ভোরবেলা মুক্তি নেহার,
সন্ধেয় জামিন দীপকের
নিজস্ব সংবাদদাতা
নয়াদিল্লি, ১৭ অক্টোবর: গত রাতের মহানাটকের পর আজ পুলিশি হেফাজত থেকে ভোরে ছাড়া পেলেন আইসা সভানেত্রী নেহা বোরা এবং সন্ধ্যায় ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শর্তসাপেক্ষে দীপকে-কে জামিন দিয়েছে দিল্লির আদালত। পঞ্চাশ হাজার টাকার বন্ডে সই করতে হয়েছে তাঁকে। শান্তিভঙ্গ করবেন না বলে বন্ডে লিখতে হয়েছে। জামিন পাওয়ার পর এ দিন এনসিপি (শরদ)-র মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্ডের বাড়িতে পৌঁছন অভিজিৎ।
শুক্রবার কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে সিজেপি-র ‘লহরা দো তিরঙ্গা’ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে দীপকেকে আটক করা হয়েছিল। নেহা আটক হয়েছিলেন মান্ডি হাউস থেকে মিছিল করে যাওয়ার পথে। তাঁরা আটক হওয়ার পর প্রতিবাদ এবং দেশজোড়া ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কংগ্রেস, ডিএমকে, আপ, বামেরা-সহ বিভিন্ন বিরোধী দল প্রতিবাদে মুখর হয়। আইসা এবং সিজেপি-র দাবি, এই ক্ষোভের মুখে পড়েই দ্রুত তাঁদের ছাড়তে বাধ্য হয়েছে পুলিশ। প্রসঙ্গত দীপকের গ্রেফতারির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর অবিলম্বে মুক্তির আবেদন জানিয়েছিলেন সিজেপি-র আইনি বিষয়ক বিভাগের প্রধান রত্না সিংহ। এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টে রত্না প্রশ্ন তোলেন, শান্তিপূর্ণ জাতীয় প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য নাগরিকদের আহ্বান জানানো কী ভাবে অপরাধ হতে পারে? পাশাপাশি দীপকের মা অনিতা জানান, ছেলের গ্রেফতারির পর থেকে পরিবার অত্যন্ত উদ্বেগের মধ্যে ছিল। দশ দিনেরও কম সময় আগে দীপকের ঠাকুমার মৃত্যু হয়েছে। জামিনের খবর পেয়ে মা স্বস্তি প্রকাশ করেন। তবে ককরোচ জনতা পার্টির অন্য দুই নেতা, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস এখনও তিহাড় জেলে বন্দি। অন্য কয়েদিদের চেয়ে একেবারে পৃথক রয়েছেন তাঁরা, ত্রিসীমানায় কারও ঘেঁষার অনুমতি নেই।
আজ ভোরে ছাড়া পেয়ে দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে একহাত নেন নেহা। বেআইনি ভাবে তাঁকে আটক করা হয় বলে দাবি করেন। নেহার দাবি, সাধারণ নাগরিকদের অপরাধীর মতো আটকে রাখা হচ্ছে। রাতভর হেফাজতে রেখে পরের দিন তাঁদের ছাড়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, পুলিশ দীর্ঘ সময় তাঁকে নিজের পরিচয় ও ঠিকানা জানাতে বললেও আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেয়নি। তাঁর আইনজীবীরা পাঁচ-ছ’ঘণ্টা ধরে তাঁর কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন। নেহা বলেন, “আমাকে মান্ডি হাউস থেকে আটক করা হয়েছিল। ভোর পাঁচটা পর্যন্ত সারা রাত থানায় বসিয়ে রাখা হয়। দেশে দীর্ঘদিন ধরেই এ সব চলছে। কিন্তু এই আন্দোলন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কী ভাবে মানুষকে আটক করা হচ্ছে।” দীপকে-সহ আটক ও গ্রেফতার হওয়া সমস্ত বিক্ষোভকারীর অবিলম্বে মুক্তির দাবিও জানান আইসা-র সভানেত্রী।
অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ গত কালই বলেছেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ থামানো যাবে না। এসআইআর-এর বিরোধিতায় দেশ জুড়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে। কেরলের মানভীয়ম বীথিতে জ্ঞানেশ কুমার এবং এসআইআর-এর বিরুদ্ধে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় যোগ দিয়েছিলেন প্রকাশ। অন্য দিকে, গত জুলাই মাসে যন্তর মন্তর এবং বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হিংসাত্মক ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি আক্রান্ত পুলিশকর্মীদের সুবিধার্থে কমিটি একটি পোর্টালও চালু করেছে। জানানো হয়েছে, এই তদন্ত কমিটি ছররা বন্দুকের ব্যবহার, মহিলা বিক্ষোভকারীদের নিশানা করে হিংসা ও হয়রানি এবং উভয় পক্ষের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও সম্পত্তি ধ্বংসের মতো বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেখবে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে সাক্ষীদের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, চাইলে তাঁদের পরিচয় গোপন রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে পোর্টালটিতে।