়। দৃশু হেসেছে শুধু। কাকে বিয়ে করবে ও? সে যে সিঙ্গাপুরে চলে যাচ্ছে সারা জীবনের জন্য!

“কী রে, আজ একদম গঙ্গার পাড়ে এসে দাঁড়িয়েছিস? ভয় লাগছে না?” পাশ থেকে হাফপ্যান্টের উপর গামছা জড়াতে জড়াতে বিলু জিজ্ঞেস করল।

দৃশু হাসল। লাগছে একটু ভয়। কিন্তু আগের মতো অতটা নয়।

আজ দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী। পাড়ার অনেকেই গঙ্গায় স্নান করতে এসেছে। মা দৃশুকে দায়িত্ব দিয়েছে গঙ্গার জল নিয়ে যাওয়ার জন্য।

জল নেওয়া হয়ে গিয়েছে দৃশুর। এখানে নদীর পাড়ে নামার জন্য এখন চওড়া সিঁড়ি আছে। তার কিনারায় বসে দৃশু নিজেই জল ভরেছে। কিন্তু তার পর চলে না গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটু। বয়ে যাওয়া জলের দিকে তাকিয়ে কেমন যেন লাগছে একটা। মনে হচ্ছে, এই নদীকে ভয় পেয়ে এসেছে ও। এই নদীতে ডুবে ওর বাবা মারা গিয়েছে। কিন্তু তাও কোথায় যেন এই নদীকে আর কিছু দিন পরে দেখতে পাবে না বলে কষ্টও হচ্ছে।

বিলু কিছু দিন আগে বিয়ে করেছে। মেয়েটার নাম করবী। ওর ভাষায় লাভ-জনক বিবাহ।

দৃশু ওকে জিজ্ঞেস করেছিল, “কী রে, সেই চম্পার কী হল?”

বিলু বলেছিল, “সে ঝরে গিয়েছে। এখন নতুন ফুলের মরসুম।”

“নতুন ফুল!” দৃশু অবাক হয়েছিল।

“জীবনে এমন কত হয়! ও কোনও ব্যাপার নয়। তোর মতো নাকি? হাফসোল খেয়ে বসে থাকলি! কিছু বললি না!”

আজ করবীও এসেছে বিলুর সঙ্গে। বিলুর জামাপ্যান্ট ধরে ওই ঘাটের সবচেয়ে উপরের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে আছে।

বিলু বলল, “তুই দাঁড়া, আমিও একটু জল ভরে নিয়ে আসি।”

বিলু পাড় থেকে জল না ভরে সটান নেমে গেল নদীতে। ও ভাল সাঁতার জানে। দৃশু জানে, স্নান সেরে, জল নিয়ে একেবারে উঠবে ও।

ঘাটটা বেশ লম্বা। অন্য দিকে ভিড় হলেও এ দিকে একটু ফাঁকা। তাই এই দিকেই দাঁড়িয়ে আছে দৃশু। নদীর ওপার থেকে হাওয়া আসছে বেশ।
তাতে চেপে সাদা গালফোলা মেঘেরাও আসছে। ফুলের পাপড়ির মতো পাখিরা ভাসছে
এলোমেলো হয়ে।

“আরে ধরো ধরো… বুরু যাস না… ধর…”

আচমকা চেনা গলাটা পেয়ে পিছন দিকে ঘুরল দৃশু। আর দেখল, ঘাটের একদম উপরে দাঁড়িয়ে চিৎকার করছে ঝিনুক। ওর সঙ্গে বাবা, মা, কাকু, কাকিমা ছাড়াও আরও কয়েক জন আছে। আর ওদের থেকে বেশ কিছুটা দূরে বুরু নামে বছর চারেকের একটা বাচ্চা খিলখিল করে হাসতে হাসতে, বাঁধানো ঘাটের সিঁড়ি বেয়ে দৌড়ে
নেমে যাচ্ছে জলের দিকে। বাচ্চাটাকে ধরার মতো কেউ নেই।

এখন ভাটার টান চলছে। জল দ্রুত সমুদ্রের দিকে নেমে যাচ্ছে। স্রোত আছে ভালই।

“বুরু দাঁড়া…” ঝিনুক আর ওর বাড়ির লোকেরা ভয় পেয়ে দৌড়ে নামছে এ বার।

কিন্তু বুরুর জলের দিকে নেমে যাওয়ার গতিবেগ যা, তাতে একটু পরেই পদার্থ থেকে শক্তিতে পরিণত হবে। ওই প্রায় জলের কাছে চলে গিয়েছে বাচ্চাটা। পড়ে গেলে একটা ভয়ঙ্কর ব্যাপার হবে! চোখের সামনে আর এক জন ডুবে যাবে?

পুরনো আতঙ্ক যেন গ্রাস করতে এল দৃশুকে। কিন্তু দৃশু তা হতে দিল না। হাতের বোতলটা ফেলে দৌড়ে গেল। বাচ্চাটা জল দেখে শেষ মুহূর্তে ভয় পেয়ে দাঁড়িয়ে পড়ার চেষ্টা করেও পারল না। টলে পড়ে গেল জলে।

দৃশু সাত-পাঁচ না ভেবে নিজেও জলে ঝাঁপাল। আর এক হাতে বাচ্চাটার জামার কলার চেপে ধরে অন্য হাতে পাড়ে লাগানো শিকলটা চেপে ধরল।

বাচ্চাটা চিৎকার করে কাঁদছে। দৃশু নিজেও ভিজে জাব হয়ে গিয়েছে। মোবাইলটাও
পকেট থেকে বার করারও সময় পায়নি। কিন্তু বুরু বেঁচে গিয়েছে।

লোকজন জমা হয়ে গিয়েছে এ বার। বিলুও এসে পড়েছে।

বুরুকে তোলা হয়েছে। বিলুর হাত ধরে দৃশুও উঠে বসেছে ঘাটের সিঁড়িতে। বুকের মধ্যে আড়াই হাজার হাতি দাপাচ্ছে ওর! নাকে মুখে জল ঢুকে কেমন থতমত খেয়ে গিয়েছে যেন। বাচ্চাটার বিপদ দেখে মুহূর্তের জন্য নিজের ভয়টা চলে গিয়েছিল। কিন্তু আবার সেটা ফিরে এসেছে!

ও দেখল, ভিজে বুরুকে কোলে তুলে ঝিনুকের মা পিঠে আলতো চাপড় দিয়ে ওর কান্না থামাচ্ছে। আর ঝিনুক দূর থেকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে
ওর দিকে।

দৃশু নদীর দিকে তাকাল। দেখল, ঘাটের এই কোলাহল থেকে বেশ খানিকটা দূরে, মাঝগঙ্গায় আচমকা একটা শুশুক লাফিয়ে উঠল। তার পর আবার মিলিয়ে গেল জলে।

পরের দিন

পঁচাত্তর বছরে সেই ঢাক বাজানো জমেনি বলে এই আশিতম বছরে আবার এক ডজন ঢাক আনা হয়েছে। এ বারও ইয়াব্বড় সেই ঢাকগুলোয় নীল ঢাকনা, সোনালি ঝালর পরানো হয়েছে। কাঠবিড়ালীর লেজের মতো সাদা পালক উঠে আছে ঢাকের এক মাথায়। ঢাকিরাও সুন্দর পোশাক পরেছে। কিন্তু এখনও ঢাক বাজাচ্ছে না। সন্ধ্যারতি শুরু হবে যখন, তখন এক সঙ্গে ঢাকগুলো বাজবে।

এ বার দৃশু ভলান্টিয়ার। গত কয়েক বছরে রূপাঞ্জলি সঙ্ঘের পুজোর নাম ফেটেছে বেশ। লোকজনের ভিড় বেড়েছে। ভুতোদা ওকে বলেছে, “তুই এ বার অন্তত ভলান্টিয়ারিটা করে দে। আবার কবে আসবি তার তো ঠিক নেই!”

তাই বুকে ব্যাজ ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দৃশু। সামনে দিয়ে মানুষের ঢল আসছে লাইন করে। আর সেই লাইনের মাঝে আজ ঝিনুকও আছে। একা!

ঝিনুককে দেখে গঙ্গার শুশুকটা আবার যেন ফিরে এল দৃশুর পেটে। কিন্তু ও সামলাল নিজেকে। যা হওয়ার নয়, তা ভেবে মাথা খারাপ করার মানে নেই। বরং চোয়াল শক্ত করে, ‘ও কোনও ব্যাপার নয়’ ভেবে নিজেকে ঠিক রাখার চেষ্টা করল দৃশু। তার পর কাঠের পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে রইল।

ঝিনুক পায়ে পায়ে একদম দৃশুর সামনে
চলে এল ক্রমে। তার পর আচমকা মাথা ঘুরে পড়ে গেল মাটিতে!

এই সেরেছে! এ আবার কী! দৃশু কী করবে বুঝতে না পেরে ঝিনুকের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল মাটিতে। আশপাশের লোকজনও ঘিরে
ধরল ওদের।

“সরুন, সরুন, আহা সরুন না!” বলে সবাইকে ধাক্কা মেরে কোথা থেকে যেন এগিয়ে এল বিলু। তার পর দৃশুকে বলল, “চল, গ্রিনরুমে নিয়ে চল।”

দৃশু কী করবে বুঝতে পারল না। চুপ করে বোকার মতো বসে রইল।

“আচ্ছা ক্যাবলা তো! তুলে নিয়ে চল গ্রিনরুমে!” বিলু চিৎকার করল আশপাশের মানুষদের দিকে তাকিয়ে, “আপনারা জায়গা দিন না! সরুন!”

দৃশু পাঁজাকোলা করে ঝিনুককে তুলল। পালকের মতো হালকা!

ও আর বিলু ভিড় কাটিয়ে স্টেজের পিছনের গ্রিনরুমের দিকে নিয়ে গেল ঝিনুককে।

গ্রিনরুম ফাঁকা। সামনে সরু চৌকিতে ঝিনুককে শুইয়ে দিয়ে দৃশু বিলুকে জিজ্ঞেস করল, “মাথা ঘুরে পড়ে গেল কেন রে?”

বিলু বলল, “কে জানে, প্রেগন্যান্ট-ফেগন্যান্ট হবে হয়তো!”

“আমি প্রেগন্যান্ট?” দৃশুকে ঘাবড়ে দিয়ে আচমকা উঠে বসল ঝিনুক।

বিলু হাসল, বলল, “আরে, এমনি বললাম। ও কোনও ব্যাপার নয়। তোরা কথা বল।
আমি আসছি!”

বিলু আর দাঁড়াল না। চলে গেল। আর যেতে যেতে গ্রিনরুমের বাইরের পর্দাটা টেনে দিল।

দৃশু কিচ্ছু বুঝতে পারছে না কী হল। ‘কথা বল’ মানে! এ-সব প্ল্যান করা নাকি?

ও অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “এ বাবা! তু-তুমি অজ্ঞান হওনি?”

“সত্যি-সত্যি অজ্ঞান হলে খুশি হতে?” ঝিনুক আবার কি গোলাপি হচ্ছে?

দৃশু বলল, “না না… ইয়ে মানে… আমি স্যরি…”

“এ ভাবে না হলে তোমার সঙ্গে একা কথা বলা যেত? আমাকে দেখলেই তো পালাও তুমি!” ঝিনুক সরাসরি তাকাল ওর দিকে।

ওরে বাবা, কী চোখ! এ ভাবে কেউ তাকায়! প্রাণহানির আশঙ্কা আছে যে!

দৃশু ঢোঁক গিলল। হাতের তালু ঘেমে গিয়েছে ওর। পেটের মধ্যে আড়াই লক্ষ ফড়িং উড়ছে।

“তোমার জলে খুব ভয়? সাঁতার জানো না? বিলুদা বলছিল। তা হলে কাল জলে ঝাঁপালে কেন?” ঝিনুক দু’পা এগিয়ে এল দৃশুর দিকে।

এক কুচি এলাচ বিপজ্জনক ভাবে কাছে এগিয়ে এসেছে। দৃশু ঢোঁক গিলে মাথা নামিয়ে নিল। উত্তর দিল না।

ঝিনুক আবার জিজ্ঞেস করল, “তুমি নাকি জার্মানি চলে যাচ্ছ! সত্যি?”

দৃশু এ বারও কিছু বলতে পারল না। সেই আশ্চর্য সুগন্ধ অবশ করে দিচ্ছে ওকে।

“কী হল?” ঝাঁঝালো ঝিনুক আচমকা ওর পাঞ্জাবির বুকের কাছটা চেপে ধরল, তার পর আলতো টানে নিজের আরও আছে নিয়ে এসে বলল, “আমাকে তোমার সঙ্গে যেতে বলবে না?”

“আমার সঙ্গে!” দৃশু অবাক হয়ে তাকাল।

ঝিনুক বলল, “কী? বলবে না?”

দৃশু কিছু বলার জন্য মুখ খুলল। কিন্তু তখনই বাইরে ঘণ্টাধ্বনি শোনা গেল, আর এক সঙ্গে বারোটা ঢাক স্বর্গ-মর্ত কাঁপিয়ে গুড়গুড় করে
বেজে উঠল।

দৃশু বলল কিছু একটা। কিন্তু ঢাকের প্রচণ্ড আওয়াজে সেটা শোনা গেল না। কী বলল? ঝিনুককে কী বলল দৃশু?

বড্ড কৌতূহল তো আপনাদের! কে কাকে কী বলল, জেনে কী হবে? ওরা ওদের মতো থাকুক। ইয়ে করুক… মানে, কথা বলুক। চলুন, আমরা বরং ঠাকুর দেখি।

রূপের একটা জোর আছে, একটা ধমক আছে। তার সামনে মানুষ কিছুক্ষণের জন্য হলেও থমকে যায়। তবু, পুজোর ঢাক বন্ধ করতে বলছে, সাহস তো কম নয়!

সম্পূর্ণ পাতা