পুজোর মধ্যে এ বার সিপিএমের বইয়ের স্টল ভাঙতে নামানো হল বুলডোজ়ারও! শেষমেশ যাদবপুরে বইয়ের স্টল ভাঙতে আসা সেই বুলডোজ়ার আপাতত প্রতিরোধ করে ফিরিয়ে দেওয়া গিয়েছে বলেও জানিয়েছেন সিপিএম নেতৃত্ব। পাশাপাশি, সিপিএম, এসইউসি-সহ বাম দলগুলি শনিবারও রাজ্য জুড়ে তাদের বিভিন্ন স্টলে বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে। তবে অভিযোগ নিয়ে ‘পুলিশ বিষয়টি দেখছে’ বলে এ দিনও মন্তব্য করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বাম দলগুলির পাল্টা অভিযোগ, পুলিশকে কাজে লাগিয়েই রাজ্য জুড়ে তাদের স্টলে বাধা
দেওয়া হচ্ছে।
যাদবপুর ৮বি-তে তাদের স্টল খুলে নিতে বললে প্রথমে কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে তীব্র বচসা বাধে সিপিএম নেতৃত্বের। হয়েছে মানব-বন্ধন, জাতীয় সঙ্গীত গাওয়াও। ছিলেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী, রাজ্য কমিটির সদস্য সুদীপ সেনগুপ্ত প্রমুখ। এর কিছু ক্ষণের মধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে স্টল ভাঙতে বুলডোজ়ার নিয়ে আসা হলে উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। সিপিএম নেতৃত্ব জানিয়েছেন, শেষমেশ বামেদের সম্মিলিত প্রতিরোধে বুলডোজ়ার ফিরে যেতে বাধ্য হয়। সুদীপের দাবি, “চার দিন বইয়ের স্টল চলল। এখন আদালত বন্ধ হওয়ার পরে পুলিশ বলছে, কোর্টে যেতে।” সিপিএমের দাবি, স্টলের জন্য অনুমতি চেয়ে আগেই পুলিশকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পুরসভায় কর দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগের
অনুমতিও রয়েছে।
বীরভূমের সিউড়ি, মুর্শিদাবাদের বহরমপুর, ঢাকুরিয়া, হুগলির চুঁচুড়া-সহ নানা জায়গায় পুলিশকে সামনে রেখে কোথাও স্টল বন্ধ করে দেওয়া, কোথাও তা তৈরিতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও সিপিএমের অভিযোগ। এসইউসি-রও অভিযোগ, ঢাকুরিয়া স্টেশন লাগোয়া বাবুবাগানের স্টল ভেঙেছে পুলিশ। হুগলির আরামবাগ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি, নদিয়ার রানাঘাট, কল্যাণী-সহ নানা জায়গাতেই তাদের স্টলে বাধা দিয়েছে পুলিশ, অভিযোগ এসইউসি-র। নানা জায়গাতেই পুলিশের অবশ্য দাবি, উপযুক্ত অনুমতি না-থাকাতেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, “সরকার কোথাও স্টল ভাঙছে, কোথাও সঙ্ঘের লোকজনকে পাঠিয়ে দলীয় দফতরে উৎপাত করছে। শাসানি দিচ্ছে। পুলিশ কোথাও অতিসক্রিয়, কোথাও নিষ্ক্রিয়।” আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য সব বাম দলের এক জোট হয়ে প্রতিরোধের ডাকও দিয়েছেন সেলিম। তবে স্টল ভাঙা নিয়ে পুলিশি ব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের কথা বলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক। যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে তাঁর বক্তব্য, “পুলিশ বিষয়টি দেখছে। মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছি, বিষয়টি দেখতে। আমরা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিশ্বাসী। এটা বহুত্ববাদের মাটি। এই সব ঘটনার সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক নেই। আর যাঁরা বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছেন, তাঁদের এখানে বলার ক্ষমতা নেই। দিল্লিতে গিয়ে তাঁরা মানুষকে খেপিয়ে গণতন্ত্র ধ্বংস করতে চাইছেন।”
এরই মধ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে বামেদের স্টলে হামলার অভিযোগ আরও বেড়েছে এ দিন। কোচবিহারের বক্সিরহাট, বর্ধমান শহর, পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর, হুগলির আরামবাগ, দমদমের নাগেরবাজার, নতুন বাজার-সহ নানা জায়গায় বিজেপি তাদের স্টলে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সিপিএম। একই ভাবে বাগুইআটি, ক্যানিং, সিউড়ি-সহ নানা স্থানে স্টলে ভাঙচুর, হামলার অভিযোগ তুলেছে এসইউসি-ও। ক্যানিং, মালদহের চাঁচল-সহ কয়েকটি জায়গায় সিপিএমের স্টলকে কেন্দ্র করে মারধর ও অশান্তির ঘটনাও ঘটেছে।